লংগদুতে সন্ত্রাসীদের সাথে সেনাবাহিনীর গুলি বিনিময় : অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫

আগের সংবাদ

পাচঁ দফা দাবিতে আন্দোলনে বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা

পরের সংবাদ

ইছামতির বুকে সবুজের ঢেউ !

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৭, ২০১৯ , ১:৪৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ৭, ২০১৯, ১:৪৪ অপরাহ্ণ

Avatar

বগুড়ার ধুনট উপজেলার এক সময়ের খরস্রোতা নদী ইছামতি। তবে ইছামতি এখন পানির কাঙ্গাল। পানি শুকিয়ে যাওয়ায় নদীর বুকে চাষাবাদ করছে কৃষক। যেখানে বাতাসে ঢেউ খেলছে বোরো ধানের সবুজ পাতা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধুনট উপজেলার প্রধান তিনটি নদীর অন্যতম একটি ইছামতি। উত্তর সীমান্ত থেকে উপজেলা সদর হয়ে দক্ষিণ সীমান্ত পর্যন্ত রয়েছে এই নদী। এক সময়ের খরস্রোতা ইছামতি নদী পথ ছিল উপজেলার অন্যতম যোগাযোগ ব্যবস্থা। একসময় উপজেলা সদরের নদী ঘাট থেকে উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের নৌকা যোগে চলাচলের প্রচলন ছিল। তবে প্রায় এক যুগ হলে নদী পথে চলাচলের এ প্রচলন আর নেই। নদী দখল ও ভরাটের কারনে যৌবণ হারিয়েছে ইছামতি। নদী খনন ও নদীর জায়গা সংরক্ষণে সরকারি কোন উদ্যোগ নেই। দীর্ঘ নদীর কয়েকটি স্থানে গভীরতার কারনে পানি থাকলেও অধিকাংশ জায়গায় পানি নেই। নদীর বুকে কৃষক মৌসুমী ফসলের চাষাবাদ করছে। বিশেষ করে কৃষককে ধান ও ভুট্টা চাষ করতে দেখা গেছে। কৃষকের ধান ক্ষেতের সবুজ পাতা বাতাসে যেন ঢেউ খেলছে।

চকডাকাতিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, এক সময় ইছামতি নদীতে ব্যাপক পানি থাকতো। প্রায় এক যুগ আগে থেকে ইছামতি নদীতে পানি কমেছে। বর্ষা মৌসুমে অথবা বন্যার সময় নদীতে পানি থাকে। তাছাড়া বছরের অন্য সময় নদী প্রায় শুকনো থাকে। এসময় কৃষক নদীতে ধান, ভাট্টাসহ মৌসুমী ফসল চাষাবাদ করে।

ধুনটের ইতিহাস গ্রন্থের লেখক গবেষক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইছামতি নদীর সাথে ধুনট উপজেলার মানুষের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের অনত্যম পথ হিসেবে এই নদী ব্যবহার হয়েছে। কয়েকটি এলাকার নাম করনেও এই নদীর ভ‚মিকা রয়েছে। নদীর নাব্যতা সংকটের ফলে অসংখ্য মানুষের জীবন ধারন-জীবিকার পরিবর্তন এসেছে। নদী খননের মাধ্যমে ইছামতিকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ধুনট উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাজিয়া সুলতানা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের অধিকাংশ নদী নিজস্ব হারিয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি থাকলেও অধিকাংশ সময় ইছামতি নদীতে পানি থাকেনা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য নদীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইছামতির নাব্যতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা