দুর্যোগ নিয়ে বিএনপির বক্তব্য দুঃখজনক: হানিফ

আগের সংবাদ

পুঁজিবাদী রাষ্ট্রসমূহই জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক

পরের সংবাদ

পরীক্ষার্থীদের হয়রানি বন্ধে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা জরুরি

প্রকাশিত হয়েছে: মে ৩, ২০১৯ , ৮:৪১ অপরাহ্ণ | আপডেট: মে ৩, ২০১৯, ৮:৪১ অপরাহ্ণ

Avatar

অবশেষে চলতি বছর থেকেই দেশের সব স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনার পথ দেখা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। সমবৈশিষ্ট্যের বিচারে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও গুচ্ছবদ্ধ করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে ভর্তি নিয়ে ভোগান্তি কমে যাবে বলে আমরা মনে করছি।

দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ই আলাদাভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় মেডিকেল/প্রকৌশল/ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লক্ষাধিক আসনের বিপরীতে প্রতি বছর একজন শিক্ষার্থী কমপক্ষে ১০টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে। আর এ জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদাভাবে ফরম কিনতে হয় এবং আলাদাভাবে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। এতে তাদের সময়, পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় বেশি হয়।

এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মনের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। আর বহিরাগতরা সুবিধা দেয়ার নাম করে ফায়দা লুটে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের সারাদেশে ছোটাছুটি করতে তাদের পরীক্ষা প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়। তারপরও একই দিনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা এড়ানো যায় না।

এসব সমস্যা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার দাবি বহু আগেই উঠেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদদের তরফ থেকে। এমনকি খোদ রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা সত্ত্বেও তা এতদিন ধরে বাস্তবায়ন না করতে পারা দুর্ভাগ্যজনক। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনীহাকেই মূলত দায়ী করছে অভিজ্ঞমহল।

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) ভিসিদের নিয়ে একটি বৈঠকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিরা যোগ দেন। সভায় সব ভিসিই অভিন্ন পরীক্ষায় ভর্তি কার্যক্রম নিয়ে একমত পোষণ করেছেন।

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিদের সংগঠন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের বৈঠকেও সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত সাব-কমিটির সদস্যরা যোগ দেন। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় গুচ্ছবদ্ধ করে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সময়, শ্রম ও অর্থকষ্ট লাঘবে সমন্বিত পরীক্ষা নেয়ার বিকল্প নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধেও সমন্বিত পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। অর্থাৎ সব বিবেচনায়ই এ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক।

আমরা আশা করব, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করতে সংশ্লিষ্টরা যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। পরবর্তী সময়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এ পথেই এগোতে হবে।