সুদানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইবনে আউফের পদত্যাগ

আগের সংবাদ

রাজবাড়ীতে ট্রাক চাপায় রিকশাচালক নিহত

পরের সংবাদ

আটশ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ইউনাইটেড এয়ার

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১৩, ২০১৯ , ১২:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১৩, ২০১৯, ১২:০৬ অপরাহ্ণ

Avatar

পুঁজিবাজার থেকে সোয়া ৮০০ কোটি টাকা তুলে নিয়ে লাপাত্তা ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের উদ্যোক্তা-পরিচালকরা। বিনিয়োগকারীদের কাছে ৭০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রি করে এই বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে কোম্পানি ছেড়েছেন তারা। ৭০ টাকার শেয়ার যা এখন ২.৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ইউনাইটেড এয়ারের ফাঁদে পড়ে সব হারিয়ে পথে বসেছেন অসংখ্য বিনিয়োগকারী। নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই প্রতারণার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থায় নেয়নি। প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে থাকা শেয়ারগুলোর পাশাপাশি ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে পাওয়া বোনাস শেয়ার বিক্রি করে এই টাকা তুলে নিয়ে কোম্পানি ছেড়েছেন। এর পর আর কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়নি। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কাছে ২০১৫ সালের পর কোম্পানির কোনো তথ্য নেই। ডিএসইর ওয়েবসাইটেও ২০১৫ সালের পর তথ্য হালনাগাদ করা হয়নি। সর্বশেষ সাধারণ সভা হয়েছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। ২০১৯ সালের ৩১ মার্চের তথ্য অনুযায়ী উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে মোট শেয়ারের ৪.১৬ শতাংশ রয়েছে। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ৭০.১৩ শতাংশ।
কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী। এ ছাড়া চারজন পরিচালকের মধ্যে তিনজনই স্বাধীন পরিচালক। তারা হলেন সৈয়দ আব্দুল মুক্তাদির, ড. বিজান কুমার সাহা এবং মাহিবুল ইসলাম চৌধুরী।
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ইচ্ছা থাকার পরেও তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করতে পারছেন না। ২০১০ ও ২০১১ সালে পরিচালকদের ৭৩ দশমিক ৭০ টাকা দরে শেয়ার বিক্রিকৃত শেয়ার কিনে এখন ৭ টাকায়ও বিক্রি করতে পারছেন না। এখন সেই শেয়ারের দাম ২ টাকা ৫০ পয়সা। আবার প্রতি বছর কোম্পানিটি নগদ লভ্যাংশ না দিয়ে বোনাস ও রাইট শেয়ার ইস্যু করে বাজারে শেয়ারের সংখ্যা বাড়িয়েছে কেবল। এভাবেই হাজার হাজার ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, পরিচালকরা ২০১০ সালের জুলাই থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত এ সময়ে তাদের হাতে থাকা কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ, ২০১২ সালে শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ, ২০১৫ সালে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে ২ দশমিক ০২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে কোম্পানি থেকে প্রায় ৮২৪ কোটি ২২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছেন।
তথ্য মতে, পরিচালকরা ২০১০ সালের কোম্পানি তালিকাভুক্তির পরের বছর ২০১১ সালে তাদের হাতে থাকা ৫০ শতাংশ শেয়ারের ৩৭ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করেছেন। ওই বছরে শেয়ারের গড় দাম ছিল ৪৬ দশমকি ৪০ পয়সা। সেই হিসেবে পরিচালকরা প্রায় ৭৬৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা পুঁজিবাজার থেকে তুলে নিয়েছেন। পরের বছর ২০১২ সালে শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ শেয়ার ২৩ দশমিক ৭০ টাকা গড় দামে বিক্রি করে তারা উঠিয়ে নিয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এরপর ২০১৩ সালে ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ শেয়ার ২০ দশমিক ৩১ টাকা গড় দামে ৪৫ কোটি টাকা এবং ২০১৫ সালে ১ দশমিক ৪০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ৯ দশমিক ৯২ টাকা গড় দামে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন। আর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২ দশমিক ০২ শতাংশ শেয়ার গড় ৬ টাকা দামে তারা শেয়ার বিক্রি করেছেন। সব মিলে তালিকাভুক্তির পর মাত্র পাঁচ বছরে ১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০টি শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে প্রায় ৮২৪ কোটি ২২ লাখ টাকা তুলে নিয়েছে উদ্যোক্তারা। সবচেয়ে বেশি টাকা তুলে নিয়েছে ২০১০ থেকে ১২ সালের মধ্যে।
এ বিষয়ে কোম্পানির এমডি ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমরা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে বেবিচকের দেনা মেটানো হয়েছে। নতুন করে বিনিয়োগ সংগ্রহের চেষ্টা করছি। বিনিয়োগ আসলে আশা করছি আবার চালু হবে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ। পরিচালকদের কোম্পানি ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই সব করা হয়েছে।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে যেসব পরিচালক শেয়ার বিক্রি করে চলে গেছেন তারা হলেন- মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী, মোহাম্মদ শাবু নেওয়াজ, সৈয়দ শাহেদ আহমেদ, মাজহারুল হক, জাকির হোসেন চৌধুরী, তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, সিদ্দিকা আহমেদ, সোহুল চৌধুরী, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, আহফাজ মিয়া, হাজী সানোয়ার মিয়া, আমিরুল ইসলাম, বদরুল হক চৌধুরী, রাজা মিয়া, খন্দকার মামুন আলী, মোহাম্মদ আশিক মিয়া, খন্দকার তাসলিমা চৌধুরী, মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, মদরিস আলী, তুরান মিয়া, খন্দকার ফেরদৌসি বেগম আলী, নিজাম উদ্দিন খান, ড. বিজয় কুমার সাহা, আব্দুল কুদ্দুস কাজল, শাহজাহান এস হাসিব, সৈয়দ চৌধুরী, আজিজুর রহমান, মোহাম্মদ মাহতাবুর রহমান এবং খসরুজ্জামান।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা