বিনিয়োগ বাড়াতে নানা উদ্যোগ, তবুও কাটছে না স্থবিরতা

আগের সংবাদ

চামড়া শিল্পের দুঃসময়

পরের সংবাদ

উত্তর প্রদেশেই মিলবে সব প্রশ্নের উত্তর?

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৪, ২০১৯ , ১:২০ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৪, ২০১৯, ১:২০ অপরাহ্ণ

Avatar

প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছে ভারতের দেড় মাসব্যাপী লোকসভা নির্বাচন। সাত ধাপের ভোটাভুটি প্রক্রিয়ার শেষ ও সপ্তম ধাপের ভোট হবে ১৯ মে। যদিও সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে পর্যবেক্ষক ও উৎসুক মহলে ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে নানা হিসাব-নিকাশ। সবার মধ্যেই জল্পনা-কল্পনা হচ্ছে এবার কারা বসতে যাচ্ছেন দিল্লির মসনদে, কে হতে যাচ্ছেন ভারতের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। আর এসব সমীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে আবিভর্‚ত হচ্ছে দেশটির সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে নির্বাচনী সাফল্যের বিষয়টি। আশিটি আসন রয়েছে এখানে। আর অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণের ধারাবাহিকতায় এবারো মানুষের ধারণা, উত্তর প্রদেশ জেতা মানেই দিল্লি জেতা। আর দিল্লি জেতা মানেই ভারত পরিচালনার দায়িত্ব হাতে পাওয়া।
পূর্ব দিল্লির একজন শিক্ষক মিতালি মুখার্জির মতে, অতীতেও দেখা গেছে, উত্তর প্রদেশই ক্ষমতা নির্ধারণ করে। এই প্রদেশে বিজেপি গতবার বেশি আসন পেয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তার আগেরবার কংগ্রেস বেশি আসন পেয়েছে, কংগ্রেস থেকে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ড. মনমোহন সিং। এরও আগে রাজীব গান্ধী, ইন্দিরা গান্ধী। ভোটের ফলাফল কোন রাজ্যে কেমন তা না খুঁজে আগে দেখুন উত্তর প্রদেশে কে বেশি আসন পাবে। তা হলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কার হাতে যাচ্ছে ক্ষমতার চাবি। একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক প্রসূন চক্রবর্তী বলেন, ধরুন গোটা ভারতে কোনো একটি দল ভালো ফল করেছে; কিন্তু উত্তর প্রদেশে ফলাফল খারাপ, এ রকম হলেও আমি বলতে পারি সেই দল ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
ভোটার ও পর্যবেক্ষকরা বলছেন, উত্তরাঞ্চলীয় এই বৃহৎ রাজ্যে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর বসবাস। আর তাদের হাতেই রাজ্যের অধিকাংশ ভোট। অতএব তাদের ভোটই দেখাবে নতুন সরকার গঠনের পথ। লোকসভার মোট ৫৪৩টি আসনের মধ্যে ৮০টি উত্তর প্রদেশে। আগের ধাপগুলোয় এখানকার ৬৬ আসনে ভোট শেষ হয়েছে। বাকি ১৪ আসনের ভোট হবে আগামী ১৯ মে শেষ পর্বে। লখনৌর একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা জাফর জিলানী বলেন, এই রাজ্যে হিন্দু, মুসলিম, যাদব যেমন আছেন, তেমনি শহর পেরিয়ে গেলেই বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর বসবাস। শুধু যাদব, দলিত ও মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটই এই প্রদেশের মোট ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি। লখনৌ আসনে যিনিই প্রার্থী হন তাকে মুসলিমদের ভোট পেতেই হয়। গতবার দেখা গেছে কট্টর হিন্দু বিজেপির রাজনাথ সিংকে মুসলমানদের ভোটই জিতিয়েছে। ভোট পেতে তাকে মুসলমানদের নির্বাচনী সভায় গিয়ে পাগড়ি মাথায় দিতে হয়েছে, শেরওয়ানি পরতে হয়েছে।
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর প্রদেশে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর ফলাফল ছিল চমকপ্রদ। ৮০ আসনের মধ্যে তাদের জোট পায় ৭৩টি, যার মধ্যে ৭১টিই বিজেপির। এ ছাড়া পাঁচ আসন পায় সমাজবাদী পার্টি, দুটি কংগ্রেস। এবার উত্তর প্রদেশে বিজেপি ঠেকাতে মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ও অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি (এসপি) জোট করেছে, যাকে বলা হচ্ছে ‘গাঁটবন্ধন’। ভারতের নিম্নবর্ণের হিন্দু দলিতদের রাজনৈতিক ‘আইকন’ মায়াবতী। তিনি চারবার ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। একইভাবে কংগ্রেসও এবার আসন বাড়াতে প্রিয়াংকা গান্ধীকে সাধারণ সম্পাদক করে প্রদেশের নির্বাচনী দায়িত্ব দিয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কোন দল জিতবে উত্তর প্রদেশে, এমন প্রশ্নে মানবাধিকার কর্মী রমেশ রায় জানান, আমি প্রান্তিক ভোটারদের মধ্যে যে উৎসাহ দেখেছি, তাতে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, বিজেপি গতবারের মতো সব আসন ঝেঁটিয়ে নিয়ে যেতে পারেনি। উত্তর প্রদেশে তাদের আসন কমেছে। এখন ফলাফল দেখলেই বোঝা যাবে কতটা কমেছে বিজেপির আসন। উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল লোকসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার পর ১৮, ২৩ ও ২৯ এপ্রিল এবং ৬ ও ১২ মে ভোট হয়েছে ভারতে। আগামী ১৯ মে সপ্তম পর্বের ভোটাভুটির পর ফল ঘোষণা হবে ২৩ মে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা