শ্রীলঙ্কায় মুসলিম বিরোধী দাঙ্গায় নিহত ১

আগের সংবাদ

বিনিয়োগ বাড়াতে নানা উদ্যোগ, তবুও কাটছে না স্থবিরতা

পরের সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

গা ঢাকা দিয়েছে দালাল জামায়াত নেতা এনাম

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৪, ২০১৯ , ১২:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৪, ২০১৯, ১২:৪৩ অপরাহ্ণ

Avatar

দালালের খপ্পরে পড়ে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ডুবে মারা গেছেন সিলেটের ৭ যুবক। মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েও তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলার পনাইরচক গ্রামের মৃত আবদুল খালিকের পুত্র জামায়াত নেতা এনামুল হক এনাম। তিনি সিলেট নগরীর রাজা ম্যানশনের ৩য় তলার ‘নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ’ এর স্বত্বাধিকারী।
জানা গেছে, শরীফগঞ্জ ইউনিয়ন জামায়াতের এই নেতা আগে হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে দেখা যায় তাকে। মাওলানা হাবিবুর রহমানকে প্রার্থী করতে গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশেও অংশ নেন এনাম। জনশ্রুতি আছে, গত নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন তিনি। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে গতকাল মাওলানা হাবিবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
নগরীর জিন্দাবাজার রাজা ম্যানশনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে মাসিক ৭ হাজার টাকা ভাড়া হিসেবে রাজা ম্যানশনের ৩য় তলায় নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজ নামে ট্রাভেল এজেন্সি খোলেন এনাম। মূলত অবৈধপথে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে লোক পাঠানোই ছিল তার মূল ব্যবসা। সাইফুল নামে এক সহযোগী তাকে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক যুবকদের খোঁজ এনে দিত। লোভনীয় উপার্জনের প্রস্তাব দিয়ে তাদের ইউরোপ যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করত তারা। এরপর মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে হতো চুক্তি। ওই চুক্তির পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, লিবিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নিয়ে আন্তর্জাতিক দালাল চক্রের হাতে তুলে দেয়া হতো অভিবাসন প্রত্যাশীদের। এরপর নানা নির্যাতনের মাধ্যমে চলত অতিরিক্ত টাকা আদায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্রাভেল এজেন্সি চালানোর বৈধ কোনো লাইসেন্স ছিল না এনামের। ট্রাভেল এজেন্টদের সংগঠন আটাবের সদস্য পদও পাননি তিনি। তবুও নির্বিঘ্নে ব্যবসা করেছেন এত বছর ধরে। গত শুক্রবার ভূমধ্যসাগরে ট্রলারডুবিতে সিলেটের ৭ যুবক মারা যাওয়ার পর গা ঢাকা দিয়েছেন এনাম। বন্ধ রয়েছে তার মুঠোফোনও।
নিহতদের পরিবারের দাবি, আট লাখ টাকা চুক্তিতে ইউরোপে পাঠানোর কথা ছিল তাদের। অগ্রিম টাকা দেয়ার পরেও নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকাও নিয়েছেন তিনি। প্রায় পাঁচ মাসে তিন দেশ ঘুরিয়ে বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে লিবিয়া উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশে নৌকায় তুলে দেয়া হয় প্রায় ৮০ জনের একটি দলকে। তিউনিসিয়া উপকূলে সাগরে তলিয়ে যায় সেই নৌকা। অর্ধশতাধিক বাংলাদেশির সলিল সমাধি হয়।
এ ব্যাপারে আটাব সিলেটের সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউর রহমান খান বলেন, দালাল এনাম আটাবের সদস্য নন, তার ট্রাভেল এজেন্সি চালানোর কোন বৈধ কাগজপত্র নেই। এ ছাড়া ট্রাভেল এজেন্টের তো লোক পাঠানোর কথা নয়। ট্রাভেল এজেন্সির নাম দিয়ে এনাম আসলে মানব পাচারে যুক্ত ছিল। এ ক্ষেত্রে আটাবের পক্ষ থেকে অবৈধ ট্রাভেল এজেন্টদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আটাবের পক্ষ থেকে একাধিকবার অবৈধ ট্রাভেল এজেন্টদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেছি। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনিয়মিতভাবে অভিযান চালানোয় এরা কয়েক দিন প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে ফের মানব পাচারের মতো ভয়ঙ্কর কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনকে আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।
সিলেট চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও শিপার এয়ার সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী খন্দকার শিপার বলেন, যা ঘটেছে তা এক কথায় মর্মান্তিক। দুঃখ প্রকাশের ভাষা নেই আমাদের। তবে এ ক্ষেত্রে আটাবেরও কিছুটা দায় আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। খন্দকার শিপার বলেন, শুধু এনাম নয়, লাইসেন্স ছাড়া ট্রাভেল এজেন্সির সাইনবোর্ড লাগিয়ে মানব পাচারে যুক্ত রয়েছে অনেকেই। তাদের বিরুদ্ধে আটাবের পক্ষ থেকে কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো রকম ব্যবস্থা নেয়া হয় না।