মোদির হেলিকপ্টারে তল্লাশি ঘিরে বিতর্ক

আগের সংবাদ

দল গোছানোর মিশনে মাঠে নামছেন কেন্দ্রীয় নেতারা

পরের সংবাদ

বিজিএমইএ ভবন

মালপত্র সরাতে এক সপ্তাহ দিল রাজউক

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৯, ২০১৯ , ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

Avatar

দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিল তার পুরো সৌন্দর্য ফিরে পাচ্ছে। বিজিএমইএ ভবনটি ভেঙে ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ তাদের সময়ের মধ্যেই ভবন ছেড়ে দিয়েছেন। তবে এখনো কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সরে যেতে পারেনি। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবন থেকে মালামাল সরিয়ে নিতে আবারো সময় দেয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার সিলগালা করে দেয়া হলেও গতকাল বৃহস্পতিবার আবার ভবনটি খুলে দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। মালপত্র সরাতে আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছে রাজউক। এর আগে ডিবিএল গ্রæপের পক্ষ থেকে রাজউকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়। এদিকে বিজিএমইএ ভবন ভাঙা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও আদালত নমনীয় হবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
বিজিএমইএ ভবনের বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আলোচনা। আদালতের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ তাদের নতুন ঠিকানায় চলে যায়। কিন্তু উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ১২ এপ্রিলের মধ্যে ভাঙতে পারেনি রাজউক। বাংলা নববর্ষ ও সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ভবনটি ভাঙার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয় গত মঙ্গলবার। সেদিন সকাল থেকে ভবনের প্রতিষ্ঠানগুলোকে মালপত্র সরিয়ে নেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। সন্ধ্যা ৭টার পর ভবনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেয়া হয়। সাড়ে ৭টার দিকে ভবনের মূল ফটকটিও করে দেয়া হয় সিলগালা। জানা যায়, ডিনামাইট ব্যবহার করে ভেঙে ফেলা হবে বিজিএমইএ ভবনটি, যার নজির বাংলাদেশে আর নেই। তবে এজন্য গত বুধবার এ বিষয়ে একটি দরপত্র আহবান করে সংস্থাটি। ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত দরপত্র জমা দেয়ার সুযোগ রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভবনের ভেতরে থাকা অবশিষ্ট মালপত্র সরিয়ে নিতে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে বারবার রাজউকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ১৮ এপ্রিল রাজউকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়, ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মালপত্র সরিয়ে নিতে পারবে বিজিএমইএ ও ভবনের ভেতরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিজিএমইএ ভবনে থাকা ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আজকের (গতকাল বৃহস্পতিবার) মধ্যেই আমাদের সব জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে। আমি সাতদিনের আবেদন করেছি। তারা আজকে নিয়ে যেতে বলেছে। এগুলোতে ফরেন কারেন্সি আছে। তাই তারা বাধা দিবেন না আশা করি। গুলশানে আমাদের আরেকটি অফিসে, এমনকি বাসা বাড়িতে নেয়া হচ্ছে। আজ প্রায় ৬০০ লোক কাজ করছে। আমাদের চারটি ফ্লোর ছিল। তার অনেক মালপত্র রয়েছে। এজন্য সময় আরো বেশি লাগতে পারে। ২৫ তারিখ পর্যন্ত আমাদের সময় দেয়া হয়েছে রাজউকের পক্ষ থেকে। এক্ষেত্রে রপ্তানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটার সঙ্গে রপ্তানির কোনো সম্পর্ক নেই। তবে বিজিএমইএর নতুন ভবনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন না করলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।
জানতে চাইলে রাজউক বোর্ডের সদস্য (উন্নয়ন) মেজর ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (অবসরপ্রাপ্ত) ভোরের কাগজকে বলেন, ভবনে থাকা একাধিক প্রতিষ্ঠানই আবেদন করেছে। আমরাও এ বিষয়ে সময় দিয়েছি। মালামাল নষ্ট করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এ অবৈধ বিল্ডিংকে ভেঙে ফেলা। আশা করি আগামী মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তারা সমস্ত মালামাল নিয়ে যেতে পারবে। তারা এই সময়ের মধ্যে যেতে না পারলেও তাদের আবার সময় দেয়া হবে। এদিকে আমাদের অন্যান্য কার্যক্রমও চলছে। বিষয়টি নিয়ে রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) খন্দকার অলিউর রহমান বলেন, ১৬ এপ্রিল আমরা বিজিএমইএ ভবন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সিলগালা করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তখনও ভবনটির ভেতরে কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার্য জিনিসপত্র থেকে যায়। তারা বৃহস্পতিবার সকালে মালপত্র সরিয়ে নিতে রাজউকের কাছে আবেদন করেছে। ভবন ভাঙার আগ পর্যন্ত আবেদন সাপেক্ষে তারা মালপত্র সরিয়ে নিতে পারবেন।
এদিকে ভবন ভাঙতে সময় চেয়ে করা আবেদন নিয়ে চলছে বিতর্ক। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম গতকাল সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে বলেন, বিজিএমইএ ভবন ভাঙতে আপিল বিভাগের নির্দেশনা রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে আদালত নমনীয় হবে না। সময় চেয়ে করা আবেদন আদালত অবমাননা হবে কি-না এমন প্রশ্নে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এ ধরনের কোনো আবেদন করা হলে তা আদালতে যাবে এবং সেটা আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এর আগে বুধবার বিজিএমইএ ভবন ভাঙার জন্য এক বছর সময় চেয়ে আপিল বিভাগে করা আবেদন তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহার চেয়ে বিজিএমইএ সভাপতিকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। সময় চেয়ে করা আবেদন যদি প্রত্যাহার করা না হয় তাহলে প্রতিষ্ঠাটির সভাপতির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে মামলা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান। তবে বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। বিষয়টি তিনি জানেন না বলেও জানান। বিজিএমইএ ভবন নিয়ে আদালতে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, আমরা নোটিশ দিয়েছি। তারা নোটিশের উত্তর না দিলে আদালত অবমাননার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভাপতির বক্তব্যের বিষয়ে তিনি বলেন, সভাপতি যদি আবেদন না করে থাকেন তবে আদালতে এ আবেদন কিভাবে আসল। আবেদনে স্পষ্ট অক্ষরে লেখা আছে প্রেসিডেন্ট বিজিএমইএ এবং সেই আবেদন ফাইল করা হয়েছে ল ইয়ার সিগনেচার করে কোর্ট ফি দিয়ে রেজিস্ট্রেশনে নাম উঠানোর পরেই আমরা তথ্যটা পেয়েছি। কাজে অবশ্যই আবেদন করা হয়েছে। সভাপতি যদি এ আবেদন না করে থাকেন তবে যারা ফাইল করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না কেন?
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে, যা ২০১৬ সালের ২ জুন আপিল বিভাগে খারিজ হয়। রায়ে বলা হয়, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস ও পরে সাত মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ গত বছর নতুন করে এক বছর সময় পায় সংগঠনটি। সে সময় তারা মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না।