আশুগঞ্জ সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে আড়াই মাস

আগের সংবাদ

সপ্তাহের সাতকাহন

পরের সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

এই মৃত্যুকূপে যাত্রা আর নয়

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১২, ২০১৯ , ১০:০১ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১২, ২০১৯, ১০:০১ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

সাগরের বুকে বারবার সলিল সমাধি, ধরপাকড়ের আশঙ্কা কিছুই অবৈধ অভিবাসনে ইচ্ছুকদের দমাতে পারছে না। আফ্রিকা, ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মাঝে অবস্থিত ভূমধ্যসাগর অবৈধভাবে ইউরোপ গমনেচ্ছুদের জন্য মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। এবার লিবিয়া থেকে নৌকায় ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে অন্তত ৬৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৩৭ জন বাংলাদেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিউনিসিয়ার রেড ক্রিসেন্ট শনিবার এ কথা জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য মতে, বৃহস্পতিবার রাতে লিবিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জুয়ারা উপকূল থেকে একটি বড় নৌকায় ৭৫ অভিবাসী যাত্রা শুরু করে। পরে তাদের একটি ছোট নৌকায় তুলে দেয়া হলে দুর্ঘটনা ঘটে। নৌকাটি শুক্রবার সকালে তিউনিসিয়ার উপকূলে ডুবে যায়। তিউনিসিয়ার জেলেরা ১৬ জনকে উদ্ধার করে জার্জিস উপকূলে নিয়ে আসে।

অবৈধপথে বিদেশ যাত্রায় মৃত্যুর খবর নতুন নয়। জাতিসংঘের হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ভূমধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন ৬৪ জন। গত বছর প্রতিদিন এখানে মারা গেছেন ছয় অভিবাসী। চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে পৌঁছেছেন ১৫ হাজার ৯০০ শরণার্থী। এটা গত বছরের চেয়ে সামান্য বেশি। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর উচিত অবৈধ বিদেশযাত্রা ঠেকাতে ও মানব পাচার রোধে জোরালো পদক্ষেপ নেয়া।

যেহেতু এ ক্ষেত্রে প্রধান ভিকটিম হচ্ছে বাংলাদেশিরা, তাই বাংলাদেশের উচিত এখানে সর্বোচ্চ কৌশল নিয়োজিত করা, একই সঙ্গে তিউনিসিয়ায় আটক ও নিহত ভাগ্যবিড়ম্বিতদের স্বদেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারেও জরুরি ব্যবস্থা নেয়া। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও জীবনে স্বপ্নের হরিণ ধরতে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে আফ্রিকার দেশ লিবিয়া থেকে ইউরোপে প্রবেশ করছেন বাংলাদেশিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা।

মৌখিক প্রচারণায় দেখা যায় শিপ দিয়ে তারা ইউরোপের মানবাধিকার দেশ ইতালিতে পাড়ি জমান। বাস্তবতা হলো শিপ নয় এ যেন মৃত্যুর এক ফন্দি নাম প্লাস্টিকের বোর্ড। প্রত্যক্ষদর্শী এমন অনেকেই আছেন ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। গত বছর থেকেই নৌকায় চেপে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়া শরণার্থীদের একক দেশ হিসেবে সিরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাককে ছাড়িয়ে বাংলাদেশ এখন শীর্ষে অবস্থান করছে।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরেছিল। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে দুবাই হয়ে লিবিয়ায় পাড়ি জমায় এই শরণার্থীরা। এরপর ইতালিতে পৌঁছতে ভূমধ্যসাগরে নৌকা ভাসায় তারা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সূত্র মতে, ২০১৬ সালের মার্চ নাগাদ তিন মাসে ইতালিতে ঢোকা বাংলাদেশির সংখ্যা ছিল একজন।

পরের বছর একই সময়ে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ২,৮৩১ জনে। মধ্যপ্রচ্যের অনেক দেশের নাগরিক সিজনাল ভিসায় ইতালিতে এসে কাজ করার সুযোগ পেলেও বাংলাদেশকে ব্লাকলিস্টে ফেলে রেখেছে ইতালি সরকার। যার ফলে প্রায় সাত বছর ধরে কোনো বাংলাদেশি অভিবাসী ইতালিতে বৈধভাবে প্রবেশ করতে পারছে না। তাই ইতালির এই শ্রমবাজার নতুন করে পেতে সরকারকে উদ্যোগ নেয়া দরকার।