দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মাঠজুড়ে সোনালী বোরোর ঢেউ

আগের সংবাদ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাটিচাপায় ২ শ্রমিকের মৃত্যু

পরের সংবাদ

হত্যার দায় স্বীকার করল নুর উদ্দিন ও শামীম

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৬, ২০১৯ , ১:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০১৯, ১:১৬ অপরাহ্ণ

Avatar

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার অন্যতম আসামি নূর উদ্দিন ও শাহদাত হোসেন শামীম। গত রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়া শুরু করেন আসামি নূর উদ্দিন। রাত সাড়ে ৯টায় তার জবানবন্দি নেয়া শেষ হয়। এরপর রাত দেড়টা পর্যন্ত জবানবন্দি দেন শাহদাত হোসেন শামীম।
পিবিআইয়ের ফেনীর দায়িত্বরত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম অনেক তথ্য দিয়েছেন। অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে তারা কীভাবে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কীভাবে কী করেছেন তা বিস্তারিত বলেছেন। সেই সঙ্গে তারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরো কয়েকজনের নামও জানিয়েছেন। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে বাকিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
তদন্ত সূত্র জানায়, যৌন হয়রানির মামলায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা গ্রেপ্তার হওয়ার পর উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নির্দেশে নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম অধ্যক্ষ মুক্তির জন্য আন্দোলন শুরু করেন। এ জন্য সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মকসুদ আলম তাদের ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন। এ ছাড়া মাদ্রাসার আরেক শিক্ষকও আন্দোলন জোরদার এবং নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার জন্য পাঁচ হাজার টাকা দেন।
সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া শাহাদাত হোসেন শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, নুসরাতের মা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার পর ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে ম্যানেজ করার দায়িত্ব নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন। নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়ার পর তিনি দৌড়ে নিচে নেমে দক্ষিণ দিকের প্রাচীর টপকে বের হয়ে যান। বাইরে গিয়ে আ.লীগ নেতা রুহুল আমিনকে ফোনে বিষয়টি জানান। রুহুল আমিন বলেন, আমি সব জানি। তোমরা পালিয়ে যাও।
নুসরাতের প্রতি নিজের ক্ষোভ থাকার কথা উল্লেখ করে শাহাদাত হোসেন শামীম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেন, দেড় মাস আগেও তিনি নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু নুসরাত তা প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি অপমানও করে। এ কারণে তিনি নিজেও নুসরাতের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন। যার ফলে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার নির্দেশে অন্যদের সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন তিনি।
স্বীকারোক্তিতে আরেক আসামি নূর উদ্দিন জানিয়েছেন, তার সঙ্গে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার ভালো সম্পর্ক ছিল। এ কারণেই অধ্যক্ষের নির্দেশে তারা নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে মারার সিদ্ধান্ত নেন। তবে ঘটনার সময় তিনি ভবনের নিচে ছিলেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী নুসরাতকে ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যান উম্মে সুলতানা পপি। ওই সময় ছাদে ছিলেন কামরুন নাহার মণি। নূর উদ্দিন আরো জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নানা সময়ে ছাত্রীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের যৌন হয়রানি করতেন।