বাজেটে কোনো পণ্যে ভ্যাট বাড়বে না : অর্থমন্ত্রী

আগের সংবাদ

বুদ্ধপূর্ণিমা ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা নেই: আইজিপি

পরের সংবাদ

এই আগ্রাসন থেকে মুক্তির পথ খুঁজুন

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৪, ২০১৯ , ৭:০৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৪, ২০১৯, ৭:০৯ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসনে অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে দেশ-জাতির ভবিষ্যৎ। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজতে শুভবোধসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল সবার যূথবদ্ধ প্রয়াস জরুরি। গত ১ বছর ধরে চলা মাদকবিরোধী অভিযানে দেড় লাখের বেশি মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে ৩২৯ মাদক কারবারি।

টানা অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে ইয়াবার প্রধান রুট কক্সবাজারের টেকনাফের ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে। তবে আত্মগোপনে চলে যায় বেশির ভাগ ব্যবসায়ী। এত কিছুর পরও ঠেকানো যায়নি মাদকের কারবার। মাদকের এই আগ্রাসন দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সৃষ্টি করছে অবক্ষয়। দেশের আইনশৃঙ্খলার জন্যও তা মূর্তমান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আনুমানিক হিসাবে দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় ৫২ লাখ। প্রতি বছর ৫ লাখ তরুণ-তরুণী মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকাসক্তের ৪১ ভাগই বেকার এবং এদের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ ভাগ। মাদক নিয়ে যে ভয়াবহতার কথা আমরা বলছি, তার সূচনা গত শতকের আশির দশকের গোড়ার দিকে। একে একে আমাদের সমাজে অনুপ্রবেশ করল হেরোইন, কোকেন ও ফেনসিডিল। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি অনুপ্রবেশ করল ইয়াবা।

হালের ফ্যাশন সিসা, ইয়াবা সহজলভ্য হয়ে গেছে। এর মধ্যে নতুন করে আইস যুক্ত হয়ে পড়েছে। বলাই বাহুল্য, থানা পুলিশকে হাত করেই চলছে এই ব্যবসা। এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রাজনীতি-ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও। ইতোমধ্যেই স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী অনেক ব্যক্তির নাম ইয়াবা গডফাদার হিসেবে প্রকাশ পেয়েছে, অনেকে আটকও হয়েছেন।

অনেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। র‌্যাব-পুলিশের করা তথ্য-উপাত্তের পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর ৪ মে থেকে শুরু হওয়া অভিযান জোরদার করা হয় ১৫ মে থেকে। এর মধ্যে র‌্যাব-পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে এক লাখের বেশি মাদক কারবারি। যার মধ্যে গত বছরের ৩ মে থেকে চলতি বছরের ১ মে পর্যন্ত র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে ২৪ হাজার ৮৯৮ জনকে। গত বছরের ৩ মে থেকে চলতি বছরের ১ মে পর্যন্ত শুধু র‌্যাবই উদ্ধার করেছে ৬০৪ কোটি ৮৪ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য।

এত কিছুর পরও মাদক ব্যবসা-বিস্তার রোধে সরকারের ঘোষিত নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও মাদকের বাণিজ্যের ভিত নাড়ানো যাচ্ছে না। সমাজপতি, রাজনীতিক, সরকারি কর্মজীবী, পুলিশ সবাই যখন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত হয়ে পড়েন, তখন মাদক ঠেকানো যাবে কীভাবে? এই প্রশ্ন বারবার সামনে আসছে। দেশের বিরাটসংখ্যক তরুণশক্তি নিয়ে আমরা স্বপ্ন দেখছি, অথচ প্রতিনিয়ত মাদকের নেশায় ধ্বংস হচ্ছে তারুণ্য, জাতির ভবিষ্যৎ।

প্রশাসনিক কঠোর অবস্থান, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং জনসচেতনতাই পারবে ইয়াবার শিকড় উপড়ে ফেলে এর বিস্তার ঠেকাতে।