মালপত্র সরাতে এক সপ্তাহ দিল রাজউক

আগের সংবাদ

সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পণ্য রপ্তানি শুরু

পরের সংবাদ

আ.লীগের যৌথসভা আজ

দল গোছানোর মিশনে মাঠে নামছেন কেন্দ্রীয় নেতারা

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৯, ২০১৯ , ১২:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০১৯, ৪:১৯ অপরাহ্ণ

Avatar

তৃণমূলের কোন্দল নিরসন, সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠন শক্তিশালী, উপজেলা নির্বাচনে নৌকার বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকা না থাকা, সারা দেশে ৮টি সাংগঠনিক টিম গঠন ও সফরসহ দলীয় ও জাতীয় নানা ইস্যুতে চূড়ান্ত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আজ শুক্রবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদের যৌথসভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে টানা তিন শুক্রবার সাংগঠনিক নানা বিষয় নিয়ে দলটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৯ মার্চ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর, ৫ এপ্রিল কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ ও ১২ এপ্রিল উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তিনটি বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত হয়। গত তিনটি সভার সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হবে আজকের যৌথসভায়। এই সভা থেকেই আসবে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক নানা দিক-নির্দেশনা।
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একজন সদস্য ভোরের কাগজকে জানান, আগামী অক্টোবরে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনকে সফল করতে আমরা বরাবরই জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করে থাকি। দেশীয় রাজনীতিসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষকে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি বিশ্বের অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না। সে বিষয়টি নিয়ে এখন থেকেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। এর অংশ হিসেবে তৃণমূলে প্রতিটি জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়নে সংগঠনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ সব ইউনিটে সম্মেলন করে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দল ক্ষমতায় থাকায় অনেক সুবিধাভোগী সংগঠনে ভিড়েছে। তারা কৌশলে সরকার ও দল থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে। তাদের চাপাচাপির ফলে দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতারা হারিয়ে যাচ্ছেন। এসব ঠেকানোর
সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ জন্য ৮টি বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদক ও সদস্যের সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি সারা দেশ সফর করবে। ইতোমধ্যে সেই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
আওয়ামী লীগের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, জাতীয় সম্মেলনের প্রস্তুতির পাশাপাশি মুজিববর্ষ উদযাপনে কাজ করবে গঠিত ৮টি টিম। তৃণমূল গোছানোর পাশাপাশি মুজিববর্ষ উদযাপনে কমিটি গঠন করা হবে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারে দলীয় প্রতীক থাকবে কিনা, সে বিষয়টি নিয়েও বিগত সভাগুলোতে আলোচনা হয়েছে। সে বিষটিও আজকের যৌথসভায় আলোচনা হতে পারে। উপজেলা নির্বাচনে যারা নৌকার বিরোধিতা করেছে, তাদের তালিকা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। নৌকার বিরোধিতাকারীরা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। প্রাথমিকভাবে তাদের শোকজের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে আরো কী সিদ্ধান্ত হবে, তা আজকের যৌথসভায় স্পষ্ট হবে।
এদিকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে যারা থাকবেন, তারা দলীয় কোনো পদে থাকতে পারবেন কিনা- এ নিয়ে আজকের যৌথসভায় আলোচনার কথা রয়েছে। আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একজন সদস্য জানান, এ বিষয়টি নিয়ে বিগত সভাগুলোতে কিছুটা আলোচনা হলেও তা জোরালো ছিল না। আর এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি। তবে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, যারা জনপ্রতিনিধি হবেন, তাদের কেউ দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদে থাকতে পারবেন না। এ ধরনের কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়নি। এসব নিয়ে যা লেখা হচ্ছে বা বলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ওয়ান-ইলেভেনে যারা বঙ্গবন্ধুকন্যাকে মাইনাস করার ফর্মুলায় লিপ্ত ছিল, তারাই এ ধরনের কথা ছড়াতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।