তিন মাসে নয় ছবি

আগের সংবাদ

কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ আর নেই

পরের সংবাদ

সিনেমা ও সুন্দরী প্রতিযোগিতা

প্রকাশিত হয়েছে: এপ্রিল ৬, ২০১৯ , ২:৩৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০১৯, ২:৩৩ অপরাহ্ণ

Avatar

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ খেতাব জয়ের পর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চীনে যান জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী। মুকুট জিততে না পারলেও লড়েছিলেন শেষ পর্যন্ত। দেশে ফেরার পর তাকে নায়িকা করে সিনেমা বানাতে আগ্রহী হন কয়েকজন পরিচালক ও প্রযোজক। ফোনে আলাপের পাশাপাশি দেখা করেও কথা বলেন তিনি। সেসব আলাপ বেশি দূর এগোয়নি। অবশেষে চলচ্চিত্রে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন ঐশী। তার প্রথম ছবির নাম ‘মিশন এক্সট্রিম’। এই ছবির নায়ক আরিফিন শুভর বিপরীতে অভিনয় করবেন ঐশী। ‘মিশন এক্সট্রিম’ পরিচালনা করবেন ফয়সাল আহমেদ। গত বছর মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ৬৮তম আসরের সেরা সুন্দরীদের তালিকার সেরা ৩০-এ স্থান পেয়ে ইতিহাস গড়েন ঐশী। মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় এটিই বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ অর্জন। হাজারও সুন্দরীকে পেছনে ফেলে ঐশী বিশ্ব সুন্দরী হওয়ার দৌড়ে শক্ত অবস্থানে ছিলেন। প্রতিযোগিতায় হেড টু হেড চ্যালেঞ্জে গ্রুপ-৬ এ মিস নাইজেরিয়াকে ৩-০ ভোটে হারিয়ে এ কীর্তি গড়েন।
২০১৭ সালে এ প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে অংশ নিয়েছিলেন জেসিয়া ইসলাম। সেরা ৪০ জনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। মূলত এটি বিশ্ব সুন্দরীর লড়াইয়ে অফিসিয়াল ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যানারে বাংলাদেশের ৩য় অংশগ্রহণ। ২০১৭ সালে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন জেসিয়া ইসলাম। এর আগে ১ম বাংলাদেশি হিসেবে ২০০১ সালে ৫১তম মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তাবাসসুম ফেরদৌস শাওন। ২০১৭ সালে প্রতিযোগিতার মতো আগেরগুলোর সঙ্গে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতার ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিল না বলে জানা যায়।
বাংলাদেশে ২০১৭ সালে সুন্দরী প্রতিযোগিতা নিয়ে নানা বিতর্ক হয়েছে। ‘বিয়ের কথা গোপন করায়’ খেতাব হারিয়েছেন এভ্রিল। আর নতুন করে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হয়েছেন জেসিয়া ইসলাম, পেয়েছেন চীনে মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ। প্রথম বিতর্ক শুরু হয় বিচারকদের পক্ষপাতিত্ব নিয়ে। কয়েকজন বিচারক আবার দাবি করেন, তারা যাকে সেরা সুন্দরী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন, তার নাম ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু সর্বশেষ বিতর্ক ছিল জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলের মুকুট জেতার পর তার ‘বিয়ের ঘটনা ফাঁস’ হওয়া নিয়ে। আর সেই বিতর্কে তার সেরা সুন্দরীর মুকুটটিই শেষ পর্যন্ত বাদ হয়ে যায়। আয়োজক কর্তৃপক্ষ নতুন করে জেসিয়া ইসলামকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’-এর স্বীকৃতি দেন।
১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে প্রথম মিস বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ওই প্রতিযোগিতায় যিনি মিস বাংলাদেশ হন, তিনি মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার সুযোগ পান। কিন্তু ২০০৭ সালের পর এই প্রতিযোগিতা আর হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৭ সালে হয়েছে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা। ১৯৯৪ সালে মিস বাংলাদেশ হয়েছিলেন অনিকা তাহেরা। তারপর ২০০৭ সাল পর্যন্ত মিস বাংলাদেশ হিসেবে যাদের নাম জানা যায়, তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইয়াসমিন বিলকিস সাথী, রেহনুমা দিলরুবা চিত্রা, শাইলা সিমি, তানিয়া রহমান তিন্নি, সোনিয়া গাজী, তাবাস্সুম ফেরদৌস শাওন, জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। এদের মধ্যে সাথী ও পিয়া সিনেমায় অভিনয় করেন।
৯০-এর দশকে বাংলাদেশে সুন্দরী প্রতিযোগিতা বা প্রথম আয়োজন করেন অধুনা বিলুপ্ত ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রার প্রয়াত সম্পাদক শাহাদত চৌধুরী। ওই একই গ্রæপের আরেকটি বিনোদন পত্রিকা ‘আনন্দ বিচিত্রা’র ব্যানারে তখন আয়োজন করা হয়েছিল ‘আনন্দ বিচিত্রা ফটো সুন্দরী’। এরপর ১৯৯৫ সালে ওই প্রতিযোগিতার নাম হয় ‘লাক্স-আনন্দ বিচিত্রা ফটো সুন্দরী’। ওই প্রতিযোগিতায় শুধু ছবির ওপর ভিত্তি করে ফটোসুন্দরী নির্বাচন করা হতো। র‌্যাম্পে হাঁটা বা প্রশ্নের জবাব দেয়ার কোনো বিষয় ছিল না। চিত্রনায়িকা মৌসুমী ওই প্রতিযোগিতায় প্রধান হয়েই গ্ল্যামার জগতে উঠে আসেন। পরে তিনি ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির নায়িকা হন। চিত্রনায়িকা পপিও একই প্রতিযোগিতা থেকে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর চিত্রজগতে আসেন এবং ‘কুলি’ ছবির নায়িকা হন।
তারপর আলোচনায় আসে লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার-প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার সেরারা ‘লাক্স সুন্দরী’ নামে পরিচিতি পান। ২০০৫ সালে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়। আর প্রথম লাক্স সুন্দরী হন শানারৈ দেবী শানু। তিনি সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন। তার পর যারা লাক্স সুন্দরী হয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই সিনেমায় নাম লিখিয়েছেন। যাদের মধ্যে আছেন আছেন জাকিয়া বারী মম, বিদ্যা সিনহা মীম, ইসরাত জাহান চৈতি, আফসান আরা বিন্দু, মৌসুমী হামিদ, অপর্ণা ঘোষ, অরিন, তানজিকা, নাজিফা তুষি, প্রসূন আজাদ, বিপাশা কবির প্রমুখ। এই প্রতিযোগিতাটি আর্থিক পুরস্কার, বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়ের সুযোগসহ নানা কারণে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। প্রতিযোগিতার সেরা সুন্দরী চ্যানেল আইয়ের প্রযোজনায় একটি ছবির নায়িকা নির্বাচিত হন। এটিই সুন্দরীদের কাছে প্রধান আকর্ষণের বিষয় বলে বিবেচিত হয়।
এই প্রতিযোগিতাকে অনুসরণ করে কিছু আসর বসে। যাদের মধ্যে ভিট-চ্যানেল আই টপ মডেল, এটিএন-এর ‘সুপার হিরো সুপার হিরোইন’ আর মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এর মধ্যে সুপার হিরো সুপার হিরোইন প্রথম বছরের পরই বন্ধ হয়ে যায়। একুশে টিভির ‘মিস ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ’ প্রাথমিক কাজ শুরু করলেও পরে আর আলোর মুখ দেখেনি। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত লাক্স-চ্যানেল আই সুপার স্টার- প্রতিযোগিতাই সবচেয়ে আলোচিত। এই প্রতিযোগিতায় শুধু সেরা নয়, প্রথম ১০ জনের মধ্যে যারা থাকেন তাদের প্রায় সবাই প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে পান বা প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পান।