ইউক্রেনে চালু হল দুর্নীতি দমন আদালত

আগের সংবাদ

নুসরাত হত্যা মামলার পরিণতি কি হবে?

পরের সংবাদ

এবারো বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে না?

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১২, ২০১৯ , ৮:১৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১২, ২০১৯, ৮:১৬ অপরাহ্ণ

Avatar

এবারো বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে না? উচ্চশিক্ষায় ভর্তি নিয়ে যেন ভোগান্তি থেকে যাচ্ছে। গত বুধবার সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, সবার সদিচ্ছা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা সম্ভব। বস্তুত গত বছর জানুয়ারিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত বা গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়াও হয়েছিল।

সে সময় গুচ্ছভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষার রোডম্যাপ তৈরির লক্ষ্যে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং ওই কমিটিকে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য থেকে মনে হচ্ছে বিষয়টি এখনো সিদ্ধান্তের পর্যায়েই রয়েছে, বাস্তবায়নে অগ্রগতি নেই। এমন খবরে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

এ উদ্বেগ যেমন কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে, তেমনি পরীক্ষার জন্য ছুটতে হবে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে এটা ভেবেও। এত কষ্টের পরও কতজনের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ হবে? উচ্চশিক্ষায় ভর্তি পদ্ধতির এমন হয়রানির অবসান হওয়া জরুরি।

দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ই আলাদাভাবে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। আমাদের দেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত হওয়ায় মেডিকেল/প্রকৌশল/পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে লক্ষাধিক আসনের বিপরীতে প্রতি বছর একজন শিক্ষার্থী কমপক্ষে ১০টি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে থাকে। আর এ জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদাভাবে ফরম কিনতে হয় এবং আলাদাভাবে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়।

এতে তাদের সময়, পরিশ্রম ও অর্থ ব্যয় বেশি হয়। তা ছাড়া শিক্ষার্থীদের মনের ওপরও বাড়তি চাপ পড়ে। আর বহিরাগতরা সুবিধা দেয়ার নাম করে ফায়দা লুটে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চলে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা। শিক্ষার্থীদের সারাদেশে ছোটাছুটি করতে তাদের পরীক্ষা প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়। তারপরও একই দিনে একাধিক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা এড়ানো যায় না।

এসব সমস্যা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার দাবি বহু আগেই উঠেছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদদের তরফ থেকে। বৈশিষ্ট্যের বিচার সমজাতীয় বা কাছাকাছি চরিত্রের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তির আলোচনা হচ্ছে দীর্ঘদিন থেকেই।

এমনকি খোদ রাষ্ট্রপতি এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করা সত্ত্বেও তা এখনো বাস্তবায়ন না হলে সেটা হবে দুর্ভাগ্যজনক। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনীহাকেই মূলত দায়ী করছে অভিজ্ঞমহল।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সময়, শ্রম ও অর্থকষ্ট লাঘবে সমন্বিত পরীক্ষা নেয়ার বিকল্প নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি বন্ধেও সমন্বিত পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে। অর্থাৎ সব বিবেচনায়ই এ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। এখন এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করাটাই বড় বিষয়।