কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ আর নেই

আগের সংবাদ

নিয়ন্ত্রণহীন গ্যাস সিলিন্ডার

পরের সংবাদ

হাতের লেখা দেখলে মনে হতো কেউ টাইপ করেছে-মনিরা মিঠু

রাব্বানী রাব্বি

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৬, ২০১৯ , ৩:২৩ অপরাহ্ণ

চ্যালেঞ্জার ভাইকে চিঠি
জীবনে প্রথম চিঠি লিখেছিলাম চ্যালেঞ্জার ভাইকে। তিনি তখন সৌদির ‘রিয়াদ’ শহরে থাকতেন। সে সময় আমি ক্লাস সেভেন বা সিক্সে পড়ি। সেই যুগে চিঠি লেখা ভিন্ন যোগাযোগের অন্য কোনো মাধ্যম ছিল না। প্রথম যে চিঠি পেয়েছিলাম সেও ছিল বড় ভাইয়ের (চ্যালেঞ্জার) লেখা। তার হাতের লেখা খুব সুন্দর, দেখলে মনে হতো কেউ টাইপ করেছে। হাতের লেখার মতোই তিনি চিঠিও লেখতেন অসাধারণ। আমার জীবনে যত চিঠি পড়েছি, তার মধ্যে বড় ভাইয়ের চিঠিই সবচেয়ে সেরা।

নদী কিংবা পুকুরে কম যেও
ছেলেবেলা থেকেই আমি দস্যি স্বভাবের; তাই চ্যালেঞ্জার ভাই যখন চিঠি পাঠাতেনÑ চিঠি জুড়ে থাকত বিভিন্ন ধরনের উপদেশ বাণী। এই যেমন নদী, খাল-বিল কিংবা পুকুর ঘাটে কম যেও, দাদুকে বিরক্ত করো না, সামনে বৃত্তি পরীক্ষা ঠিকমতো পড়াশোনা করো! আসলে মা মারা যাওয়ার পর থেকে সে-ই ছিল আমার একমাত্র উপদেষ্টা।

জীবনানন্দ দাশের চিঠি
এছাড়া ছিল বই পড়ার তুমুল নেশা। বিভিন্ন বইয়ে গুণীজনদের লেখা চিঠি পড়েছি। প্রিয় কবিদের একজন জীবনানন্দ দাশ। তার লেখা বিভিন্ন বই, কবিতা পড়তে পড়তে এক সময় তার লেখা চিঠি পেয়ে যাই। যা পড়ে বিস্মিত হয়েছিলাম।

একাল সেকাল
চিঠি লেখার মধ্যে এক ধরনের আবেগ কাজ করত। চিঠিতে আমরা তখন কাউকে যে কথা বলতে চাইতাম তা পুরোটা প্রকাশ করতে পারতাম। ইদানীং তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে খুদে বার্তার মতোই সবকিছু সংক্ষিপ্ত হয়ে আসছে। বড় মেসেজ লিখলে তা আর পাঠানো যায় না। চিঠিতে আমরা চার-পাঁচ পাতা লিখে ফেলতাম। বড় লেখা পড়ার মাঝে আনন্দ পেতাম। এখন সংক্ষিপ্ত লেখা পড়ার অভ্যাসে, বড় কোনো লেখা পড়তে বা লিখতে ইচ্ছে করে না। তা ছাড়া চিঠি লেখার সেই যুগে হাতের লেখা সুন্দর করারও প্রবণতা ছিল। এখন আর হাতের লেখা নিয়ে ভাবতে হয় না।