ফেনীর নতুন এসপি হলেন কাজী মনিরুজ্জামান

আগের সংবাদ

ঘাটাইলে বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু

পরের সংবাদ

বাজারে ভেজাল ও নিম্ন মানের পণ্য

আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ দরকার

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১৩, ২০১৯ , ৮:৩০ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১৩, ২০১৯, ৮:৩০ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় প্রমাণিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেজাল ও নিম্নমানের ৫২টি পণ্য অনতিবিলম্বে বাজার থেকে সরাতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে পুনরায় পরীক্ষায় মান উন্নীত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে ওইসব পণ্য উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই আদেশ কার্যকর করে আগামী ২৩ মের মধ্যে আদালতে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

দেশে খাদ্য ব্যবসায়ে জড়িত কিছু অতি মুনাফাশিকারি এবং ভেজালকারীচক্রের দৌরাত্ম্য ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। উচ্চ আদালতকেও এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হয়। আমরা দেখতে চাই, আদালতের এই নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য ও খাদ্যপণ্যের বাজারে ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া আধিপত্যের কারণে দেশে ন্যায্য ব্যবসার পরিবেশ বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যে সুশাসনের ঘাটতিও ক্রমাগতই বাড়ছে।

নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ এখনো পুরোপুরি সচেতন নয়। বারডেম পরিচালিত এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল- খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক বিষের কারণে দেশে প্রতি বছর অন্তত ২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্যান্সার, ২ লাখ ২০ হাজার ডায়াবেটিস, ২ লাখ কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও প্রায় পৌনে ৩ লাখ মানুষ ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়াও পেটের পীড়া, লিভার, অ্যালার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দেশের লাখ লাখ মানুষ।

অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের লাগাম টেনে ধরার কেউ নেই। ইচ্ছেমতো তারা ভেজাল করে পণ্য বাজারজাত করছে। জানা যায়, মানহীন খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মারাত্মক রাসায়নিক পদার্থ। সেমাই ও নুডলস তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া ময়দা, পাম অয়েল, অ্যারারুট, সাবান তৈরির রাসায়নিক উপাদান এবং এক ধরনের রাসায়নিক পাউডার। ঘি তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যধিক পরিমাণ পাম অয়েল, অতি নিম্নমানের ডালডা, বেকারি ঘি ও রাসায়নিক রঙ।

ভেজালের এই ভয়াবহ অবস্থা থেকে বের হওয়ার উপায় কি? আইন প্রয়োগ করে, জেল জরিমানা করে কি শুধু সম্ভব। এই অবস্থায় ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা শুধু একজন কর্মকর্তা হিসেবে নন, একজন দেশপ্রেমিক হিসেবে জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন বলে আদালত প্রত্যাশা করছে।

আদালত আরো বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিতভাবে কাজ করা উচিত। তবে ভেজাল ঠেকাতে সচেতনতার বিকল্প নেই। এ জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ও সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে সরকার খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- এমনই প্রত্যাশা।