টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

আগের সংবাদ

মা ও মেয়ের যুগলবন্দি

পরের সংবাদ

প্রত্যেকটা শো-ই খুব পছন্দের-পড়শী

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১১, ২০১৯ , ৩:১১ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১১, ২০১৯, ৩:৩০ অপরাহ্ণ

Avatar

বছরজুড়েই দেশে ও দেশের বাইরে কনসার্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকেন সঙ্গীত তারকারা। কনসার্টকে তারা শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগের সেরা মাধ্যম বলে মনে করেন। এই কনসার্টকে ঘিরে তাদের নানা রকম আনন্দ-বেদনার অভিজ্ঞতা নিয়ে ‘মেলা’র বিভাগ ‘আমার সেরা কনসার্ট’

কনসার্টে ভালবাসা
সাধারণত কনসার্ট আয়োজনের সঙ্গে যারা জড়িত বা সেখানে দর্শক যারা তাদের পছন্দের শিল্পীরাই কনসার্টে পারফর্ম করেন। সেই অনুযায়ী এখন পর্যন্ত যে যে কনসার্টে গিয়েছি সেখানে আমার ফ্যানরাও ছিল, থাকেন। সেই জন্য প্রতিটা কনসার্টই আমার খুব ভালো লাগে। এবং কনসার্টে গিয়ে তাদের সেই ভালোবাসাটা পাই। সুতরাং যে যে জায়গায়, যে যে জেলায় কিংবা দেশের বাহিরে, যেখানেই শো করতে গিয়েছি- প্রত্যকটা শো-ই আমার খুব পছন্দের। এখন যদি বলি কোনটা সেরা? তাহলে বলব, একদম প্রথম যে কনসার্ট করেছিলাম তার থেকে দ্বিতীয়টা, দ্বিতীয়টা থেকে তৃতীয়টা; এরকম পর্যায়ক্রমে একটা থেকে আরেকটা সেরা।

জানি না কেন ভয় পাই!
দেখা যায় যে, কনসার্টের উদ্দেশ্যে যখন রওনা হই- গাড়িতে থাকি, তখন একধরনের ভয় কাজ করে এবং আমি ঘামতে থাকি। আম্মু প্রায়ই বলেন, তুমি এখনো এত ভয় পাও কেন! তবে আমি জানি না কেন ভয় পাই, কিন্তু ভয় কাজ করে। সবটা ভয় আবার স্টেজে ওঠার এক সেকেন্ডের মধ্যে চলে যায়, যখন শুনি দর্শকরা ‘পড়শী, পড়শী, পড়শী’ রব তুলে পুরো এলাকা কাঁপিয়ে দিচ্ছে; তখন একধরনের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাই। বুঝতে পারি, এখানে যারা এসেছেন তারা আমার গান শুনেন। আমার গান শোনার জন্যই এখানে এসেছেন। এবং স্টেজে উঠতে দেরি হলে, নাম ধরে তারা যে ধ্বনি তুলে তা আমার ভীষণ ভালো লাগে।

দর্শকরাই গাইতে থাকেন
২০১০-এ আমার অ্যালবাম প্রকাশের পর থেকে যেখানেই পারফর্ম করতে গিয়েছি, দেখা যায় যে অর্ধেক গান গাওয়ার পর দর্শকরাই বাকি গান গাইতে থাকেন। একজন শিল্পী হিসেবে আমার জন্য তা অনেক বড় পাওয়া যে, আমার গানগুলো তারা শুনেন; এমনকি গান শোনাটাও মুখ্য বিষয় নয়, মুখ্য বিষয়- একজন শ্রোতা একটা গান কতবার শোনার পর পুরো গানের সুর ও কথা তার মুখস্থ থাকে! তা সত্যিই মুগ্ধকর।

‘তোমারই পরশে’ রেকর্ডিং
রেকর্ডিংয়ের সময় অনেক কম্পোজার ছিলেন; তাদের একজন আরেফিন রুমি ভাইয়া। ‘তোমারই পরশে’ এই গানটা আসলে হঠাৎ করেই করে ফেলেছিলাম। সবেমাত্র ‘ক্ষুদে গানরাজ’ শেষ করেছি; এমন সময় একদিন রুমি ভাইয়া আম্মুকে কল দিয়ে বললো, দুঘণ্টা সময় আন্টি, পড়শীকে নিয়ে স্টুডিওতে চলে আসেন। আমাকে বললো, দুঘণ্টার ভিতর তুই এসে ভয়েস দিয়ে যা! এত অল্প সময়ের মধ্যে কীভাবে গানের কথা এবং সুর মুখস্থ করে ভয়েস দেয়া সম্ভব তা আমার জন্য কষ্টকর ছিল। তখন আমি নতুন, খুব একটা অভিজ্ঞতা ছিল না। গানটা বের হওয়ার পর সবাই পছন্দ করেন। এবং কনসার্টে এখনো এই গান করার অনুরোধ আসে।

আমার একজন ক্ষুদে ভক্ত
কিছুদিন আগে অস্ট্রেলিয়াই গিয়েছিলাম। সেখানে ছোট একটা চার-পাঁচ বছরের বাচ্চা মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। শো শেষে তার বাবা-মা আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য নিয়ে এসেছিল। তার সঙ্গে আমিও অনেকক্ষণ গল্প করেছিলাম। খুব মিষ্টি একটা মেয়ে! আমার গান শুনে, আমাকে খুব পছন্দ করে। যদিও আমি জানি না, এত ছোট একটা মেয়ে আমার গান কেন শুনে, কী বুঝে শুনে! এবং যেদিন আমি দেশে ফিরে আসি, সেদিনও আমাকে বিদায় দিতে এসে খুব কান্না করেছিল। গান করতে যেয়ে এমন একজন ক্ষুদে ভক্তের সঙ্গে পরিচয় হওয়া, একটা নিষ্পাপ শিশুর কাছে প্রিয় হতে পারা তা সত্যিই আনন্দের।

বিষয়:
  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা