রোজা রেখে রাতে খেললেন রশিদ-নবী

আগের সংবাদ

প্রতিপক্ষ বেহাল আওয়ামী লীগ ঠিক আছে তো?

পরের সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার অবদান

প্রকাশিত হয়েছে: মে ১০, ২০১৯ , ৯:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ১০, ২০১৯, ৯:২৯ অপরাহ্ণ

প্রফেসর ডঃ আসলাম ভূইয়া

শিক্ষাবিদ ও কলাম লেখক।

আমরা দেখেছি শেখ হাসিনা কীভাবে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন; জননেত্রী ছাত্রজীবন থেকে নারীর ক্ষমতায়ন শিক্ষা ও স্বাধীনতা তার হৃদয়ে ধারণ করতেন বলেই ক্ষমতায় এসে তা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করেছেন। যা দেশ-বিদেশে উচ্ছ্বসিতভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। যা দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তাকে ইউনেস্কোর উদ্যোগে এষড়নধষ খবধফবৎংযরঢ় ড়ভ ড়িসধহ অ ধিৎফ দেয়া হয়েছে যা (ড়িৎষফ অংংবসনষু যবষফ রহ অঁংঃৎধষরধ) এ জন্য তিনি দেশ-বিদেশে সম্মানিত হয়েছেন। তিনি নারী মুক্তি বিষয়টি ছাত্রজীবন থেকে আত্মস্থ করেছিলেন। তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন তখনই তিনি নারী মুক্তির বিষয়ে প্রতিবাদী হয়েছিলেন। একটি ঘটনা আজ আমার মনে পড়েছে যা না লিখলে নয়। আমার সৌভাগ্য হয়েছিল যে, ১৯৬৮ সালে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে পড়ার সুযোগ হয়েছিল। তিনি পড়তেন বাংলায় অনার্স। আমি পড়তাম সমাজ বিজ্ঞানে। সৌভাগ্যবশত শেখ কামাল ও আমার সহপাঠী ছিলেন। শেখ কামাল আমার কেবিনেটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে প্রত্যেক বিভাগে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নিজস্ব কেবিনেট গঠন করার নিয়ম ছিল। আমাদের সেমিনার কক্ষটি ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত কমন রুমের পাশে অবস্থিত ছিল। যা এখনো আছে।
আমাদের আড্ডা ছিল আফসারের চায়ের দোকানে। শরীফ মিঞার ক্যান্টিনও পাশে ছিল। সেদিন ছিল বসন্তকাল। সাধারণত শরীফ মিঞার ক্যান্টিনে বসত সিনিয়র ভাইয়েরা। আমাদের সময় ছিল গ্রন্থাগারে জায়গা রাখা। আমরা কয়েকজন ছিলাম, এখানে সিনিয়র জুনিয়র ছিল না, গ্রন্থাগারেই সকাল-সন্ধ্যা থাকতাম। শুধু ক্লাসের সময় খাতাটা নিয়ে ক্লাস করা। বাকি সময় গ্রন্থাগারে না হয় আফসারের চায়ের দোকান অথবা কদাচিৎ হতো শরীফ মিঞার ক্যান্টিনে। দিন তারিখ মনে নেই, শুধু মনে আছে দিনটির কথা। আমার একজন অতিথি ছিল। তার নাম গোলিয়াত, সে ছিল কায়েদ আজম কলেজের পাশে রুচিয়া গ্রুপের সদস্য। জগন্নাথ কলেজের ছাত্ররা ও রুচিয়া গ্রুপের সঙ্গে মিশত এবং রীতিমতো আসা যাওয়া ছিল। জগন্নাথ কলেজের পাশেই ছিল ঢ়ড়মড়ংব ঐরময ঝপযড়ড়ষ, যে স্কুলে আমি পড়েছি। আমার যতদূর মনে পড়ে সর্বশেষ যে নির্বাচনে আমি জড়িত ছিলাম, সেইবার ছাত্রলীগ থেকে কাজী ফিরোজ ভিপি নির্বাচিত হয়। আমরা তাকে একটা হাতিতে বসিয়ে রাস্তায় ঘুরিয়ে ছিলাম। তিনি এখন পুরাতন শহর থেকে জাপার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। যা হোক, জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রায়ই আমাদের বিভাগে আসতেন এবং ভাই শেখ কামালের সঙ্গে কথা বলতেন।
আফসারের চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলাম। আমার সঙ্গে সে দিন ছিল সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের আলী মনসুর ও জসিম (ওরা আমার ঢাকা কলেজের বন্ধু)। ঠিক তখনই আমাকে কেউ ডাকছে মনে হলো। চেয়ে দেখলাম আমার বিভাগের একজন জুনিয়র ছাত্র আমার কাছে এসেছে।
ওই ছাত্রটি আমাকে জানালেন যে শেখ হাসিনা আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি তৎক্ষণাৎ আফসারের চায়ের আড্ডায় যারা ছিল তাদের নিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করলাম। এ সময় শেখ হাসিনার সঙ্গেও কিছু ছাত্রীকে দেখলাম। সবার নাম মনে নেই, তবে তার সঙ্গে যারা ছিল, তাদের মধ্যে উল্লেখ করার মতো কয়েকজন সিনিয়র নেতাক দেখতে পেলাম। তাদের মধ্যে ছিল রাফিয়া আক্তার ডলি আপা, মমতাজ আপা, সেলিনা ও লাভলুসহ আরো কয়েকজন।
শেখ হাসিনা বললেন জিন্নাহ হলের (যা বর্তমানে সূর্যসেন হল নামে পরিচিত) একজন আত্মহত্যা করেছে যার কারণে কোনো মেয়েকে টিএসসির ক্যান্টিনে যেতে দিচ্ছে না। মেয়েদের জন্য টিএসসি নিষিদ্ধ করেছে। বিষয়টি আমরা শুনে ছিলাম অন্যভাবে প্রেমে ব্যর্থ হয়ে এক ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। শেখ হাসিনা বললেন, টিএসসি তে যাওয়া ছাত্রীদের ন্যায্য অধিকার। এর প্রতিবাদ করার মতো ছাত্রছাত্রী ছিল না। ওই ছাত্রীটিকে আমি চিনতাম, কিন্তু নাম জানতাম না- শুনেছি কোনো এক ব্যাংক প্রধানের মেয়ে। শেখ হাসিনা আমাদের সবার নেতা, তিনি বললেন আপনারা সবাই আমার সঙ্গে আসেন। আমরা সবাই তার পিছু পিছু গেলাম। একজন আমাদের বাধা দিলেন এবং বললেন না যাওয়ার জন্য। শেখ হাসিনা প্রতি উত্তরে বললেন কেন যেতে পারব না। দোষ করলে একজন করেছে তার জন্য আমরা সবাই কেন অধিকার থেকে বঞ্চিত হবো? আমরা শেখ হাসিনার সঙ্গে টিএসসি ক্যান্টিন গেলাম। ইতোমধ্যে মানিক বাবু আসলেন। আমরা ১১ জন ছিলাম। সবার জন্য কোমল পানির অর্ডার দিলেন শেখ হাসিনা।
রুচিয়া মূলত একটা রেস্টুরেন্টের নাম। এই খাবারের দোকানটি ছিল কায়েদে আজম কলেজের পাশে। কিন্তু জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগ নেতারা ও এই রেস্তোরাঁয় এসে কায়েদে আজম কলেজের ছাত্র নেতারা বসে সব পরিকল্পনা প্রণীত হতো। কায়েদে আজম কলেজের এলাহীবক্স, তারন, কালু মামা, ইব্রাহিম আর রাশেদ আরো কয়েকজন বেশ পরিচিত ছিলেন। তারা সবাই ছাত্র ছিলেন। ৬২ শিক্ষা আন্দোলন ও ৬ দফা আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল জগন্নাথ কলেজ তারা সম্পূর্ণভাবে রুচিয়া গ্রুপের ওপর নির্ভরশীল ছিল। ১৯৬৯-এর ১১ দফার আন্দোলনের পূর্ব পর্যন্ত সব আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল জগন্নাথ ও কায়েদে আজম কলেজ। আমি নিজেও তাদের সঙ্গে সব আন্দোলনে ও ওই কেন্দ্রে যোগ দেই। শাহ মোয়াজ্জেম ভাই (ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি) আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শেখ ফজলুল হক মনি ভাই। কাজী আরিফ জগন্নাথ কলেজের ছাত্র, রাজিউদ্দিন রাজু এমপি (সাবেক মন্ত্রী) আরো অনেকের নাম বলা যাবে। এই সময় আমরা দেখেছি শেখ হাসিনা কীভাবে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছেন; জননেত্রী ছাত্রজীবন থেকে নারীর ক্ষমতায়ন শিক্ষা ও স্বাধীনতা তার হৃদয়ে ধারণ করতেন বলেই ক্ষমতায় এসে তা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করেছেন। যা দেশ-বিদেশে উচ্ছ্বসিতভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। যা দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনছে।

প্রফেসর ডঃ আসলাম ভূইয়া : শিক্ষাবিদ ও কলাম লেখক।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা