অভিজাত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার

আগের সংবাদ

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় করুন

পরের সংবাদ

উপস্থিতি নিয়ে মাথাব্যথা নেই: ইসি সচিব

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২৪, ২০১৯ , ৯:১৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ২৪, ২০১৯, ৯:১৭ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

তৃতীয় ধাপে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি নিয়ে কমিশনের কোনো মাথাব্যথা নেই, বরং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না- এটাই কমিশনের কাছে মুখ্য বিষয়। এমনটি বলেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দিন আহমেদ।

তৃতীয় ধাপের উপজেলা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। নির্বাচন বর্জনকারীরা ভোটারদের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত করছে বলেও তিনি জানান। এ সময় অনিয়মের কারণে যে ১৪টি ভোটকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সে ব্যাপারে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবে বলেও জানান কমিশন সচিব।

ইসি সচিব বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক জোট নির্বাচনে তারা অংশগ্রহণ করে নাই, তাদের সমর্থক তো রয়েছে। তারা তো ভোটকেন্দ্রে আসেনি। আবার ওদের পক্ষ থেকেও ভোটকেন্দ্রে না আসার ব্যাপারে প্রচারণা আছে। এটাও আপনাদের খেয়াল রাখতে হবে। সব কিছু মিলিয়ে আমরা নির্বাচন কমিশন মোটামুটি, পার্সেন্টেজ ইজ নট দ্য ম্যাটার, ওনারা (ইসি) বলেছেন, পার্সেন্টেজ কত হলো- এটা নিয়ে আমাদের মাথা ব্যথা নেই। বিষয়টা হলো শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না।’

গত দুই দফায় ভোটের হার কম হওয়ায় নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ‘আমাদের দেশের কোনো আইন নেই, যে কত শতাংশ ভোট দিতে হবে বা গ্রহণযোগ্যতার জন্য কত শতাংশ ভোট পড়তে হবে।’

ইসি সচিব বলেন, ‘প্রথম দফায় উপজেলা নির্বাচনে ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। দ্বিতীয় দফায় রাঙামাটি জেলা বাদ দিয়ে ৪১ শতাংশ ভোট পড়েছে। রাঙামাটির ফলাফল যদি আমরা পাই, তাহলে গড়ে আমাদের মনে হয় ৪৫ শতাংশ হবে। আর তৃতীয় ধাপে আমরা ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে ধারণা করছি।’

হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, রোববার ২৫ জেলার ১১৭টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন। অনিয়মের কারণে ১৪টি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়েছে। স্থগিত করা হয়েছে কটিয়াদি উপজেলার নির্বাচন। এ ছাড়া ১১৬টি উপজেলায় সার্বিক বিবেচনায় নির্বাচন কমিশন মনে করছে, মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

ইসি সচিব বলেন, ‘কটিয়াদিতে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত করে আরো কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

‘চট্টগ্রামের চন্দনাইশে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন পুলিশ কনস্টেবল মারাত্মক আহত হয়েছে। তিনি তলপেটে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার আর্টারি ছিঁড়ে যাওয়ায় রাজধানীর হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে হেলিকপ্টারে করে এনে ভর্তি করানো হয়েছে। কেননা, অন্য কোথাও এই চিকিৎসা সম্ভব না।’

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএমে) ভোটের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, রংপুর সদর, গোপালগঞ্জ সদর, মানিকগঞ্জ সদর ও মেহেরপুর সদর এই চারটি উপজেলায় ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। এতে মোট ৩৪০টি কেন্দ্রে দুই হাজার ২১৩টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। প্রযুক্তি সহায়তায় ভোটগ্রহণ করায় এইসব কেন্দ্রে কোনো প্রকার অনিয়মের সুযোগ কেউ পায়নি। মানুষ ইভিএমে ভোট দিয়ে আনন্দ পেয়েছে।

বিকেল ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার দেড় ঘণ্টা পরও কেন ইভিএমের ফলাফল জানানো যাচ্ছে না, এমন প্রশ্নের জবাবে সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভোট শেষ হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই ইভিএমের ফলাফল প্রিন্ট দিতে পারি। কিন্তু ৪টায় ভোট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভোটকেন্দ্রের চৌহদ্দির মধ্যে বিকেল ৪টার পরও ভোটার থাকেন। আইন অনুযায়ী, তাদের ভোট নিতে হয়। এ ছাড়া ফলাফল সমন্বয় করে কেন্দ্রগুলো থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাতেও কিছুটা সময় লাগে। তাই একটু বিলম্ব হয়।’