জয়ের ধারায় আবাহনী

আগের সংবাদ

এবার পদত্যাগ করলেন ট্রাম্পের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি চিফ

পরের সংবাদ

যৌন হয়রানির প্রতিবাদে বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের অনশন

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৮, ২০১৯ , ৯:১৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ৮, ২০১৯, ৯:১৫ অপরাহ্ণ

Avatar

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষক কর্তৃক দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদে অনশন করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে ক্লাস বর্জন করেছেন তারা।

আজ সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনে সিএসসি বিভাগের সামনে এ অনশন কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। অনশনরত শিক্ষার্থীরা হাই কোর্টের নির্দেশনা মতে তদন্ত কমিটি পুনরায় গঠনের দাবি জানান। সেই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। পাশাপাশি দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তারা।

এর আগে শনিবার সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. আব্দুর রহিম খানকে সভাপতি করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। আগামী পাঁচদিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী আধ্যাপক ঈশিতা রায়, অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. কামরুজ্জামান ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ড. বশিরউদ্দিন।

এদিকে, অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক মো. আক্কাস আলীকে বিভাগীয় প্রধানের পদসহ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়নি বলে দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা বিষয়টিকে আইওয়াশ হিসেবে দেখছেন। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কালক্ষেপণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবি অগ্রাহ্য করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের শিকার হন। ওই সময় নির্যাতিত শিক্ষার্থী কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলেও বিষয়টি পরবর্তীতে ধামাচাপা দেয়া হয়েছে।

অনশন চলাকালে প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন এবং ক্লাসে ফিরে যেতে অনুরোধ করেন। বেলা ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা অনশন স্থগিত ঘোষণা করেন। তবে পরবর্তীতে কর্মসূচী চালিয়ে যাবেন বলে জানান তারা।

যৌন হয়রানি সংক্রান্ত ২০০৯ সালে হাই কোর্ট ডিভিশনে দায়েরকৃত রিট পিটিশন মামলার রায়ের নিদের্শনা অনুযায়ী, অভিযোগ গ্রহণের জন্য, তদন্ত পরিচালনার জন্য এবং সুপারিশ করার জন্য সরকারি-বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে এবং সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ গ্রহণের জন্য কমিটি গঠন করবে।

কমপক্ষে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হবে, যার বেশিরভাগ সদস্য হবেন নারী। কমিটির দুইজন সদস্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠান থেকে নিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান জেন্ডার এবং যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করে। এছাড়া অভিযোগ কমিটি সরকারের কাছে এ নীতিমালা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অভিযোগ প্রতিবেদন আকারে পেশ করবে।