২২ এপ্রিল শবে বরাতের ছুটি

আগের সংবাদ

এবারের নববর্ষ পালন ও আমাদের জাতিসত্তা

পরের সংবাদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি

প্রতিকার নয় প্রতিরোধ জরুরি

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৭, ২০১৯ , ১০:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৯, ১০:০৮ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

শিক্ষকতার মতো সম্মান আর মর্যাদাপূর্ণ পেশার আড়ালে যৌন নিপীড়ক হয়ে উঠছে কিছু শিক্ষক। প্রতিবাদ করায় পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনা ঘটছে। ফলে আদর্শবান শিক্ষকরা বিষয়টি নিয়ে বিব্রতবোধ করছেন। আর আস্থাহীনতায় ভুগছেন অভিভাবকরা। সম্প্রতি সোনাগাজীতে ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়েরের ঘটনায় গত ৬ এপ্রিল মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাতকে হাত-পা বেঁধে আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়।

তার নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে সারাদেশে এখনো তোলপাড় চলছে। সোনাগাজীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রীরা প্রায়ই যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে খবর উঠে আসছে। গতকাল ভোরের কাগজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার স্কুল-মাদ্রাসায় শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর নীরবে চলে যৌন হয়রানি। ভয়ে, লজ্জায় ও সামাজিক সম্মানহানির কথা চিন্তা করে শিক্ষার্থীরা সব কিছু নীরবে চেপে যেতে বাধ্য হয়।

অনেক সময়ই যৌন হয়রানির বিষয়টি তারা অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বা সহপাঠীদের কাছে বলতেও বিব্রতবোধ করে। সাহস করে দুয়েকজন শিক্ষার্থী মুখ খুললেও প্রতিকার পায় না, বরং প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে যায়। নৈতিকতা বর্জিত একশ্রেণির শিক্ষকের লাম্পট্যে বহু ছাত্রীর সর্বনাশ ঘটেছে। গত পাঁচ বছরে সারা দেশে সহ¯্রাধিক ছাত্রী এসব শিক্ষকের যৌন লালসার শিকার হয়েছে।

একই রকম বর্বরতার ফাঁদে আটকে আছে আরো অসংখ্য ছাত্রী। তাদের কারো শিক্ষাজীবন ধ্বংস হয়ে গেছে, চুরমার হয়েছে সব স্বপ্ন। শিক্ষক নামধারী কিছু লম্পটের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাধ্যমিক স্কুলপড়–য়া ছাত্রী এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিশু ছাত্রীরা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। এটাকে পশুত্ব ছাড়া কী বলব। মানুষের মধ্যে যে পাশবিক প্রবৃত্তি রয়েছে তারই প্রকাশ। এই ভাইরাস থেকে মুক্তির পন্থা ঠিক করা খুবই কঠিন।

এই সমস্যার দ্রুত কোনো সমাধান হবে বলে মনে করি না। শিক্ষাঙ্গনে যৌন নিপীড়ন রোধে উচ্চ আদালত ২০০৯ সালে একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেখানে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন নিপীড়নবিরোধী নীতিমালা প্রণয়ন ও কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি রাষ্ট্রকেও যৌন নিপীড়নবিরোধী আইন প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এই নির্দেশনা পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি। আমরা চাই আদালতের এই নির্দেশনা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর করা হোক। দেশে যৌন নিপীড়নবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হোক।