চরম উৎকন্ঠায় বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা

আগের সংবাদ

ক্রাইস্টচার্চে সন্ত্রাসী হামলায় ২ বাংলাদেশিসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪০

পরের সংবাদ

জামায়াত-ঐক্যফ্রন্ট ছাড়ার পক্ষে মত বিএনপিতে

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৫, ২০১৯ , ১২:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৯, ১২:৫২ অপরাহ্ণ

Avatar

বহুদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ছেড়ে দেয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা। এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত মতামতও এসেছে। কেউ বলেছেন, জামায়াতকে সঙ্গে রেখে দলকে নানা ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। কেউ বলেছেন, বিগত দিনে দুঃসময়ে পাশে থাকা ২০ দলীয় জোট বাদ দিয়ে নতুন ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে মাতামাতি করার কোনো মানে হয় না। নির্বাচনী জোট হিসেবে যে ঐক্যফ্রন্ট এসেছিল এখন তাদের বাদ দেয়াই শ্রেয়। গত বুধবার গুলশানে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব আলোচনা হয়। তবে দুটি বিষয়েই সুবিধাজনক সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার পক্ষে মত দেন তারা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
গত বুধবার ৭টায় গুলশানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শুরু হয়। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এতে যোগ দেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা দলের সাংগঠনিক অবস্থা ও জোটের রাজনীতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। একপর্যায়ে তারা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সামনেই এ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েন।
সূত্র জানায়, বৈঠকে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে যে কোনো উপায়ে তাকে মুক্ত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয় তার চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর সুবিধার্থে জামিন অথবা প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চলছে। সে ক্ষেত্রে বিএনপির নির্বাচিত ৬ জন সাংসদ শপথ নিয়ে সংসদে যোগদানের শর্ত এসেছে।
সূত্র জানায়, বৈঠকে জানানো হয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার বিষয়ে তাগিদ দেয়া হয়েছে। যেহেতু খালেদা জিয়ার পছন্দমাফিক জায়গায় চিকিৎসা দেয়ার ব্যাপারে সরকার আন্তরিক না, সেহেতু এ ব্যাপারে আবারো লিখিত আবেদন করা হবে। এ সময় তারেক রহমান বলেন, সরকার যে পথে এগোচ্ছে তাতে মনে হয়, আগামীতে নাইকো ও গ্যাটকো মামলার রায়েও দীর্ঘমেয়াদি সাজা হবে। যদি সেটা হয় তাহলে আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে মুক্ত করার পথ বন্ধ হবে। তাই রায়ের আগেই আইনি প্রক্রিয়ায় জোর দেয়ার তাগিদ দেন তিনি।
সূত্র জানায়, বৈঠকে নির্বাচনী জোটসঙ্গীদের কার্যক্রম নিয়ে বিশ্লেষণ হয়। বলা হয় বিএনপির রাজনীতি এখন অনেকটাই জোটকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপিকে বের হতে হবে। নিজেদের মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সংগঠন শক্তিশালী করতে হবে। জামায়াত নিয়ে আপত্তি তুলে এক নেতা বলেন, জামায়াত নানা কারণে বিএনপির জন্য দায় হয়ে পড়েছে। এখনই জামায়াত ছেড়ে দেয়ার চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার তাগিদ দেন তিনি।
তার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অপর এক নেতা বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছেন। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত বিতর্কের বিষয়টি সরকারের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছে। একটি দেশের নাম উল্লেখ করে ওই নেতা বলেন, ওই দেশটি নানা অজুহাতে বিএনপিকে নসিহত করলেও তারা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কখনো কিছু করবে না। তাই জামায়াত বিষয়ে সরকার কোনো কিছু না করলে বিএনপির পক্ষ থেকেও কিছু করা ঠিক হবে না। এমন অবস্থায় দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই মূহর্তে নয়, সুবিধাজনক সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এরপর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ভেঙে দেয়ার প্রসঙ্গ তোলেন ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি থেকে বাদপড়া দুজন নেতা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ না করে তারা বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল নাকি ভুল ছিল তা ইতিহাস একদিন তুলে ধরবে। তবে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা প্রধানমন্ত্রী হবেন এ আশায় বাস্তবতাকে বাদ দিয়ে তিনি নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। তবে এই মুহূর্তে নয়, আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হবে বলে তাদের থামিয়ে দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, নির্বাচনের পরে বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ওই সব নিষ্ক্রিয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলতেই স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকেন তারেক রহমান। গত বুধবার তিনি স্থায়ী কমিটির নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। তবে তিনি নিজের কোনো মত দেননি।