শতবর্ষী গাছগুলো উপড়ে পড়ছে

আগের সংবাদ

এ কেমন অভিষেক!

পরের সংবাদ

অনন্যা সম্মাননা পেলেন দশ কীর্তিমতি নারী

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২৪, ২০১৯ , ৪:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ২৪, ২০১৯, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ

Avatar

পথচলার দীর্ঘ ত্রিশ বছর অতিক্রম করেছে পাক্ষিক অনন্যা। যাত্রা শুরুর পর থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যান্য ক্ষেত্রে অবদান রাখা নারীদের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রদান করে যাচ্ছে শীর্ষ দশ নারী সম্মাননা। গতকাল ছিল ২৫তম অনন্যা শীর্ষ দশ-২০১৮ এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। এবারো পত্রিকাটি সমাজের বৈষম্য, নির্যাতন ও নানা বাধাবিঘ্নের বিরুদ্ধে নারীর মানবিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নিজেদের সক্ষমতা ও অগ্রগতিকে তুলে ধরছেন, এমন দশ নারীকে তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘অনন্যা শীর্ষ দশ-২০১৮’ পুরস্কার প্রদান করেছে। এবারের সম্মাননাপ্রাপ্ত বিশিষ্ট নারীরা হলেন- ডা. সায়েবা আক্তার (চিকিৎসা), পারভীন মাহমুদ (ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন), এসপি শামসুন্নাহার (প্রশাসন), আফরোজা খান (উদ্যোক্তা), সোনা রানী রায় (কুটিরশিল্প), লাইলী বেগম (সাংবাদিকতা), নাজমুন নাহার (তারুণ্যের আইকন), সুইটি দাস চৌধুরী (নৃত্যশিল্পী), রুমানা আহমেদ (খেলা) ও ফাতেমা খাতুন (প্রযুক্তি)।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে পাক্ষিক অনন্যা এ সম্মাননা প্রদান করে। কৃতী নারীদের দেয়া হয় উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও সনদপত্র। সম্মাননা তুলে দেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এমপি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন অনন্যার সম্পাদক ও প্রকাশক তাসমিমা হোসেন। কথাশিল্পী ঝর্না রহমানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাধনার নৃত্যশিল্পী সুইটি দাস ও তার দল মনিপুরী নৃত্য প্রদর্শন করেন। এরপর এবারের সম্মানিত দশজন নারীর ওপর নির্মিত তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। তবে, বিশেষ কাজে অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি ড. সায়েবা আক্তার ও শামসুন্নাহার। তাদের পক্ষে পরিবারের সদস্যরা এ সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন।
পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেন, নারীদের প্রতি অনাচারের কথা নারীদেরই বলতে হবে। দাবি না তুললে, কথা না বললে সমাজ থেকে অন্ধকার দূর হবে না। উগ্র মৌলবাদীরা নারীর অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। নিজেদের বঞ্চনার কথা বলতে এখনো মেয়েরা ভয় পায়। বর্তমান সরকার নারীবান্ধব সরকার। সমাজের বাধা পেরিয়ে নারীর অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক পথ বাকি।
পারভীন মাহমুদ বলেন, পড়াশোনায় আমার ৭-৮ বছরের গ্যাপ ছিল। কিন্তু আমি আমি আমার লক্ষ্য থেকে সরে যাইনি। এ পথে আমার পরিবার আমার শাশুড়ি খুব সহযোগিতা করেছেন। ক্রিকেটার রুমানা আহমেদ বলেন, আমরা এশিয়া কাপ জয় করে দেখিয়ে দিয়েছি আমরা পুরুষ দলের চেয়ে এগিয়ে আছি। তবে, আমরা সবাই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি- এটাই গৌরবের। উদ্যোক্তা আফরোজা খান বলেন, আমি দুপুরে অফিসে খাবার সাপ্লাই দিচ্ছি। এক দেড় বছরের মধ্যেই মানুষের বিপুল সাড়া পেয়েছি। স্বাস্থ্যসম্মত খাবার দেয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বমান
নিশ্চিত করা খুব কঠিন। কিন্তু আমি সেই বিশ^মান নিশ্চিত করেছি। নাজমুন নাহার বলেন, আমি কৃতজ্ঞ সৃষ্টিকর্তার প্রতি যারা আমাকে এই সুন্দর পৃথিবী দেখা হতো না। নাজমুন নাহার ১২৫টি দেশ ঘুরেছি। স্বাধীনতার ৫০ বছরের মধ্যে বিশ্বের দুইশটি দেশ ভ্রমণের প্রত্যাশা রয়েছে। আত্মপ্রত্যয় থাকলে পৃথিবী যেমন জয় করা সম্ভব তেমনি অনন্যা পুরস্কারও জয় করা সম্ভব। মনিপুরী নৃত্য শিল্পী সুইটি দাস চৌধুরী বলেন, শিল্পীরা চর্চা করেন শিল্পকে ভালোবেসে। কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়। সেই কাজের জন্য এ পুরস্কার পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মান। সাংবাদিক লাইলী বেগম বলেন, নারী সাংবাদিক হওয়ার কথা ছিল না। প্রয়োজনের টানে আমি কাজ শুরু করি। কিন্তু নানা কাজ করে আমি সাংবাদিকতা শুরু করি। মফস্বলে মেয়েদের সাংবাদিকতা করা খুব কঠিন। কিন্তু আমি সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। ১৯৯৩ সাল থেকে অনন্যা শীর্ষদশ সম্মাননা দেয়া হচ্ছে। প্রতিবছর নিজ নিজ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ১০ জন বিশিষ্ট নারী এই সম্মাননা দেয়া হয়। এ পর্যন্ত ২৫০ জন কৃতী নারী পেয়েছেন এই সম্মাননা।