নিউইয়র্কে বর্ণবাদের শিকার তানিশা!

আগের সংবাদ

মার্চে শুরু ‘মিশন এক্সট্রিম’

পরের সংবাদ

হাসপাতালে ডাক্তারদের প্র্যাকটিস

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা গুরুত্ব দিন

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১৩, ২০১৯ , ৯:১২ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ১৩, ২০১৯, ৯:১২ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

অফিস সময় শেষ করেই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত প্র্যাকটিস করতে বাইরে চলে যান। এতে রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। সরকারি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বাইরে প্র্যাকটিস বন্ধ করতে হবে।

অবশ্য এ জন্য সরকারি হাসপাতালে বসেই যাতে চিকিৎসকরা প্র্যাকটিস করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। দেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে এক ধরনের নৈরাজ্য চলছে। চিকিৎসা অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, ঠিকমতো চিকিৎসক কর্মস্থলে না থাকাসহ নানা অভিযোগ সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে প্রায় শোনা যায়।

এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছি। তবে তা কার্যকর নিয়ে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এ নির্দেশনা দেন।

মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম একটি হলো চিকিৎসাসেবা। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হলে সবচেয়ে উপকারভোগী হবেন গ্রামের হতদরিদ্র মানুষ। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় অংশই গ্রামে বসবাস করে। গ্রামের কৃষক ও হতদরিদ্র মানুষ তাদের চিকিৎসার জন্য নির্ভর করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর ওপর।

কিন্তু এগুলো নানা রকম সংকট অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় আক্রান্ত। তাই গ্রামীণ দরিদ্র মানুষ প্রতিনিয়তই বঞ্চিত হচ্ছেন কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা থেকে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বড় সংকট হলো লোকবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদির। আবার যে সরঞ্জামাদি আছে তারও সদ্ব্যবহার হয় না, যে লোকবল নিয়োজিত আছে তাদেরও কর্মস্থলে যথাযথ দায়িত্ব পালন নিশ্চিত হচ্ছে না।

এখানে মেডিকেল অফিসারদের নিয়মিত উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শহরমুখী মানসিকতার কারণে অনুপস্থিত থাকছেন নিয়মিত কর্মক্ষেত্র থেকে। আবার অনেক চিকিৎসক শহর থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে গিয়ে দায়সারাভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির কারণে নার্সরা দায়িত্বে অবহেলা করে থাকে।

দেশের তৃণমূলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আন্তরিকতার অভাব নেই। সম্প্রতি দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকদের দুই শিফট সেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে সরকার থেকে, যাতে মানুষ সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পেতে পারে। কিন্তু যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাবে সরকারের উদ্যোগগুলোর কাক্সিক্ষত সুফল পাচ্ছেন না।

বিশেষ করে চিকিৎসক না থাকার কারণে প্রতিনিয়ত রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতাল ও গ্রাম পর্যায়ের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোকে প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জামাদি, ওষুধপত্র সরবরাহ করতে হবে।

বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোগীকে সংরক্ষণ উপযোগী চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র দেয়া ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জরুরি ওষুধপত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা খুবই দরকার। একই সঙ্গে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যথাযথ দায়িত্বপালন নিশ্চিত করা, অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রোধ করার জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের নজরদারি দরকার।