ধর্মপাশায় ৯ কেজি গাঁজাসহ আটক ২

আগের সংবাদ

ববি শিক্ষার্থীদের ফের মহাসড়ক অবরোধ

পরের সংবাদ

‘ঝামেলাবিহীন পাসপোর্ট সেবা গ্রহণ করি’

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৯, ২০১৯ , ৪:৪৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ৯, ২০১৯, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ

Avatar

বিদেশ গমনের লক্ষ্যে মানুষের ‘স্বপ্ন সিড়ি’ পাসপোর্টের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়। এক দেশ থেকে অন্য দেশ গমনাগমনের জন্য দুটি জিনিস অত্যাবশক। প্রথমটি হচ্ছে পাসপোর্ট ও দ্বিতীয়টি হচ্ছে ভিসা। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর শুরু থেকেই নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্তে্বও চেষ্টা করে যাচ্ছে সকলের দোড় গোড়ায় সহজভাবে পাসপোর্ট সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য। পাসপোর্ট ঝামেলাবিহীন কথাটি কতটুকু ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ও জনগণের সম্পৃক্ততা রয়েছে তাই তুলে ধরাই এই আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর পাসপোর্ট ঝামেলাবিহীন, সেবা সহজীকরণ এবং যুগপোযোগীকরণের লক্ষ্যে সর্বদা সচেষ্ট রয়েছে।
অত্র অধিদপ্তর পাসপোর্ট সেবা সহজীকরণের লক্ষ্যে সঠিক তথ্য বিতরণ, আবেদনপত্র পূরণ করা, অনলাইনে ফরম পূরণের সুবিধা, অনলাইনে ব্যাংকে টাকা জমাদান, সিটিজেন চার্টার, ব্যানার, ফ্যাস্টুন, লিফলেট, প্রতিবন্ধী ও বযস্কদের সেবার জন্য আলাদা পৃথক বুথ, তথ্য কেন্দ্রস্থাপন সহ নানামুখি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অফিসিয়াল পাসপোর্ট এর ক্ষেত্রে ডেলিভারি তারিখের অনেক পূর্বেই পাসপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে আবেদনকারীর চাহিদা মোতাবেক গুরুত্ব অনুসারে দ্রæততার সহিত ডেলিভারি সময়ের পূর্বেই পাসপোর্ট দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। প্রতিনিয়তই চেষ্টা করা হচ্ছে পাসপোর্ট কিভাবে মানুষের হাতের নাগালে পাওয়া যায়। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জনবল সংকট সত্তে¡ও বিশাল সংখ্যক জনগণের দোড়গোড়ায় পাসপোর্ট সেবা পৌঁছে দিতে পেরেছে।
পাসপোর্ট একটি আর্ন্তজাতিক দলিল তাই পাসপোর্টের তথ্য হতে হয় ইংরেজি বহুল। কিন্তু আমাদের দেশে বিশাল সংখ্যক জনগণ স্বাক্ষর জ্ঞান সম্পন্ন হলেও ইংরেজি জানা না থাকায় প্রথমে পাসপোর্ট করতে সে খোঁজ করতে থাকে কার মাধ্যমে পাসপোর্ট করা যায়। যার ফলে দেখা দেয় তথ্য প্রদানে নানা জটিলতা। আমাদের দেশে যত লোক বিদেশ গমন করেন তার বেশির ভাগ লোকই শ্রমিক। বিদেশের কাজের ভিসাগুলো মূলত ট্রাভেল এজেন্সি অথবা পরিচিতদের মাধ্যেমে পেয়ে থাকেন। সাধারণত এদের অধিকাংশই ইংরেজি জ্ঞান সম্পন্ন না হওয়ায় আবেদনকারী অন্যের সহযোগিতা গ্রহণ করেন, যিনি আবেদন পূরণ করে তিনিও সঠিকভাবে আবেদন ফরম পূরণ করে থাকেন না। ফলে তথ্যগত ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
আবার আবেদনকারীর ভিসার যে তথ্য সেই তথ্যে পাসপোর্ট করেন, ফলে আবেদনকারী অজান্তেই তার তথ্যে পাসপোর্ট না করে আংশিক অথবা পুরোপুরি অন্যের তথ্যে পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে যখন সঠিক তথ্যে পাসপোর্ট গ্রহণ করতে চান তখন বেশ সমস্যায় সম্মুখিন হন।
কখনো আবেদনকারী অন্যের শিক্ষাগত সনদ সংগ্রহ করে স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করে থাকেন। পরবর্তীতে সঠিক আবেদনকারী পাসপোর্ট করতে আসলে তথ্যের মিল থাকায় আবেদন আপত্তিযুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। অতঃপর আবেদনকারীকে বেশ সময় ও তদন্ত স্বাপেক্ষে পাসপোর্ট গ্রহণ করতে হয়।
এই সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য অত্র অধিদপ্তর নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছে। আবেদনকারীকে সবর্দা পাসপোর্ট করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে নিজের সঠিক তথ্য সম্বলিত পাসপোর্ট হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চত করা। তবেই মিলবে ঝামেলাবিহীন পাসপোর্ট সেবা।
আমাদের দেশে বয়স একটি বড় সমস্যা কোন কোন দেশ শ্রমিকের নূন্যতম বয়স ১৮ বছর অথবা ২১ বছর অথবা কোন কোন ভিসার ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণ করে দেয় আবার কোন ক্ষেত্রে বেশি বয়স হলে ভিসা পান না আবেদনকারী। তখন আবেদনকারী বিদেশ যাওয়ার জন্য ওই দেশের চাহিত বয়স মোতাবেক জন্ম নিবন্ধন করে পাসপোর্ট গ্রহণ করেন পরবর্তীতে কোন কারণে বিদেশ যেতে না পারলে তার সঠিক বয়স সংশোধনের জন্য আবেদন করেন।
আবার শিশু সন্তানের বেশির ভাগই স্কুলে ভর্তি সংক্রান্ত ব্যাপারেই বয়স কমিয়ে থাকেন অভিবাবকেরা। স্কুলের দেয়া বয়সের সঙ্গে মিল রেখে বয়স পরিবর্তন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয়:
  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা