বাজারে অপ্পো পপআপ ক্যামেরার এফ১১ প্রো

আগের সংবাদ

নুসরাত হত্যা: আরো দুজন গ্রেপ্তার

পরের সংবাদ

সৌন্দর্যের কারিগর

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ২০, ২০১৯ , ১০:২৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০১৯, ১০:২৪ অপরাহ্ণ

Avatar

নাচতে না জানলে যদি হয় উঠানের দোষ, তবে সাজতে বা সাজাতে না জানলে দোষ হবে কার? আসলে কমবেশি নিজেকে বা নিজের গৃহকোণ সাজতে জানেন সবাই। তবে সুন্দর সাজের পেছনের রহস্যটা লুকিয়ে থাকে সঠিক রুচি এবং উপাদান নির্বাচনে, সঙ্গী থাকে একজন মেকআপ আর্টিস্ট বা ইন্টেরিয়র ডিজাইনারের। তেমনিই এক যুগপৎ সৌন্দর্যের কারিগরের গল্প বলছি এবার। ছোটবেলায় লিপস্টিক দিয়ে মানুষের মুখের ছবি আঁকা এরপর নিজের পরিবারের মা-বোনদের সাজাতে গিয়েই তরুণ বয়সে হয়ে ওঠেন মেকআপ আর্টিস্ট। ধীরে ধীরে মেকআপ নিয়ে সমৃদ্ধ হতে থাকে অভিজ্ঞতা। ’৯২-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন প্রফেশনাল মেকআপ আর্টিস্ট। দীর্ঘ ২৯ বছর মেকআপ নিয়ে কাজের সময়েই তার সমৃদ্ধির রূপান্তরের গল্পে আরো যোগ হয় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবে কাজ করবার নতুন অধ্যায়ও। এবার উঠে এসেছে বাপন রহমানের সে সব পূর্বাপরের গল্প।

স্বনামধন্য মেকওভার আর্টিস্ট হলিউডের বিলি বি বা ভারতের মিকি কন্ট্রাক্টর ছিলেন অনুপ্রেরণার উৎস। মেকআপের প্রসাধনী ব্র্র্যান্ড ক্রায়লন-এর ঢাকার দুটি ওয়ার্কশপ থেকে বেড়েছে জানার পরিধি। ক্রিয়েটিভ কাজে বাপনের প্রতিনিয়তই হয়েছে বাকবদল। প্রিন্ট মিডিয়া, বিজ্ঞাপন মাধ্যম, ফ্যাশন শো বা ব্রাইডাল মেকআপ সব মাধ্যমে কাজের বিস্তৃতি হলেও পথচলা চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে একটি ফ্যাশন শোর মেকওভার দিয়ে।

এরপর ঢাকায় কারুজ নামে এক মডেল এজেন্সির হয়ে কাজ করতে থাকেন মিডিয়ার নানা সেক্টরে। যদিও ইন্সপিরেশন ইনস্টিটিউট অব ডিজাইন টেকনোলজি থেকে ২০০০ সালে ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ে ডিপ্লোমা করা হয় তার।

১১ বছরের মতো মেকআপ নিয়ে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করার পর যোগ দেন ঢাকার একটি বিউটি স্যালুনে মেকওভারের প্রধান হিসাবে। দেশের বাইরে বিভিন্ন ডেমনস্ট্রেশনে অংশ নিয়ে বাড়াতে থাকেন অভিজ্ঞতা। প্রচুর ওয়ার্কশপ করেছেন প্রসাধনীর ব্র্যান্ড ম্যাক, লরিয়েল বা মেকআপ ফরএভারের। তবে কাজের ক্ষেত্রে স্বকীয়তার সৃষ্টি হয় নিজের লাইট টোনের ব্রাইডাল মেকআপ এবং ন্যুড মেকআপ নিয়ে এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে।

গত ১৫ বছর ব্রাইডাল মেকআপ নিয়েও করেছেন নিরবচ্ছিন্ন কাজ। একই সঙ্গে প্রজেক্ট করেছেন দেশসেরা ফ্যাশন আলোকচিত্রী ও মডেল নিয়েও। সৌন্দর্যচর্চায় নিজের অভিজ্ঞতা গ্যালারি বন্দি করে ২০১৬-তে করেছিলেন মডেলিং পোর্ট্রটে এক্সিবিশনও। শিল্পের মৌলিকতার রশদ খুঁজতে একাধারে কাজ করেছেন কখনো ফ্যাশন ডিজাইনার, কখনো মেকআপ আর্টিস্ট বা কখনো ইন্টেরিয়র ডিজাইনার হিসেবেও। সংগীতা খানকে নিয়ে অংশীদারের ভিত্তিতে গড়েছেন ডিভাইন বিউটি লাউঞ্জ নামে সৌন্দর্য সেবা কেন্দ্রও। তবে এত কিছু সাফল্যের পালকে যুক্ত হলেও এখন ভিত শক্ত করতে স্বপ্ন দেখেন ইন্টেরিয়র নিয়ে ভালো কিছু করবার। নিজের আপন নিবাসটির চারদিকও তাই সাজিয়েছেন পরিপাট করে। লাভ টু লিভিং উইথ আর্ট- এই ধ্যানে তাই নিজের ফ্ল্যাটটিকে সাজিয়েছেন ইউরোপিয়ান স্টাইলে।

এথনিক ডেকোর থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে যোগ করেছেন নিজস্ব উদ্ভাবনী স্বকীয়তা। কাঠ, সিরামিক, ম্যান স্টোন, কাচ, মেটাল আর পলিরেজিং দিয়েই গড়েছেন নিজের সাম্রাজ্র। শোপিস সংগ্রহ করেছেন দেশীয় এবং বিদেশি নানা জায়গা থেকেই। রুচির সঙ্গে মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন শিল্পের। ফুলেল ছোঁয়ায় রাঙিয়েছেন আভিজাত্য নিয়ে।

বাপন রহমান জানান, চার দেয়ালের মধ্যেই কাটে বড় একটা সময়। মানে নিজের বাড়ি। এই বাসস্থানের দেয়ালের বা অন্দরের প্রতিটি গৃহকোণের সাজসজ্জার বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই দেয়ালে বাড়তি জিনিস লাগান না। বরং দেয়ালে রংয়ের মাধ্যমে বা দেয়ালে ওয়াল পেপারে তৈরি করেন ভিন্নতা। অনেকে দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখেন ছবি, আয়না, নকশি কাঁথা, প্লেট ইত্যাদি। তবে ইদানীং অনেকেই দেয়ালসজ্জায় বেছে নিচ্ছেন পুরনো আমলের জিনিস।

দেয়ালে এবং অন্দরে পুরনো দেয়ালঘড়ি, শোপিস, ছবি কিংবা ভিনটেজ আসবাব বা প্লেটের ব্যবহারেই অন্দরসাজে চলে আসবে অভিজাত ও জমকালো ভাব। পাশাপাশি আসবাবও হতে হবে মিলিয়ে। মূলত শখ থেকেই ইন্টেরিয়রে আসা। ইন্টেরিয়র নিয়ে কাজ করা হয়েছে বুটিক, খাবারঘর এবং বাসারও। তাই সামনের দিনগুলোতে স্বপ্ন দেখি এই সেক্টরে গোছানো কিছু কাজ করবার।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা