রোহিঙ্গা ঘিরে পাসপোর্ট চক্র

আগের সংবাদ

২০ দলীয় জোটের বৈঠকে যাবেন না পার্থ

পরের সংবাদ

মোদি : বিভেদের গুরু নাকি আস্থার প্রতীক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১২, ২০১৯ , ১২:১৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১২, ২০১৯, ১২:১৭ অপরাহ্ণ

Avatar

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ষষ্ঠ পর্বের ভোটগ্রহণ হচ্ছে আজ। এতে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড , হরিয়ানা ও বিহার- এ সাত রাজ্যের ৫৯ লোকসভা আসনের রায় আসবে। আগামী ১৯ মে শেষ পর্বের নির্বাচনের পর ২৩ মে জানা যাবে ফলাফল।
এদিকে নির্বাচন শেষ হওয়ার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই জোরদার হচ্ছে জল্পনা-কল্পনা। শেষ পর্যন্ত কি দিল্লির গদিতে টিকতে পারবেন মোদি, নাকি এবার তাকে সরে যেতে হবে ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে? পাঁচ বছর আগে নতুন ভারত গড়ার স্লোগান তুলে, তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ভরসা ছড়িয়ে, জনগণের সামনে আস্থার দেবদূত হয়ে ক্ষমতায় আসেন তিনি। কিন্তু বিগত শাসনামলে নিজের দেয়া প্রতিশ্রুতির তেমন বাস্তবায়ন করতে পারেননি মোদি। উল্টো তিনি বিদ্ধ হয়েছেন বিষাক্ত ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ ছড়ানোর অভিযোগে। পাঁচ বছর আগে ২০১৪ সালের উজ্জ্বল ভারত, শক্তিশালী ভারতের স্বপ্নের প্রতিভ‚ ছিলেন মোদি। ছিলেন যেন আস্থার দেবদূত, যার এক হাতে হিন্দুর পুনর্জাগরণ, অন্য হাতে দক্ষিণ কোরীয় ধাঁচে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কর্মসূচি। অথচ, এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি যেন এক ব্যর্থ রাজনীতিক, যিনি কাজ করে দেখাতে পারেননি। নির্বাচনের ফলাফল যাই হোক, সেই স্বপ্ন, সেই আস্থা আজ আর তার সঙ্গে নেই।
সম্প্রতি প্রভাবশালী মার্কিন পত্রিকা টাইমও তাদের প্রচ্ছদ রচনায় মোদিকে অভিহিত করেছে ভারতের‘ বিভেদের গুরু’ হিসেবে। এ নিয়ে ঝড় উঠেছে ভারতের রাজনৈতিক মহল আর সামাজিক নেটওয়ার্কেও। কংগ্রেস নেতারা বলেছেন, বিভেদের মাধ্যমে শাসন করার ধারণার উদগাতা ব্রিটিশকে ভাগিয়েছে কংগ্রেস। এবার মোদিকেও তাড়াবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ঠিকই লিখেছে ‘টাইম’ পত্রিকা। গো-রক্ষা আর দাঙ্গা ছাড়া উনার মাথায় কিচ্ছু ঢোকে না।
প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বর্ষপূর্তিতেও নরেন্দ্র মোদির সাক্ষাৎকার ছেপেছিল মার্কিন পত্রিকা ‘টাইম’। এবার টাইম পত্রিকার ২০ মে সংখ্যার প্রচ্ছদে মোদিকে দেখা যাবে- দৃষ্টিতে বিষণ্নতা, গলায় গেরুয়া চাদর; হেডলাইন ‘ইন্ডিয়াজ ডিভাইডার ইন চিফ’ (ভারতে বিভেদের গুরু)।
কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ মমতার : বিপুল টাকা খরচ করে ভোট প্রচারের পর বিজেপি এবার টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় কর্মীদের প্রতি তার নির্দেশ- ভোটের আগে রাত জেগে পাহারা দিতে হবে। ওরা বাক্স বাক্স টাকা ঢোকাচ্ছে বাংলায়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে বেআইনি টাকা রাখার অভিযোগ ওঠে ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে। পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়। গত শুক্রবার নাম না করে সে প্রসঙ্গ তুলে অশোকনগরের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা অভিযোগ করেন, কালকেও দেখেছেন বিজেপির এক প্রার্থী কয়েক কোটি টাকা নিয়ে ধরা পড়েছে। ভোটের আগে সমাজের দুষ্কৃতকারীদের সেই টাকা দিয়ে বলা হচ্ছে, ভোট দখল করো। গরিব লোককে খাওয়াও। এটা নির্বাচন? পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হুঙ্কার তুলে বলেন, কত নেতা-মন্ত্রী বাংলায় বাক্স নিয়ে আসছেন! বাক্স দিয়ে বাংলায় ভোট হবে না। আমরা সব ধরে নেব। মমতা আরো বলেন, নোট বাতিল করে কত টাকা কামিয়েছেন? রাফাল থেকে কত টাকা কামিয়েছেন? পেটিএম থেকে কত টাকা করেছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর এবার দিতে হবে।

বিষয়: