ভোরের কাগজের চাটখিল প্রতিনিধি আর নেই

আগের সংবাদ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা

পরের সংবাদ

এসএসসির ফলাফল ও উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: মে ৬, ২০১৯ , ৮:১২ অপরাহ্ণ

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল সোমবার। পরীক্ষায় কৃতকার্য সব শিক্ষার্থীকে আমাদের অভিনন্দন। ফলাফল মূল্যায়নে দেখা গেছে, পরীক্ষায় এবার পাসের হার বেড়েছে। তবে কমেছে জিপিএ-৫-এর হার। মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ৮২.২০ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪ জন। গত বছর গড় পাসের হার ছিল ৭৭.৭৭ শতাংশ। এবার বেড়েছে ৪.৪৩ শতাংশ।

আর গত বছর জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৫৯৪। সেই হিসাবে কমেছে ৫ হাজার ৩৫ জন। জানা যায়, আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড থেকে পরীক্ষা দিয়েছিল ১৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫২ জন, যা গত বছর ছিল ১৬ লাখ ২৪ হাজার ৪২৩ জন। বেড়েছে ৭০ হাজার ২২৯ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৪ লাখ ৩ হাজার ১৫৭ জন।

গত বছর পাস করেছিল ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৫ জন। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ৯০.৮৮, ঢাকা বোর্ডে ৭৯.৬২, রাজশাহী বোর্ডে ৯১.৬৪, দিনাজপুর বোর্ডে ৮৪.১০, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭৮.১১, সিলেট বোর্ডে ৭০.৮৩, বরিশাল বোর্ডে ৭৭.৪১, কুমিল্লা বোর্ডে ৮৭.১৬ শতাংশ পাস করেছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৭২.২৪ শতাংশ আর মাদ্রাসা বোর্ডে ৮৩.০৩ শতাংশ পাস করেছে। একইসঙ্গে একজনও পাস করেনি- এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কম নয়।

এসএসসিতে এবার পাসের হার এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে ছাত্রদের পেছনে ফেলেছে ছাত্রীরা। গতবার পাসের হারের দিক থেকে ছাত্রীরা এগিয়ে থাকলেও বেশি সংখ্যক ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এবার এই দুই সূচকই দখলে নিয়ে নিয়েছে ছাত্রীরা। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দেশের কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান বৃদ্ধি করতে সব ব্যবস্থা নেয়া একান্ত আবশ্যক। একই সঙ্গে দৃষ্টি দিতে হবে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে।

শহরের সঙ্গে গ্রামের শিক্ষার্থীদের ব্যবধান বাড়ছে। এটি কাম্য নয়। শিক্ষার্থীদের জীবনে মাধ্যমিক স্তরের পরীক্ষার ফলাফল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পাসের হার বাড়ানোর চেয়েও বেশি জরুরি শিক্ষার মান বাড়ানো। এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি কতটা হচ্ছে তার যথাযথ নিরীক্ষা হওয়া দরকার। কারণ পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের একটি বড় অংশ পরবর্তী ধাপে পৌঁছানোর আগেই ঝরে পড়ছে।

তবে এটা স্বীকার করতে হবে যে, বর্তমানে পরীক্ষায় নকলের প্রবণতা কমে গেছে- এটা ঠিক, তবে এখনো দেশে নোট-গাইড বইয়ের দৌরাত্ম্য, কোচিং বাণিজ্য ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের সংস্কৃতি বন্ধ হয়নি। প্রশ্নপত্র ফাঁস পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এগুলো শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এ বিষয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের আরো দৃষ্টির প্রয়োজন।