প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

আগের সংবাদ

মেহেরপুরে গলায় বিস্কুট আটকে শিশুর মৃত্যু

পরের সংবাদ

নুসরাত হত্যা: আদালতে রুহুল আমিন

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ২০, ২০১৯ , ৭:০৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ২০, ২০১৯, ৭:০৫ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রুহুল আমিন, জাবেদ ও কামরুন নাহারকে আদালতে উপস্থাপন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শনিবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সরাফ উদ্দিনের আদালতে তাদের উপস্থাপন করা হয়।

পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রুহুল আমিনকে শুক্রবার সোনাগাজী তাকিয়া রোড থেকে আটক করা হয়। কামরুন নাহার মনিকে ১৫ তারিখ সোনাগাজী থেকে গ্রেফতার করা হয়। ১৭ এপ্রিল একই আদালতে তাকে ৭ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়। অপরদিকে জাবেদকে ১৩ এপিল চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওইদিন থেকে তাকেও ৭ দিনের রিমান্ড দেয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সারাফ উদ্দিন আহমেদের আদালতে আবার তিন দিনের রিমান্ড দেয়।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক শাহ আলম জানান, জাবেদ এবং কামরুন নাহার মনি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবেন বলে কথা রয়েছে। এছাড়াও রুহুল আমিনের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ড আবেদন করা হবে। এ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার হওয়া এজহারের আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে জাবেদ ও কামরুন নাহার মনির নাম উল্লেখ করেন।

তারা জানায়, জাবেদ ও মনি সরাসরি কিলিং মিশনে অংশগ্রহণ করে। জাবেদ নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। মনি বোরকা সংগ্রহ এবং নুসরাতের হাত পা চেপে ধরে আগুন লাগিয়ে দেয়। অপরদিকে এ দুজনের জবানবন্দিতে উঠে আসে রুহুল আমিন এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে জানতেন। কিলিং অপারেশনের পর কিলাররা রুহুল আমিনকে ফোন করে, তখন রুহুল আমি বলে আমি জানি তুমি চলে যাও।

উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করেছে, এমন সংবাদ দিলে সে (নুসরাত) ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যায়। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ জন নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়।

অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ৮ এপ্রিল রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।

ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত এজহারের ৮ জন গ্রেফতারসহ মোট ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ৪ জন। ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকেও আটক করেছে পিবিআই। রুহুল আমিন নুসরাতের প্রতিষ্ঠান সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি। এ কমিটি অবশ্য শুক্রবারই বাতিল হয়ে গেছে।