নুসরাত হত্যা মামলা কামরুন্নাহার মনি আটক

আগের সংবাদ

হত্যার দায় স্বীকার করল নুর উদ্দিন ও শামীম

পরের সংবাদ

দক্ষিণ সুনামগঞ্জের মাঠজুড়ে সোনালী বোরোর ঢেউ

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৬, ২০১৯ , ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০১৯, ১২:৫৮ অপরাহ্ণ

Avatar

সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ছোট বড় ২৩টি হাওরে ফসলের মাঠ এখন সোনালী প্রান্তর। বোরো ধানের সোনালী চাদরে ঢাকা পড়েছে মাঠ। ছড়ায় ছড়ায় দুলছে কাঁচা পাকা ধান। নতুন ধানের মিষ্টি ঘ্রাণে এখন মৌ মৌ করছে মাঠ। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোথাও কোথাও আগাম জাতের ধান কাটার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তবে পুরোপুরি ধান কাটা শুরু হতে আরো দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবল থেকে আর কয়েকটি দিন রক্ষা পেলে চলতি বোরো মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
উপজেলায় এবার বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকেরা। অনুকূল পরিবেশ ও সরকারি বিভিন্ন সহযোগিতা পাওয়ায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এখন কৃষকরা সবুজ মাঠের দিকে থাকিয়ে ভাবে কবে জানি কষ্টের ফসল বাড়ীতে আনবে সবাইকে নিয়ে নতুন ধানের পিঠা খাবে,ধান গুলো গোলায় ভরবে। এভাবে আশায় আশায় দিন যাচ্ছে। মাঠ পানে চাইলে মনে হয় দখিনা বাতাসে সোনালী ফসল গুলো দুলছে । দখিনা বাতাসে মনটা ভরে যায় ।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় কৃষক পরিবারের সংখ্যা ২৬ হাজার ৯ শত ৩৫। উপজেলায় মোট কৃষি জমির পরিমান ২৪ হাজার ৬ শত ৩৫ হেক্টর। আবাদী জমির পরিমান ২৩ হাজার ৩ শত ৩৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এতে ৮৪ হাজার ৯ শত ৭৭ মেট্রিক টন চাউল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় হাইব্রিড জাতের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৮ শত ৬০ হেক্টর জমিতে, উফশী, ব্রি ২৮, ২৯ জাতের ধান আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯ শত ৮৭ হেক্টর জমিতে এবং স্থানীয় জাতের ৬শত ১০ হেক্টর। বিগত বছরে ২২ হাজার ২ শত ৩৫ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড,উফসী ও স্থানীয় পর্যায়ে বোর ধান আবাদ করা হয়েছে। চলতি বছর তা বেড়ে ২২ হাজার ২ শত ৫৫ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আরো ২০হেক্টর জমিতে বেশী চাষাবাদ হয়েছে।
একাধিক কৃষক জানান, বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। চলতি বছরে শিলা বৃষ্টিতে কোন কোন হাওরে ক্ষতি হলেও এবার তুলনায় অনেক বেশি ফলন হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন। তবে শিলা বৃষ্টি,অকাল বন্যা সহ যদি কোন প্রকৃতিক দূর্যোগ না ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নাগডোরা,দাউড়িকান্দি,দেখার হাওর,সাংহাইর হাওর ইত্যাদি এলাকায় ব্যাপক হারে এবার বোরোর আবাদ করেছে স্থানীয় কৃষকরা। কৃষক পরিবারের ছোট বড় সকল সদস্যের মুখে হাসি ফুটেছে। এ বছর জমিতে তেমন পোকার আক্রমণও হয়নি বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। ইতোমধ্যে স্থানীয় কৃষকরা ধান কাটা শুরু করেছেন।
বিভিন্ন জায়গায় কৃষক আগাম জাতের ব্রি ২৮, ২৯, ও হাইব্রিড এল সি- ৮ জাতের ধান কাটতে শুরু করেছেন। অনুক‚ল আবহাওয়া,সার,বীজ, ইত্যাদি কৃষিজ বিভিন্ন উপকরণ সঠিক সময়ে পাওয়ায় এবার বোরোর বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকরা।
জয়কলস ইউনিয়নের আসামপুর গ্রামের দেখার হাওরের কৃষক মন্তাজ আলী বলেন, আমি এবার খুব খুশি বোরোর চাষ করে। গতবারের তুলনায় এবার আমি অনেক বেশী ফসল তুলতে পারবো বলে আশা করছি। যদি কোন ঝড় বৃষ্টি না হয় তাহলে এবার বোরোর বাম্পার ফলন হবে। ইতোমধ্যে বোরো ধান পাকতে শুরু করেছে। কোন কোন এলাকায় আগাম বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী সপ্তাহ দু’একের মধ্যে আমার বোরো ধান কাটার উপযোগী হবে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সফি উল্লাহ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকির ফলে ফসল রক্ষা বাঁধ থেকে শুরু করে চলতি বোরো মৌসুমে সার, বীজ, ডিজেল ও বিদ্যুৎ সংকট না থাকায় বোরোর বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঝড় বৃষ্টি ও ডোবরার পানিতে ফসলী জমির ধান কিছুটা নষ্ট হবে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার সহ মাঠ সহকারি কর্মকর্তাগণ স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকদেরকে অনাবাদি জমিতে বোর ধান উৎপাদনে উৎসাহ দিচ্ছেন। তাই এবছর আবাদী জমির পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে।