প্রথমবারের মতো ব্ল্যাক হোলের ছবি প্রকাশ

আগের সংবাদ

অবশেষে চলে গেলেন ফেনীর সেই দগ্ধ নুসরাত

পরের সংবাদ

রাজধানীতে জলাবদ্ধতা

এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি নেই!

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ১০, ২০১৯ , ৯:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ১০, ২০১৯, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

বৃষ্টি হলে রাজধানীসহ দেশের প্রধান শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা যেন এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এ রূপ নিত্যদিনের। উত্তরণের বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও কোনোটাই কাজে আসছে না। এ দুর্ভোগ থেকে কি কোনোই মুক্তি নেই? চৈত্র মাসেই বৃষ্টিতে পানি জমে একাকার হয়ে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার বেশির ভাগ এলাকার রাস্তা।

এমন অবস্থা নগরবাসীকে আরো বেশি ভাবনায় ফেলছে। অসময়ের বৃষ্টিতেই রাজধানীর সড়কে পানি জমে যাওয়ার জন্য ওয়াসার খাল পরিষ্কার না করাকেই অনেকাংশে দায়ী করা হচ্ছে। আবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি দৈর্ঘ্যরে নর্দমাও নিয়মিত পরিষ্কার না করায় অল্প বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে জলাবদ্ধতা।

বর্ষার আগে এক-দুদিনের বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীবাসীকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হলে ভরা বর্ষায় টানা বৃষ্টিতে নগরবাসীকে কী ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হবে- তা ভেবে আতঙ্কে পড়তে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি নিষ্কাশনের কোনো জায়গা না থাকার কারণেই সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা।

রাজধানীর যে খালগুলো ছিল সেগুলো ভরাট ও দখল হওয়ার পাশাপাশি আশপাশের নদীগুলোও ভরাট হয়ে গেছে। তাহলে এ পানি যাবে কোথায়? ফলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। প্রাকৃতিকভাবে এ সমস্যা কমার সম্ভাবনা নেই। তবে কৃত্রিমভাবে ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের যে ড্রেনগুলো আছে সেগুলো সঠিকভাবে মেরামত করতে পারলে কিছুটা লাঘব পাবেন নগরবাসী।

আন্ডারগ্রাউন্ড ও উপরিভাগে যে ড্রেনগুলো আছে সেগুলো রয়েছে পৃথকভাবে ঢাকা ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের অধীনে। এ দুই প্রতিষ্ঠানের কাজে অনেক সময় সমন্বয় হয় না। একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর প্রবণতা দেখা যায়। খাল খনন, সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে গত বছর দুটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছিল।

এর মধ্যে হাজারীবাগ, বাইশটেকী, কুর্মিটোলা, মাণ্ডা ও বেগুনবাড়ী খালের আশপাশের ভূমি অধিগ্রহণ করে সম্প্রসারণ ও খনন করার জন্য নেয়া হয় একটি প্রকল্প। গত বছরের এপ্রিল মাসে প্রকল্পটি পাস হয় একনেকে। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটি শেষ করার কথা থাকলেও কার্যত কোনো কাজ শুরুই করতে পারেনি ঢাকা ওয়াসা।

এ ছাড়া জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ‘ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং খাল উন্নয়ন প্রকল্প’ শীর্ষক আরেকটি প্রকল্প আছে ঢাকা ওয়াসার। প্রকল্পটি একনেকে পাস হয় গত বছরের ২২ মে। ওই প্রকল্পের আওতায় ১৬টি খাল খনন করার কথা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ পর্যন্ত মাত্র একটি খাল খননের জন্য দরপত্র আহ্বান করতে পেরেছে ঢাকা ওয়াসা।

আমরা মনে করি, জলাবদ্ধতা নিরসনে রাজধানীর খালগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। রাজধানীর খালগুলো উদ্ধারে কর্তৃপক্ষকে আরো সোচ্চার হতে হবে। রাজধানীতে এক কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। মেগাসিটির জলাবদ্ধতা নিরসনে সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা