বাজারে ভেজালের রাজত্ব

আগের সংবাদ

রংপুরের মিঠাপুকুরে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যু

পরের সংবাদ

প্রণোদনা ছাড়া পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবে না

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১০, ২০১৯ , ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মে ১০, ২০১৯, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ

Avatar

অস্থিতিশীল পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করতে আসন্ন বাজেটে বিশেষ প্রণোদনার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। টানা পতনে বাজার এখন টালমাটাল। প্লেসমেন্ট কারসাজি, পরিচালকদের শেয়ার ব্যবসার মতো নানা অনিয়মে খাদের কিনারে দাঁড়িয়েছে বাজার।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বেশ কিছু প্রস্তাবনা দিয়েছে। অর্থমন্ত্রীও বলেছেন বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ প্রণোদনা থাকবে।
এদিকে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক বাজেট আলোচনায় একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে ডিএসই। এতে ডি-মিউচ্যুয়ালাইজড এক্সচেঞ্জের কর অবকাশ সুবিধা বৃদ্ধি করা, করমুক্ত আয় ও করমুক্ত লভ্যাংশ আয়ের পরিমাণ বাড়ানো, বহুজাতিক কোম্পানি ও স্থানীয় বøু-চিপ কোম্পানিগুলো এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তকরণে আরও বেশি উৎসাহিত করতে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির করের ব্যবধান বাড়ানোকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থমন্ত্রী, এনবিআর সবাই বাজারের পক্ষে ইতিবাচক কথা বলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কিছু পদক্ষেপ নিলে এ বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। নানা রকম সমস্যার মধ্যে এই মুহূর্তে বাজারে তারল্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। যার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত চাচ্ছে। বিশেষ করে এক্সপোজার লিমিট বাড়ানো এবং ব্যাংকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনার দাবি রয়েছে। এই দুইটি দাবি বাস্তবায়ন হলে তারল্য সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে মনে করছেন অনেকেই।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইতিবাচক ধারায় ফিরে বাজার। তবে সেই ধারা বেশিদিন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। যার কারণে গত ২৭ জানুয়ারি থেকে টানা পতনের মধ্যে রয়েছে বাজার। এই দীর্ঘ সময়ে বাজার থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করা হয়েছে। বার বার পতনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। টানা রাজপথে বিক্ষোভ করেছে তারা। বিনিয়োগকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন করে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন বাতিল করেছে। প্লেসমেন্ট শেয়ারের লক-ইন সময়ে পরিবর্তন এনেছে, বোনাস শেয়ার প্রদান, রাইট শেয়ার অনুমোদনের নীতিমালা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ডিএসই’র এক প্রোগ্রামে আগামী বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ কিছু থাকবে বলে জানান। সে পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার এসোসিয়েশনের সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, বাজারকে স্থিতিশীল করতে হলে বিশেষ প্রণোদনা দিতে হবে। একই সঙ্গে কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। প্লেসমেন্টের নামে বাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা তুলে নেয়া বন্ধ করতে হবে। তারল্য সংকট কাটাতে ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট বাড়াতে হবে। এ ছাড়া সরকার বাজারের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে সেটার প্রমাণ দিতে হবে আগামী বাজেটে বাজারের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে।
ডিএসই’র বাজেট প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশনের পূর্বে এক্সচেঞ্জের আয় করমুক্ত ছিল। এখন যদি আয়কর আরোপ করা হয় তবে সরকার, এক্সচেঞ্জসহ দেশের সব বিনিয়োগকারী প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ডিএসই ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শুধুমাত্র ৬ কোটি টাকা নেট পরিচালন মুনাফা করেছে, সুতরাং এখনই যদি আবার এই আয়ের ওপর করারোপ করা হয় সেক্ষেত্রে স্টক এক্সচেঞ্জ অতি শিগগিরই পরিচালন মূলধনের ঘাটতির সম্মুখীন হবে। যা সরকারের ডিমিউচ্যুয়ালাইজড্ এক্সচেঞ্জের সফলতার ব্যাপারে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছার ব্যত্যয় ঘটাবে বলে প্রতীয়মান হয়। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে করপোরেট আয়কর হারের পার্থক্য শতকরা ১০ এর পরিবর্তে শতকরা ২০ এ বৃদ্ধি করা উচিত। এতে বেশি সংখ্যক মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ও স্থানীয় ব্লু -চিপ কোম্পানিগুলো এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত করতে আগ্রহী হবে।