দৃশ্যমান পদ্মা সেতুর ১ হাজার ৬৫০ মিটার

আগের সংবাদ

তিন মিনিটের শোকে স্তব্ধ শ্রীলঙ্কা

পরের সংবাদ

হামলার পেছনে আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্ক!

অভিযুক্ত তৌহিদ জামাত

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ২৩, ২০১৯ , ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ২৩, ২০১৯, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

Avatar

শ্রীলঙ্কায় একাধিক গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলায় ২৯০ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পেছনে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কেও সমর্থন রয়েছে বলে জানেিয়ছেন কর্মকর্তারা। ‘ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত’ নামে একটি স্বল্প পরিচিত স্থানীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীকে এ হামলার জন্য অভিযুক্ত করছে শ্রীলঙ্কার সরকার। যদিও দলটির পক্ষ থেকে এর জন্য দায় স্বীকার করে বিবৃতি পাওয়া যায়নি। দলটির ইতিহাসে এর আগে এ ধরনের বড় মাপের হামলার কোনো রেকর্ড নেই। গত বছর বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় প্রথমবারের মতো পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসে দলটির নাম।
এদিকে, হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো পাঁচ শতাধিক। মর্মান্তিক এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার জাতীয় শোক দিবস পালন হচ্ছে শ্রীলঙ্কায়। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক ঘোষণায় গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে সেখানে দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। ‘সন্ত্রাসীদের’ টার্গেট করে এ জরুরি অবস্থায় ‘সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হবে না’ বলে জানানো হয় বিবৃতিতে। হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে গতকাল সোমবার রাজধানী কলম্বোর আরো একটি গির্জায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে সমগ্র এলাকা। বিবিসি জানায়, নিরাপত্তা ও উদ্ধারকর্মীরা গির্জার ভেতর হামলাকারীদের একটি গাড়িভর্তি বিস্ফোরকদ্রব্য নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টাকালে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিপরিষদের মুখপাত্র রাজিথা সেনারাত্নে বলেন, দেশের ভেতর থাকা গুটিকয় লোক দিয়ে এ হামলা বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি না। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সহায়তা ছাড়া এ ধরনের একটি হামলা পরিচালনা করা অসম্ভব। খবর বিবিসি।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয় থেকে এক পরবর্তী বিবৃতিতে হামলাকারীদের সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক খুঁজে বের করার কাজে বিদেশি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা চেয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের এ সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে বলে বলা হয় ওই বিবৃতিতে। গত রবিবার শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে অভিযোগ করে বলেন, সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আগাম সতর্কবার্তা থাকা সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি বলেন, সতর্কবার্তার পরও কেন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলো না সেটি খতিয়ে দেখব আমরা। এ ব্যাপারে অন্ধকারে রাখা হয়েছে আমাকে ও আমার মন্ত্রীদের। অন্যদিকে সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, এ ঘটনায় সরকার কিংবা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। প্রেসিডেন্ট সিরিসেনার চিফ-অব-স্টাফ হেমাসারি ফার্নান্দো জানান, এ মাসের শুরুর দিকে একটি বা দুটি সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তথ্য পাই আমরা, তবে রবিবারের বিশালকার হামলাযজ্ঞ বিষয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না আমাদের।
রবিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে স্বল্পসময়ের ব্যবধানে ছয়টি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। আত্মঘাতী হামলাকারীরা ক্রিস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সার্ভিস চলাকালে নেগোম্বো, বাত্তিকালোয়া ও কলম্বোর কোচ্চিকাদে জেলার তিনটি গির্জায় এবং রাজধানীর সাংরিলা, কিংসবুরি এবং সিনামন গ্র্যান্ড হোটেলে বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ এরপর দক্ষিণ কলম্বোর দেহিওয়ালা এবং কলম্বো জেলার দেমাতাগোটার দুটি ঘাঁটিতে অভিযান চালালে উভয় জায়গাতেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং এতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন। এদিকে কলম্বো বিমানবন্দরের কাছে একটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরকে ঠাসা ৬ ফুট লম্বা একটি প্লাস্টিক পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া পেট্টায় বাস্তিয়ান মাবাথা প্রাইভেট বাস স্টেশন থেকে বিস্ফোরণের কাজে ব্যবহৃত ৮৭টি ডেটোনেটর উদ্ধার করেছে পুলিশ।
হামলায় নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শ্রীলঙ্কার নাগরিক। গির্জায় খ্রিস্টান ধর্মের ইস্টার সার্ভিস চলাকালীন এ হামলায় নিহত হন তারা। নিহতদের মধ্যে ৩৫ জন বিদেশি রয়েছে বলে জানায় দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি, ৫ জন ব্রিটিশ, একজন পর্তুগিজ ও ছয় জন ভারতীয়, দুজন তুরস্কের, দুজন চীনা, দুজন অস্ট্রেলীয়, একজন নেদারল্যান্ডের এবং একজন জাপানের নাগরিক। উল্লেখ্য, শ্রীলঙ্কার বৃহত্তম ধর্মীয়গোষ্ঠী থেরাবেরা বৌদ্ধবাদ। জনসংখ্যার ৭০ ভাগ এ ধারার অনুসারী। এটি দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলী জনগণের ধর্ম। এ ছাড়া হিন্দু এবং মুসলিম যথাক্রমে ১২.৬ এবং ৯.৭ শতাংশ। এ ছাড়া প্রায় ১৫ লাখ খ্রিস্টান অনুসারী রয়েছে দেশটিতে যার বড় অংশটাই রোমান ক্যাথলিক।