কলম্বোয় গির্জা-হোটেলে সিরিজ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩৮

আগের সংবাদ

ঘাতকদের কঠোর শাস্তি চান তাদের স্বজনরাও

পরের সংবাদ

১৪ দলে ভাটার টান!

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ২১, ২০১৯ , ২:১২ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ২১, ২০১৯, ২:১৯ অপরাহ্ণ

Avatar

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে চলছে ভাটার টান। দেড় যুগ আগে ভোটযুদ্ধকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ঐক্যে বাজছে অনৈক্যের সুর। শরিকদের মধ্যে চলছে টানাপোড়েন। একসঙ্গে পথচলার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। ক্ষমতাসীন সরকারের জোটে সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালনে বিব্রত জোট নেতারা। না সরকারে, না ক্ষমতায় থাকা শরিক দলগুলো কী পেল এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
২০০৪ সালে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ২৩ দফার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট গঠন করা হয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ঐক্যবদ্ধ নির্বাচন করে তারা। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর ১৪ দলকে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়। এর পরের সরকারেও ছিলেন তারা। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর মধ্যে নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ওয়ার্কার্স পার্টি ৩টি, জাসদ (ইনু) ২টি, জাসদ (আম্বিয়া) ১টি, তরিকত ফেডারেশন ১টি, জেপি ১টি আসনে জয়ী হয়। তবে এবার কাউকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেয়া হয়নি। আওয়ামী লীগের এই একলা চলো নীতিতে মর্মাহত শরিক দলের নেতারা। এরপর থেকেই আলোচনা শুরু হয় ১৪ দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
অবশ্য বিষয়টি মানতে রাজি নন ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়নি, একটি আদর্শিক জোট হিসেবে গঠিত হয়েছে। জঙ্গি, রাজাকার ও শোষণমুক্ত অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে ১৪ দল সবসময় শেখ হাসিনার পাশে ছিল এবং থাকবে। তিনি বলেন, সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির। সরকার পরিচালনায় কোনো ক্রটি-বিচ্যুতি হলে তারা ধরিয়ে দেবে। পরাজিত অশুভশক্তির সব চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৪ দলীয় জোটের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ভোটের রাজনীতিতে জোট একটি বড় ফ্যাক্টর। ভোট শেষ, তাই জোটও শেষ। নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেও সংসদে বসতে হচ্ছে বিরোধী দলের আসনে। এটি খুবই বিব্রতকর। তবে জোটের প্রয়োজনীয়তা এখনো শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেন তারা। এ ব্যাপারে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা মনে করি, জোট থাকা উচিত। কিন্তু এখন যদি জোটের প্রধান শরিক দল আওয়ামী লীগ মনে করে, জোটের আর প্রয়োজনীয়তা নেই, তো জোট আর থাকবে না।
এ ব্যাপারে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ভোরের কাগজকে বলেন, ১৪ দলের জোট আদর্শিক জোট। এখনো মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিদের ষড়যন্ত্র শেষ হয়ে যায়নি। আমাদের লড়াইও শেষ হয়নি। ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবেলার জন্য ১৪ দলের প্রয়োজন এখনো রয়েছে।
তিন কারণে জোট থাকা উচিত বলে মনে করেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া। তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান এক। উন্নয়নমূলক কাজের ভিশন আমাদের এক। এ ছাড়া সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে ১৪ দল। তিনি বলেন, ২০০৪ সালের ২৫ নভেম্বর যে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ১৪ দলের যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেই প্রেক্ষাপট এখনো বিদ্যমান।