এবারের নববর্ষ পালন ও আমাদের জাতিসত্তা

আগের সংবাদ

বিশ্বকাপের সেরা পাঁচেই থাকতে চান রুবেল

পরের সংবাদ

গড়ে তুলুন ডিজিটাল স্কুল

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৭, ২০১৯ , ১০:২৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৭, ২০১৯, ১০:২৩ অপরাহ্ণ

মোস্তাফা জব্বার

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও কলাম লেখক।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বহুলাংশ বেসরকারি খাত দিয়ে পরিচালিত। আমরা এটি প্রত্যাশা করতে পারি না যে, সরকার সব স্কুল ডিজিটাল করবে বা সরকারের কাছ থেকে কম্পিউটার পাওয়ার পর কম্পিউটার ল্যাব ও ডিজিটাল ক্লাসরুম তৈরি হবে। বরং আমি মনে করি, আমাদের সবারই দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে যুক্ত হওয়া। নিজেদের অবদান যদি নিজেরা না রাখি তবে নিজের বিবেকের কাছে কি আমরা স্পষ্ট থাকতে পারব? এটি সুখের বিষয় যে, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর বা প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে আমাদের সচেতনতা অনেক বেড়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিগত দশকের সবচেয়ে যুগান্তকারী স্লোগানটি হলো ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। স্লোগান হিসেবে এটি যত বেশি আলোচিত সেই অনুপাতে এর অন্তর্গত বিষয়াদি নিয়ে ততটা আলোচনা হয় না। ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগান দাতা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে তেমন বড় ধরনের প্রকাশনা, সভা, সেমিনার বা আলোচনা সভার আয়োজন হয় না। এর দর্শন, প্রয়োগোক্ত, দিকনির্দেশনা ইত্যাদি আলোচনা প্রধানত সরকারের মাঝেই সীমিত হয়ে আছে। বিগত এক দশকে সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতদিনে সম্ভবত এটি স্পষ্ট হয়েছে যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বানাতে সরকার, শিক্ষা ও জীবনধারা গড়ে তোলার পাশাপাশি অবকাঠামো গড়তে হবে। আমি নানাভাবে এসব বিষয় নিয়ে কথা বলি। এর মাঝে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্কুলগুলোকে ডিজিটাল করা।

ডিজিটাল শিক্ষা বিষয়ে আমি এবার যা বলছি তা হলো, বাংলাদেশের মতো একটি অতি জনবহুল দেশের জন্য ডিজিটাল রূপান্তর ও জ্ঞানভিত্তিক রূপান্তরের প্রধানতম কৌশল হতে হবে এর মানবসম্পদকে সবার আগে রূপান্তর করা। এ দেশের মানবসম্পদের চরিত্র হচ্ছে যে, জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই তিরিশের নিচের বয়সী। এই জনসংখ্যারও বিরাট অংশ এখন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করে কেরানি হওয়ার দক্ষতা অর্জনে নিয়োজিত। অন্যরা প্রাতিষ্ঠানিক-অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণে সক্ষম। এদের দক্ষ জ্ঞানকর্মী বানাতে হলে প্রথমে প্রচলিত শিক্ষার ধারাকে বদলাতে হবে। এ জন্য আমরা আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কৃষি শ্রমিক বা শিল্প শ্রমিক গড়ে তোলার লক্ষ্যটিকে জ্ঞানকর্মী তৈরি করার লক্ষ্যে পরিবর্তন করতে পারি। আমাদের নিজের দেশে বা বাইরের দুনিয়াতে কায়িক শ্রমিক, কৃষি শ্রমিক ও শিল্প শ্রমিক হিসেবে যাদের কাজে লাগানো যাবে তার বাইরের পুরো জনগোষ্ঠীকে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে সক্ষম জ্ঞানকর্মীতে রূপান্তর করতে হবে। বস্তুত প্রচলিত ধারার শ্রমশক্তি গড়ে তোলার বাড়তি কোনো প্রয়োজনীয়তা হয়তো আমাদের থাকবে না। কারণ যে তিরিশোর্ধ্ব জনগোষ্ঠী রয়েছে বা যারা ইতোমধ্যেই প্রচলিত ধারার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা পেয়েছে তাদের প্রচলিত কাজ করার দক্ষতা রয়েছে এবং তারাই এই খাতের চাহিদা মিটিয়ে ফেলতে পারবে। ফলে নতুন প্রজন্মকে ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার সহায়তায় জ্ঞানকর্মী বানানোর কাজটাই আমাদের করতে হবে। এর হিসাবটি একেবারেই সহজ। বিদ্যমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অবিলম্বে জ্ঞানকর্মী সৃষ্টির কারখানা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটি বস্তুত একটি রূপান্তর। প্রচলিত দালানকোঠা, চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চি বহাল রেখে এর শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার বিষয়বস্তু পরিবর্তন করতে হবে।

এই কৌশলটিকে অবলম্বন করার জন্য আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হলো পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে বদলানো। বিরাজমান শিক্ষাকে একটি ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থায় রূপান্তর করার মধ্য দিয়েই কেবল এই লক্ষ্য অর্জন করা যেতে পারে। পাঠক্রম, পাঠদান পদ্ধতি, মূল্যায়ন সব কিছুকে ডিজিটাল করেই এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এ জন্য জাতিগতভাবে কাজ আমরা শুরু করেছি। একটি বড় উদ্যোগ হলো বাধ্যতামূলক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিক্ষা। ২০১৫ সালের মাঝেই আমাদের স্কুলের ষষ্ঠ-সপ্তম-অষ্টম-নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি সবার জন্য বাধ্যতামূলক হয়েছে। পরিকল্পনা আছে একে প্রাথমিক স্তরেও বাধ্যতামূলক করার। আমরা এরই মাঝে সরকারিভাবে ২৩ হাজার ৫০০ ডিজিটাল ক্লাসরুম তৈরি করেছি। ১০ হাজারের বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আমরা শিক্ষার জন্য আলাদাভাবে নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তুলছি। স্থাপন করছি ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়। তৈরি করা শুরু করেছি ডিজিটাল কনটেন্টস। আমার নিজের হাতেই রয়েছে নার্সারি, কেজি, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ডিজিটাল শিক্ষার জন্য সফটওয়্যার। দেশজুড়ে গড়ে তোলা আনন্দ মাল্টিমিডিয়া ও ডিজিটাল স্কুল ছাড়াও হাজার হাজার স্কুল ও লাখো শিক্ষার্থী এসব ইন্টারএ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার দিয়ে পড়াশোনা করছে। স্কুল ব্যবস্থা বা ক্লাসরুম ব্যবস্থাপনার জন্যও সফটওয়্যারের ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তবে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত ডিজিটাল রূপান্তরের যে প্রয়াস রয়েছে উচ্চ শিক্ষা বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে তেমনটা দৃশ্যমান নয়। প্রথমেই বলা যেতে পারে শিক্ষাকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদান করতে প্রাথমিক করণীয় কি হতে পারে।

ক. প্রথমত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি শিশু শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলকভাবে পাঠ্য করতে হবে। প্রাথমিক স্তরে ৫০ নম্বর হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে বিষয়টির মান হতে হবে ১০০। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ইংরেজি-বাংলা-আরবি নির্বিশেষে সবার জন্য এটি অবশ্যপাঠ্য হবে। খ. দ্বিতীয়ত, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি ২০ জন ছাত্রের জন্য একটি করে কম্পিউটার হিসেবে কম্পিউটার ল্যাব গড়ে তুলতে হবে। এই কম্পিউটারগুলো শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহার করতে শেখাবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা যাতে সহজে নিজেরা এমন যন্ত্রের স্বত্বাধিকারী হতে পারে রাষ্ট্রকে সেই ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষায় ইন্টারনেট ব্যবহারকে শিক্ষার্থী-শিক্ষক-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়ত্তের মাঝে আনতে হবে। প্রয়োজনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহকে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিতে হবে। গ. তৃতীয়ত, প্রতিটি ক্লাসরুমকে ডিজিটাল ক্লাসরুম বানাতে হবে। প্রচলিত চক, ডাস্টার, খাতা কলম বইকে কম্পিউটার, ট্যাবলেট পিসি, স্মার্ট ফোন, বড় পর্দার মনিটর/টিভি বা প্রজেক্টর দিয়ে স্থলাভিষিক্ত করতে হবে। আমি নিজে খুব স্বল্প খরচে ডিজিটাল ক্লাসরুম গড়ে তোলার পদ্ধতি নিচে বর্ণনা করব। ঘ. চতুর্থত, সব পাঠ্য বিষয়কে ডিজিটাল যুগের জ্ঞানকর্মী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য উপযোগী পাঠক্রম ও বিষয় নির্ধারণ করে সেসব কনটেন্টসকে ডিজিটাল কনটেন্টে পরিণত করতে হবে। পরীক্ষা পদ্ধতি বা মূল্যায়নকেও ডিজিটাল করতে হবে। অবশ্যই বিদ্যমান পাঠক্রম হুবহু অনুসরণ করা যাবে না এবং ডিজিটাল ক্লাসরুমে কাগজের বই দিয়ে শিক্ষাদান করা যাবে না। কনটেন্ট যদি ডিজিটাল না হয় তবে ডিজিটাল ক্লাসরুম অচল হয়ে যাবে। এসব কনটেন্টকে মাল্টিমিডিয়া ও ইন্টারএ্যাকটিভ হতে হবে। ঙ. পঞ্চমত, সব শিক্ষককে ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদানের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। সব আয়োজন বিফলে যাবে যদি শিক্ষকরা ডিজিটাল কনটেন্ট, ডিজিটাল ক্লাসরুম ব্যবহার করতে না পারেন বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করতে না জানেন। তারা নিজেরা যাতে কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন তারও প্রশিক্ষণ তাদের দিতে হবে। এই পাঁচটি ধারার বিস্তারিত কাজগুলোতে আরো এমন কিছু থাকবে যা আমরা এখানে উল্লেখই করিনি। সেসব কাজসহ ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থার সব কাজ ২০২৩ সালের মাঝে সম্পন্ন করতে হবে।
উপরের প্রস্তাবনাটি সম্পর্কে আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা কেবলমাত্র সরকারের কাজ নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বহুলাংশ বেসরকারি খাত দিয়ে পরিচালিত। আমরা এটি প্রত্যাশা করতে পারি না যে, সরকার সব স্কুল ডিজিটাল করবে বা সরকারের কাছ থেকে কম্পিউটার পাওয়ার পর কম্পিউটার ল্যাব ও ডিজিটাল ক্লাসরুম তৈরি হবে। বরং আমি মনে করি, আমাদের সবারই দায়িত্ব হচ্ছে শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তরে যুক্ত হওয়া। নিজেদের অবদান যদি নিজেরা না রাখি তবে নিজের বিবেকের কাছে কি আমরা স্পষ্ট থাকতে পারব? এটি সুখের বিষয় যে, শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর বা প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়ে আমাদের সচেতনতা অনেক বেড়েছে। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমি নিজে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার জন্য অনেক আগে থেকেই কাজ করছি। ১৯৯৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর আমি ঢাকার গাজীপুরে প্রথম আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল চালু করি। ২০০০ সাল থেকে সেই স্কুলটি চালু হয়। ২০০৩ সাল নাগাদ নতুন নতুন স্কুল জন্ম নেয়। কিন্তু স্কুলের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট না পাওয়ায় স্কুলগুলো পুরোপুরি ডিজিটাল হতে পারেনি। এবার যেহেতু ডিজিটাল কনটেন্ট হাতের কাছেই রয়েছে সেহেতু আমি আহ্বান জানাই আসুন আমরা দেশজুড়ে ডিজিটাল স্কুল গড়ে তুলি।

কেমন করে ডিজিটাল স্কুল করবেন : ডিজিটাল বা মাল্টিমিডিয়া স্কুল সাধারণ স্কুলই হবে। স্কুল গড়ে তোলার সব অবকাঠামো নিজেকেই করতে হবে। এতে বিনিয়োগ হবে উদ্যোক্তার। সঙ্গত কারণেই এর স্বত্বও থাকবে উদ্যোক্তার। উদ্যোক্তা নিজেই এটি পরিচালনা করবেন। লাভ লোকসান বা আয়-ব্যয় সবই উদ্যোক্তার। কেবলমাত্র বিজয় ডিজিটাল স্কুল বা আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল নামে স্কুল করতে হলে ফ্রান্সাইসি চুক্তি করতে হবে। কারণ এই নামটি ট্রেডমার্ক নিবন্ধিত। প্রচলিত স্কুলের মতো করেই স্কুল গড়ে তোলার কথা ভাবতে হবে। অন্যদিকে বিদ্যমান সরকারি-বেসরকারি স্কুলকেও ডিজিটাল স্কুল বা মাল্টিমিডিয়া স্কুলে রূপান্তর করা যাবে।

সব ক্ষেত্রেই দুটি নতুন বিষয় মনে রাখতে হবে।

ক. শিশু শ্রেণি থেকে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। খ. ক্লাসরুমগুলো পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ক্লাসরুমে রূপান্তরিত করতে হবে। ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করতে হবে। স্কুলের হাজিরা থেকে ব্যবস্থাপনা এবং ক্লাসরুম শিক্ষা ডিজিটাল করতে হবে।

উদ্যোক্তা ২০২০ সালের জানুয়ারিতে স্কুল শুরু করতে পারেন। এখনই উদ্যোগ নিয়ে স্কুল তৈরি করে ফেলা যায়। জায়গা, অবকাঠামোর সঙ্গে শিক্ষিকা প্রশিক্ষণ দেয়া যায়। বিদ্যমান স্কুলকে রূপান্তর করা তো আরো সহজ। কেবলমাত্র ডিজিটাল রূপান্তরটাই সেখানে জরুরি। প্লে-নার্সারি-কেজি, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি আছে বলে এই ক্লাসগুলো দিয়েই শুরু করা যায়। ২০ সালে ৫ম শ্রেণিও চালু করা যাবে। প্রচলিত স্কুলের পাঠক্রমে শিশু শ্রেণি থেকে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। এদের জন্য বাজারে আমার লেখা বইও রয়েছে। এর সঙ্গে ডিজিটাল ক্লাসরুম গড়ে তুলতে হবে। এখন কেবল একটি স্মার্ট টিভি যাতে এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চলে সেটা দিয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম চালু করা যেতে পারে। অন্য উপায়ও গ্রহণ করা যায়। একটি ল্যাপটপ কম্পিউটার ও একটি ৩২ ইঞ্চি পর্দার মনিটরের সঙ্গে স্পিকার যোগ করলেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষাদান শুরু করা সম্ভব। আমি এখন আর প্রজেক্টর ব্যবহার করার পক্ষে নই। যেসব সফটওয়্যার তৈরি হয়েছে সেগুলো চালানোর দক্ষতা অর্জন করাও সহজ। যে কোনো কম্পিউটার জানা মানুষ ২/৩ ঘণ্টায় পুরো সফটওয়্যারটি চালাতে পারবে। ১ম থেকে ৫ম শ্রেণির জন্য সরকারি বই এবং তার আগের ক্লাসগুলোর জন্য বিজয় ডিজিটালের বই পাঠ্য হতে পারে। এর সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে থাকতে হবে ইন্টারনেট। যেখানে ৪জি রয়েছে সেখানে ৪জি এবং যেখানে তা নেই সেখানে যা পাওয়া যায় তা দিয়েই ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু করতে হবে।

মোস্তাফা জব্বার : তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও কলাম লেখক।