‘সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দিতে পারলেই খেলতে যাবে বাংলাদেশ : পাপন

আগের সংবাদ

সোনাগাজীতে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী দীন মোহাম্মদের গনসংযোগ

পরের সংবাদ

ডাকসু নির্বাচন

অনশনে শিক্ষার্থীরা ঢাবি প্রশাসন অনড়

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৫, ২০১৯ , ১:৫৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ১৫, ২০১৯, ২:১২ অপরাহ্ণ

Avatar

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচনের ফল বাতিল করে পুনঃতফসিলের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছে শিক্ষার্থীদের দুটি গ্রুপ। অনশনকারীরা ডাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্রসহ বিভিন্ন প্যানেলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। একটি গ্রুপ বসেছে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে, অপরটি রোকেয়া হলের ফটকে। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিন পার করেছে। আর রোকেয়া হলে দ্বিতীয় দিন। অনশনরতরা বলেছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন চলবে। তবে শিক্ষার্থীদের এ দাবিকে আমলে নিচ্ছে না ঢাবি প্রশাসন। উপাচার্যের মতে, সবার অক্লান্ত চেষ্টায় সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনের ফলাফলে অশ্রদ্ধা দেখানোর এখতিয়ার কারো নেই।
ভোট বাতিল করে নতুন নির্বাচন দেয়ার দাবিতে দুদিন ধরে আন্দোলন করছে গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে থাকা কয়েকটি প্যানেল। ভিপি পদে নির্বাচিত সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নুরুল হক নূরও এই ভোট বাতিলের কথা বলে আসছেন। বাম ছাত্রজোটের নেতা লিটন নন্দী ও উম্মে হাবিবা বেনজির, স্বতন্ত্র জিএস প্রার্থী আসিফুর রহমানসহ অন্যান্য প্যানেলের নেতারাও এ দাবিকে সমর্থন করে প্রশাসনকে শনিবার পর্যন্ত আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ৩১ মার্চের মধ্যে তারা ডাকসু নির্বাচন চান। তাদের এ দাবিকে নাকচ করে দিয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বুধবার বলেছেন, সবার অক্লান্ত পরিশ্রমে যে নির্বাচন হয়েছে, তার ফলাফলকে ‘অশ্রদ্ধা দেখানোর’ এখতিয়ার কারো নেই। নিয়ম মেনেই নির্বাচিতদের দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সারা হবে।
ডাকসু নির্বাচনের পরদিন মঙ্গলবার রাতে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন শুরু করেন চার শিক্ষার্থী। পরে যুক্ত হন আরো দুজন। বুধবার একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর যুক্ত হন আরো দুজন। সেখানে অনশনরতদের একজন রাফিয়া তামান্না গণমাধ্যমে বলেন, আমাদের শরীরে যতক্ষণ শক্তি আছে ততক্ষণ অনশন চলবে। আমাদের মতো আমরা অনশন চালাব। ঢাবি কর্তৃপক্ষ এখনো আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি। এমনকি হাসপাতালে যিনি ভর্তি আছেন, তাকেও কেউ দেখতে যায়নি। এখানে আরো যারা অনশনে আছেন তারা হলেন ভূতত্ত্ব বিভাগের আল মাহমুদ ত্বাহা, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শোয়েব মাহমুদ, পপুলেশন সায়েন্সের দ্বিতীয় বর্ষের মাঈন উদ্দীন, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তাওহীদ তানজিম। তাদের মধ্যে তাওহীদ স্বতন্ত্র জোটের হয়ে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক পদে, অনিন্দ্য, শোয়েব ও মাঈন উদ্দিন হল সংসদের বিভিন্ন পদে প্রার্থী ছিলেন। পরে বামজোটের আন্তর্জাতিক সম্পাদক প্রার্থী মীর আরাফাত মানব ও সমাজসেবা সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল ইসলাম অনশনে যুক্ত হন।
এদিকে রোকেয়া হল সংসদ নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন ও হল প্রাধ্যক্ষ ড. জিনাত হুদার পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে অনশনে বসেছেন ওই হলের পাঁচ শিক্ষার্থী। বুধবার রাত ৯টায় হলের ফটকে অনশনে বসেন তারা। পাঁচজনের মধ্যে ইসলামিক স্টাডিজের রাফিয়া সুলতানা, উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সায়েদা আফরিন, একই বিভাগের জয়ন্তী রেজা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শ্রবণা শফিক দীপ্তি ও ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রমি খিশা। তাদের মধ্যে রাফিয়া রোকেয়া হল সংসদে ভিপি পদে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রার্থী ছিলেন। দীপ্তি স্বতন্ত্র জোট থেকে ডাকসুর স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। ছাত্র ফেডারেশনের সায়েদা হল সংসদের এজিএস এবং প্রমি খিসা সদস্য পদে নির্বাচন করেন। তাদের চার দফার দাবির আরেকটি হলো ভোটের দিন হলে প্রাধ্যক্ষের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে সাত প্রার্থীসহ ৪০ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
অনশনরত প্রার্থীদের মধ্যে একজন প্রমি গণমাধ্যমে বলেন, প্রভোস্ট, প্রক্টর বা ভিসি কেউ আমাদের সঙ্গে দেখা করেননি, কথা বলেননি। বরং প্রক্টরিয়াল টিমের বাহিনী এসে আমাদের উঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। ছাত্রলীগের কর্মীরা বারবার এসে আমাদের এখানে মহড়া দিয়ে যায়, রাতের বেলা অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। ঢাবি কর্তৃপক্ষ এমন আচরণ করছে যেন আমরা মরে গেলেও তাদের কিছু যায় আসে না।
এদিকে শিক্ষার্থীদের অনশন ও তাদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক বিষয়ে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ড. জিনাত হুদা। তিনি বলেন, বুধবার রাতে আমরা কেউ ঘুমাইনি। আমাদের হাউস টিউটররা ছিলেন, প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা এসেছিলেন। অনশনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তাদের ডেকেছিলাম, কিন্তু তারা আসেনি। নিজে কেন কথা বলতে যাননি এমন এক প্রশ্নের জবাবে ড. জিনাত বলেন, তারা তো হলের বাইরে অবস্থান করছে। হলের ভেতরে হলে তাদের কাছে যাওয়ার কথা আসত।
এদিকে রোকেয়া হলের সামনে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানাতে গতকাল দুপুরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূর। বেলা দেড়টায় সেখানে আসেন তিনি। সেখানে নূর বলেন, ঢাবির ৪-৫ জন শিক্ষার্থীও যদি অনশন করে তার একটা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। গান্ধী একজন ছিলেন, বঙ্গবন্ধু একজন ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা কিন্তু প্রথমে একাই লড়েছেন। আজকে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে প্রতিবাদ করছে আমি নৈতিকভাবে তার প্রতি সমর্থন দিয়েছি, এখনো দিচ্ছি। রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করে ভিপি নূর বলেন, তিনি আমাকে ও ছাত্রীদের দেখে নেয়ার যে হুমকি দিয়েছেন, তাতে করে তিনি আর ওই পদে থাকতে পারেন না। তার অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিত।
এর আগে নিজের প্যানেলের অন্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ঢাবির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন নূর। সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। নূর বলেন, আমার একটি সংগঠন আছে। তারা আমার সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছে, শ্রম দিয়েছে, সময় দিয়েছে। নির্বাচনে এত কারচুপির মধ্যেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমার পক্ষে কাজ করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি, তাদের মোটিভ কী, তারা কী চাচ্ছে, সেটা বোঝার চেষ্টা করছি। তারা যদি চায় যে আমি ভিপি হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তাদের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করি, তাহলে সেটা করব। আর যদি না চায় তাহলে আমি দায়িত্ব নেব না।