দীপ্তিময় আলোর দিশারি

আগের সংবাদ

সিরাজের পৃষ্ঠপোষক রুহুল আমিন

পরের সংবাদ

বিজিএমইএ ভবন ভাঙবে কে?

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৪, ২০১৯ , ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৪, ২০১৯, ১১:৫৪ পূর্বাহ্ণ

Avatar

বিজিএমইএ ভবনে বাজছে বিদায়ের সুর। হাতিরঝিলের গলার কাঁটাখ্যাত এ ভবনটি খালি করে চলে যাচ্ছে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিলের সৌন্দর্য ফিরে পেতে এ বহুতল ভবনটি এখন ভেঙে ফেলার পালা। অথচ ভবনটি ভাঙবে কে? তা সঠিকভাবে জানে না কেউ।
আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বিজিএমইএকে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে হাতিরঝিলের ভবন ছাড়তে হবে। নির্দেশনা অনুসারে বিজিএমইএ তার সব কার্যক্রম বর্তমান ভবন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে উত্তরা থেকেই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কিন্তু হাতিরঝিলের ভবনটি ভাঙার বিষয়ে সঠিক কোনো সিদ্ধান্ত কেউ জানে না। বিজিএমইএর নেতারা বলছেন, বর্তমান ভবন ছেড়ে দেয়ার পর এটা হবে আদালত এবং সরকারের সম্পত্তি। তাই আদালতই ঠিক করবেন এই ভবনের ভাগ্য কী হবে? অপরদিকে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ভবন ছাড়ার পাশাপাশি বিজিএমইএর অর্থায়নে ভবনটি ভেঙে দিতে হবে। বিজিএমইএ যদি নিজেরা না ভাঙে; তাহলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ভবনটি ভাঙবে এবং অর্থায়ন করবে বিজিএমইএ।
বিজিএমইএ ভবন নিয়ে আদালতে রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ভোরের কাগজকে বলেন, বিজিএমইএ ভবন সরকারের সম্পত্তি বলাটা ভুল ধারণা। আদালত ভবনটি সরকারের পক্ষে বাজেয়াপ্ত করেনি। এই সম্পত্তিটি বিজিএমইএরই। বিজিএমইএ অবৈধভাবে ভবন করেছিল। তাদেরই ভাঙার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। বিজিএমইএ ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় চেয়েছিল। আদালত সময় দিয়েছেন। এখন ভবনটি যদি বিজিএমইএ না ভাঙে তবে আদালতের নির্দেশে রাজউক ভাঙবে। ভবনটি ভাঙতে কতদিন সময় নেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেশি সময় নেয়ার সুযোগ নেই। আশা করি, দুই

তিন সপ্তাহের মধ্যেই ভবনটি ভাঙতে পারবে। রাজউক এ বিষয়ে তৈরি আছে বলেই আমি জানি। কারণ, আরো দুই বছর আগেই রাজউক বলেছিল- সব আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা আছে। ভবন ভাঙতে রাজউকের কার্যক্রমের সব খরচ বহন করতে হবে বিজিএমইএকে। এ ব্যাপারে রাজউক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান বলেন, বিজিএমইএ ভবন বিজিএমইএর অর্থায়নে ভাঙার নির্দেশ রয়েছে। তারা ব্যর্থ হলে রাজউক ভাঙবে। তবে ভাঙার খরচ বিজিএমইএ বহন করবে। বিষয়টি নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুসারে বিজিএমইএ তার সব কার্যক্রম বর্তমান ভবন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে উত্তরা থেকেই আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ভবনটি কবে ভাঙা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আদালতের ব্যাপার; আদালত সিদ্ধান্ত নেবে বিজিএমইএ সরে গেলে কী করবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজউক ভবনটি ভাঙতে প্রায় দুই বছর আগেই সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কন্ট্রোলড ডিমোলিশন বা নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতিতে রাজধানীর এই ১৫ তলা বিজিএমইএ ভবনটি মাত্র এক মিনিটে ভেঙে ফেলার প্রস্তুতি ছিল রাজউকের। তবে ভবনের পাশে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেল। রয়েছে কারওয়ান বাজার, নিউ ইস্কাটন এলাকা। ভাঙার পর চারদিক ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে যাবে। এর পরিবেশগত প্রভাব কতটা বিরূপ হতে পারে, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ দল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে।
এ বিষয়ে রাজউক বোর্ডের সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (অব.) ইঞ্জিনিয়ার শামসুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা বিজিএমইএ ভবন ভাঙার জন্য প্রস্তুত আছি। আদালতের নির্দেশনা পেলেই ভাঙা হবে। তবে ভবনটি কীভাবে ভাঙা হবে সে নিয়ে আলোচনা চলছে। হাতিরঝিলের প্রকল্প পরিচালক জেনারেল সাঈদের সঙ্গে আলোচনা করছি। ১২ এপ্রিলের পর আমরা বিষয়টি নিয়ে সবাই বসে ভাঙার পদ্ধতি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেব।
তিনি বলেন, মূলত সেনাবাহিনীতে কন্ট্রোলড ডিমোলিশন বিষয়ে পড়ানো হয়। তাই আর্মি এক্সপার্টদেরও এখানে যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। কন্ট্রোলড ডিমোলিশন পদ্ধতিতে একটি ভবনের বিভিন্ন অংশে বিস্ফোরক বসিয়ে আশপাশের সবার নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই ভবন ধসানোর কাজটি সম্পন্ন করতে হয়। তাই ভবন ভাঙার কাজটি এক মিনিটের কথা বলা হলেও পরিবেশগত যাবতীয় নিরাপত্তা আগেই নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে তথ্য-প্রযুক্তিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেন, র‌্যাংগস ভবন অপরিকল্পিতভাবে ভাঙার কারণে অন্তত নয় জন শ্রমিক মারা গিয়েছিলেন। তাই নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পদ্ধতিতে ভাঙতে হলে বিজিএমইএ ভবনের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরক বসানোর পাশাপাশি নিরাপত্তা বেষ্টনী দিতে হবে। যেহেতু এ দেশে এই পদ্ধতি আগে আর ব্যবহৃত হয়নি, তাই এখানে বিদেশি বিশেষজ্ঞ রাখতেই হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্ট এক রায়ে বিজিএমইএর বর্তমান ভবনটিকে ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে বিজিএমইএ লিভ টু আপিল করে। ২০১৬ সালের ২ জুন আপিলটি খারিজ করে দেয়া রায়ে আপিল বিভাগ বলেন, ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের কপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজউককে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেয়া হলো। পরে ভবন ছাড়তে উচ্চ আদালতের কাছে সময় চায় বিজিএমইএ। প্রথমে ছয় মাস ও পরে সাত মাস সময়ও পায় তারা। সর্বশেষ, গত বছর নতুন করে এক বছর সময় পায় সংগঠনটি। সে সময় তারা মুচলেকা দেয়, ভবিষ্যতে আর সময় চাওয়া হবে না।