যক্ষা প্রতিরোধে বেড়েছে সরকারের অর্থায়ন

আগের সংবাদ

নিউজিল্যান্ডে সামরিক স্টাইলের সব অস্ত্র নিষিদ্ধ

পরের সংবাদ

রাজস্ব আয়ে ছন্দপতন বাজেট ঘাটতি বাড়ছে

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২১, ২০১৯ , ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ২১, ২০১৯, ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

Avatar

রাজস্ব আদায়ের নেতিবচাক প্রবণতার কারণে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঘটতি ছিল ১৪০০ কোটি টাকা। সরকারি ব্যয় বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজস্ব আয় না বাড়ায় এই ঘাটতি বলে জানিয়েছ সংশ্লিষ্টরা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে এক লাখ ১৭ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা। এই সময়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৫১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। ফলে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। মূলত রাজস্ব আদায়ে ব্যাপক ধস নামায় এই বাজেট ঘাটতি বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। তবে অনেকেই বলছেন, প্রথম প্রান্তিকের চাইতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে অগ্রগতি হওয়ায় সরকারের ব্যয় বেড়েছে। তবে ব্যয় অনুপাতে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি না পাওয়ায় বাজেট ঘাটতি বাড়ছে।
এনবিআর সূত্রে জানা যায়, রাজস্ব কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৭২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে ৫৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। বাকি টাকা স্থানীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নিয়ে খরচ মেটাতে হয়েছে সরকারকে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংক ও ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরকারি ঋণের পরিমাণ প্রায় সমান। আলোচ্য সময়ে ব্যাংকিং খাত থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে ৭ হাজার ৯৯৮ কোটি টাকা। অন্যদিকে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে ৭ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে আয় ও মুনাফা খাত, অন্যান্য রাজস্ব, পণ্য ও পরিষেবাদি বিক্রয় খাত থেকে প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আসেনি।
অর্থনীতিবিদরা সরকারের ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষত দেশীয় উৎস থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার প্রবণতা বেসরকারি ঋণদাতাদের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। অন্যরা বলছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ঘাটতি মূল জিডিপির ৫.০ শতাংশের বেশি হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এই বছর ব্যাংকিং খাত থেকে সরকারি ঋণ তিন থেকে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ থাকবে। সরকার তার বাজেটে ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা করেছে। বাংলাদেশে ভর্তুকির ব্যয় বাড়ছে এবং সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে মনে করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রথম প্রান্তিকের চাইতে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভর্তুকি খাতে সরকারের ব্যয় বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকে ভর্তুকি ছিল ১৪০০ কোটি টাকা। দ্বিতীয় প্রান্তিকে

তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স এন্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কে মুজিরী বলেন, এই বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার বেশ ভালো ছিল। সরকারি ব্যয় বাড়ার এটাও অন্যতম একটি কারণ।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে এডিপি ব্যয় হয়েছে ২১ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রথম প্রান্তিকে ব্যয় হয়েছিল ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে ড. মুজিরী বলেন, রাজস্ব আদায়ের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক এই প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, আমাদের অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের বাস্তবিক পরিকল্পনা করা দরকার। আমরা উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও তা অর্জনে বাস্তব ভিত্তিক পরিকল্পনা করি না।
প্রসঙ্গত, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেট চার লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা যা জিডিপির ৪.৯ শতাংশ।