ঠাকুরগাঁওয়ে আগুনে পুড়ে এক শিশুর মৃত্যু

আগের সংবাদ

সেন্টমার্টিনে ভারী অস্ত্রসহ বিজিবি মোতায়েন

পরের সংবাদ

এবার তামাকপণ্যে কর বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৭, ২০১৯ , ১০:৪৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০১৯, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

Avatar

প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে তামাকপণ্যের দাম সস্তা এবং এটি ক্রমশ আরও সস্তা হচ্ছে। তাই বর্তমানের চেয়ে বেশি কর আরোপ করে তামাকপণ্য নিয়ন্ত্রণের দাবি জানানো হয়েছে।

তামাকপণ্যে বেশি পরিমাণ করারোপ হলে প্রায় ৩.২ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপায়ী (১.৩ মিলিয়ন সিগারেট ধূমপায়ী এবং ১.৯ মিলিয়ন বিড়ি ধূমপায়ী) ধূমপান ছেড়ে দিতে উৎসাহিত হবেন।

ফলে সিগারেটের ব্যবহার ১৪ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে প্রায় ১২.৫ শতাংশ এবং বিড়ির ব্যবহার ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ৩.৪ শতাংশে দাঁড়াবে। দীর্ঘমেয়াদে এক মিলিয়ন বর্তমান ধূমপায়ীর অকাল মৃত্যুরোধ সম্ভব হবে। পাশাশি ছয় হাজার ৬৮০ কোটি থেকে ১১ হাজার ৯৮০ কোটি টাকার মধ্যে (জিডিপির ০.৪ শতাংশ পর্যন্ত) অতিরিক্ত রাজস্ব অর্জিত হবে।

আসন্ন বাজেটে বিভিন্ন তামাকপণ্যে করারোপের প্রস্তাব করে এসব তথ্য জানায় অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স- আত্মা।

আজ রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় এ প্রস্তাব দেয়া হয়। সভাটি রাজস্ব বোর্ডের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের জয়েন্ট চিফ নিউজ এডিটর ও আত্মার নেতা মনির হোসেন লিটন, দৈনিক জনকণ্ঠের সিটি এডিটর কাওসার রহমানসহ আত্মার নেতৃবৃন্দ।

তামাকপণ্যে করারোপের জন্য প্রাক-বাজেট বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আত্মা’র পক্ষে থেকে নিম্নোক্ত দাবিগুলো তুলে ধরা হয়-

১. সিগারেটের মূল্যস্তর সংখ্যা চারটি থেকে কমিয়ে দুটিতে (নিম্ন ও উচ্চ) নিয়ে আসা: ৩৫ টাকা এবং ৪৮ টাকা, এ দুটি মূল্যস্তর একত্রিত করে একটি মূল্যস্তর (নিম্নস্তর) এবং ৭৫ টাকা ও ১০৫ টাকা মূল্যস্তর একত্রিত করে আরেকটি মূল্যস্তরে (উচ্চস্তর) নিয়ে আসা; নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা এবং উচ্চস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ন্যূনতম ১০৫ টাকা নির্ধারণ করে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা এবং সকল ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটে ৫ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

২. বিড়ির ফিল্টার এবং নন-ফিল্টার মূল্য বিভাজন তুলে দেয়া: বিড়ির মূল্য বিভাজন তুলে দিয়ে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ৬ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা এবং ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৮ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ৪.৮ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

৩. ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের (জর্দা ও গুল) ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বিলুপ্তকরণ: ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বিলুপ্ত করে সিগারেট ও বিড়ির ন্যায় ‘খুচরা মূল্যের’ ভিত্তিতে করারোপ করা; প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা এবং প্রতি ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা এবং প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার ওপর ৫ টাকা ও প্রতি ১০ গ্রামগুলের ওপর ৩ টাকা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা।

৪. সকল তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখা।

আত্মা বলছে, বাংলাদেশে তামাকপণ্যের দাম সস্তা এবং তা ক্রমশ আরও সস্তা হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান তামাক কর-কাঠামো অত্যন্ত জটিল। একাধিক মূল্যস্তর এবং বিভিন্ন দামে তামাকপণ্য ক্রয়ের সুযোগ থাকায় তামাকের ব্যবহার হ্রাসে কর ও মূল্য-পদক্ষেপ সঠিকভাবে কাজ করছে না। পাশাপাশি তামাক কোম্পানিগুলো উচ্চ স্তরের সিগারেট নিম্ন স্তরে ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে তামাক ব্যবহারকারীর মধ্যে ৫০ শতাংশেরও বেশি মানুষ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন, অথচ মোট তামাক রাজস্বের মাত্র ০.২ শতাংশ আসে ধোঁয়াবিহীন তামাক থেকে। এ অবস্থায় তরুণ, নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে তামাকের ছোবল থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে কার্যকর তামাক করের পরিমাণ বাড়ানো আহ্বান জানানো হয়।

আত্মা’র পক্ষ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য তামাক-কর বিষয়ক বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় এবং প্রস্তাবনার একটি কপি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার নিকট হস্তান্তর করা হয়।

এ সময় মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা রয়েছে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার, সুতরাং তামাকের ব্যাপারে আমরা আপসহীন।