১১ দফা দাবিতে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি

আগের সংবাদ

নুসরাত হত্যা মামলা কামরুন্নাহার মনি আটক

পরের সংবাদ

আইপিএল জুয়া জমজমাট : বাজিকররা সক্রিয়

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৬, ২০১৯ , ১২:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৬, ২০১৯, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

Avatar

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ঘরোয়া টি-২০ আসর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) শুরু হয়েছে ২৩ মার্চ। বিগ বাজেটের এ লিগে ভারতীয় ক্রিকেটারদের পাশাপাশি প্রতি ম্যাচে দলগুলোতে খেলতে পারছেন চারজন করে বিদেশি খেলোয়াড়। আইপিএলে খেলছেন বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও। ফলে এ দেশের ক্রীড়ামোদীদের মধ্যে যোগ হয়েছে বাড়তি উন্মাদনা। আর সে সুযোগে জমজমাট এ আসরকে ঘিরে সক্রিয় হয়ে উঠছে বাজিকররা। বাংলাদেশের চা স্টল থেকে শুরু করে পাঁচ তারকা হোটেলেও চলছে হরদম বাজি।
বোলিং ও ব্যাটিংয়ের আগ মুহূর্তে কোন বলে কী হতে পারে, এমন ধারণা নিয়ে চলছে শত থেকে লাখ টাকা বাজি। কোন খেলোয়াড় কত উইকেট নিতে পারে, কোন খেলোয়াড় কত রান করবেন, কে সেঞ্চুরি করবেন এমন সব নিয়ে চলছে বাজি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মাহাবুবুর রহমান গতকাল সোমবার বিকেলে ভোরের কাগজকে বলেন, আইপিএল ঘিরে সক্রিয় জুয়াড়িদের ব্যাপারে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। পাড়া-মহল্লা এমনকি অলিগলিতে যে সব স্থানে টিভিতে খেলা দেখানো হয় সে সব স্থানে গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়েছে। আইপিএল নিয়ে কোনো বাজি বা জুয়ার সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে স্পট ফিক্সিং বা বাজির রমরমা ব্যবসা চলছে বলে জানান মহানগর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা।
গত বছর আইপিএল চলাকালে ঢাকার বাইরে সৈয়দপুর, ডোমার, নালিতাবাড়ি, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন স্থানে শতাধিক জুয়াড়িকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে বাড্ডায় ক্রিকেট বাজিতে খুন হয়েছে এক যুবক। ২০১৪ সালের ১৩ এপ্রিল ভারতীয় এক জুয়াড়িকে ঢাকার গ্রেপ্তার করা হয়। আইপিএল খেলা চলাকালে রাস্তার মোড়ের দোকানগুলোতে ভালোভাবে চোখ রাখলেই দেখা যায়, সেখানে চলছে বাজির দর কষাকষি। তবে যারা বাজি ধরে তাদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৫ থেকে ২৫ বছর। রাজধানীর মতিঝিল, ওয়ারী, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, পুরান ঢাকা, ধানমন্ডি, জিগাতলা, মালিবাগ ও কামরাঙ্গীরচরে বাজিকরদের বিচরণ অনেক। রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভার, টঙ্গী ও নারায়ণগঞ্জেও রয়েছে বাজিকরদের তৎপরতা। জুয়াড়িদের এই ‘ব্যবসায়’ নগরীর অভিজাত এলাকার ধনীর দুলালরা বাজি ধরেন বিভিন্ন ভাবে। অভিজাত হোটেলে গিয়ে তাদের বাজি ধরার ধরনও কিছুটা ভিন্ন এবং ‘বিগ বাজেট’। বিভিন্ন ম্যাচ ঘিরে জুয়াড়িদের এ তৎপড়তা দেখা যায় গ্রামগঞ্জেও।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন মোড়ের দোকানগুলোতে চলছে জুয়ার বাজি। দলগত হার-জিত নির্ধারণ ছাড়া পাশাপাশি চলছে ওভার বা ‘বল বাই বল’ বাজি। জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বাজিকররা মাঠে গিয়ে বাজি ধরেন; কিন্তু আমাদের দেশে এক ধরনের জুয়াড়ি আছেন যারা বাজি ধরেন টিভির স্ক্রিনে খেলা দেখে। একটু ভালোভাবে খেয়াল করলেই দেখা যায়, যখন কোনো ধরনের খেলা চলে বিশেষ করে টি-২০ কিংবা একদিনের ম্যাচ হলে তো কথাই নেই, জটলা বেঁধে যায় মোড়ের ছোট দোকানগুলোতে। সরেজমিন আইপিএলের একটি খেলা চলাকালে মিরপুরের একাধিক চায়ের দোকানে গেলে দেখা যায় উপচেপড়া ভিড়। লক্ষ্য করতে বোঝা যায় বাজির দর কষাকষি এবং দেখা যায় টাকা হাতবদলের দৃশ্য। অনেক রিকশা চালককেও এমন জুয়ায় মাততে দেখা গেছে।
এদিকে শহর ও গ্রামে গড়ে উঠেছে জুয়ার বাজির ডিলার। এ ডিলাররাই মূলত বাজি নিয়ন্ত্রণ করে। বিভিন্ন ম্যাচকে ঘিরে ডিলাররা জুয়ার একটা রেট দিয়ে দেন। ম্যাচটি যদি সমান সমান কোনো দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় সে ক্ষেত্রে বাজির দরের হেরফের হবে ২০০ টাকা পর্যন্ত। আর শক্তিশালী দলের সঙ্গে দুর্বল দলের খেলা হলে বাজির দরের হেরফের নিম্নে ৫০০ টাকা থেকে কয়েকগুণ বেশি হয়ে থাকে। ডিলার যত বেশি বেশি ম্যাচের ডিল করে দিতে পারবেন তার লাভের অঙ্কটা তত বেশি। যে সব ডিলার লাখ লাখ টাকা ডিল করেন তাদের আবার থাকে কয়েকজন সাব-ডিলার। এরা মূলত ডিলারের কাছে কয়েকটি ম্যাচের ডিল নিয়ে তা মাঠ পর্যায়ে দিয়ে দেন।
জুয়ার ধরন সম্পর্কে উদাহরণ টেনে ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, কোনো ম্যাচে বাজির রেট ১৫-২০। অর্থাৎ কেউ যদি শক্তিশালী দল নিতে চান তাহলে তাকে ১ হাজার টাকা জিততে হলে ২ হাজার টাকা খাটাতে হবে। অন্যদিকে কেউ অপেক্ষাকৃত কম শক্তির দল নিলে সে ১ হাজার টাকা খাটিয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা জিততে পারবেন। এই যে মাঝখানে ৫০০ টাকার হেরফের এটাই মূলত ডিলারের লাভ। তিনি শুধু বাজি ধরিয়ে দিয়েই ৫০০ টাকা লাভ করছেন। ডিলারদের লাভ সবচেয়ে বেশি হয় ছোট দল জিতলে। আর বড় দল জিতলেও কোনো লোকসান নেই, কেননা বাজির নিয়ম অনুযায়ী, জয়ী বাজিকরের কাছ থেকে প্রতি হাজারে পঁচিশ থেকে পঞ্চাশ টাকা কেটে নেন ডিলার।
বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয় বেটিং সাইট ‘বেট ৩৬৫’। অ্যালেক্সার হিসেবে সাইটটি গ্লোবাল র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে রয়েছে। এই সাইটটি ভিজিট হচ্ছে লাখ লাখ বার। সাইটটিতে যে কোনো খেলার লাইভ স্ট্রিমিং দেখা যায়। নিয়মিতই পাওয়া যায় আপগ্রেড খবর; এমনকি তা আইপিএলের মতো জমকালো টি-২০ আসর কিংবা মৃতপ্রায় ঘরোয়া ফুটবলের ম্যাচ হলেও। ‘বেট ৩৬৫’ মূলত ক্রীড়াবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক বেটিং (বাজি ধরার) সাইট, যেখানে বিশ্বের যে কোনো স্থানের ১৮ বছর বা এর বেশি বয়সের যে কেউ যে কোনো খেলা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে বাজি ধরতে পারেন। সহজ পথে স্বল্প সময়ে ‘বড়লোক’ হতে গিয়ে অনেকে হারান সর্বস্ব। কেবল নিজেই অ্যাকাউন্ট খুলে জুয়ায় অংশ নেয়া বা বাজি ধরা হচ্ছে এমনটি নয়। বেট ৩৬৫ সাইটের অ্যাকাউন্ট কেনাবেচার ব্যবসাও জমে উঠছে দিনকে দিন। যে ব্যবসায় প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে। যেহেতু ১৮ বছরের নিচে কেউ এখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন না, তাই অন্যের অ্যাকাউন্ট কিনেই জুয়ায় তথা বাজিতে অংশ নিচ্ছে তারা। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বা মোবাইল সবকিছু দিয়েই এ সাইটে ব্রাউজ করা সম্ভব। এই সাইটে লেনদেন করা যায় ক্রেডিট কার্ড দিয়ে।
এবারের আসরে খেলছে ৮টি টিম। এর মধ্যে তারকা শিল্পী শাহরুখ খানের কলকাতা নাইটরাইডার্স, প্রীতি জিনতার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব, শিল্পা শেঠীর রাজস্থান রয়েলস, বিজয় মালিহার রয়েল চ্যালেঞ্জার ব্যাঙ্গালুরুর পাশাপাশি ভারতের শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানীর মুম্বাই ইন্ডিয়ানস রয়েছে লড়াইয়ে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে খেলছেন বিশ্বেসেরা অল রাউন্ডার বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের এই তারকা ক্রিকেটারকে কয়েক কোটি টাকায় কিনে নিয়েছে তারা। ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে চূড়ান্ত আসর।