সেন্টমার্টিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসি

আগের সংবাদ

পাবনায় ট্রাকের চাপায় বৃদ্ধ নিহত

পরের সংবাদ

ডাকসু নির্বাচন আমাদের কি শিক্ষা দিল?

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১২, ২০১৯ , ৯:৪৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৯, ৯:৪৬ অপরাহ্ণ

অনলাইন প্রতিবেদক

আব্দুল্লাহ আল মাউন

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের দ্বিতীয় পার্লামেন্ট খ্যাত এই ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, জনগণ ও গণমাধ্যমের মধ্যে উচ্ছ্বাসের কোনো কমতি ছিল না। পাশাপাশি দেশের অন্য সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলোও তাকিয়ে ছিল ডাকসু নির্বাচনের দিকে। পত্রপত্রিকা, টেলিভিশনের টকশো থেকে শুরু করে প্রায় সব জায়গাতেই ডাকসু নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। প্রায় সব আলোচনাতেই একটা প্রশ্ন সবার মাঝে ঘুরেফিরে এসেছে ডাকসু নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে কিংবা আদৌ সুষ্ঠু হবে কিনা। অবশেষে ডাকসু নির্বাচন হয়ে গেল, তবে আমাদের সবার মনে প্রশ্ন জেগেছে আসলে ডাকসু আমাদের কি শিক্ষা দিল? ডাকসু নির্বাচন নিয়ে যে আশার আলো টিমটিম করে জ্বলছিল সেই আশার প্রদীপটিও এবার নিবে গেল কিনা- সে প্রশ্নের জন্ম হলো আবার।

এখানে বলা বাহুল্য জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং ডাকসু নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের মাঝে একটা বিরাট তফাৎ আছে। ডাকসুতে যারা ভোটার ছিলেন তারা সবাই সচেতন, শিক্ষিত ও মার্জিত রুচির অধিকারী। অপরপক্ষে ডাকসু নির্বাচনের দায়িত্বে যারা ছিলেন তারা দেশের মেধাবী ছাত্রদের অভিভাবক সমতুল্য শিক্ষক। মাত্র তেতাল্লিশ হাজারের কিছু বেশি ভোটার নিয়ে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে এবং কোনোরকম ভোট কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন আয়োজন করা তেমন কোনো কষ্টসাধ্য ব্যাপার ছিল না। শিক্ষকরা যে দলের মতাদর্শে বিশ্বাসী হোন না কেন (কারণ শিক্ষকের কাছে সব ছাত্রছাত্রী সমান) শিক্ষকদের উচিত ছিল তাদের দিকে যেন কোনো অভিযোগের আঙুল তেড়ে না আসে সেদিকে আগে থেকেই নজর দেয়া। কিন্তু আমরা লক্ষ করেছি অস্বচ্ছ ব্যালট ও সিল মেরে রাখার অভিযোগে কুয়েত-মৈত্রী হলে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয় সহউপাচার্য ও প্রক্টর মহোদয়কে। এমন পক্ষপাতদুষ্ট আচরণে স্বয়ং দেশের শিক্ষক সমাজ বিব্রতবোধ করছেন। বিশিষ্ট কলামিস্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তেমনিভাবে ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা প্রশাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, শিক্ষক হিসেবে আমরা যে উচ্চ নৈতিকতার কথা বলতাম সেটি আর থাকল না।

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকসু নির্বাচনের দাবিতে দেশের বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি হচ্ছে। লেখার মূল কারণ হলো ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা অতীতে যোগ্য, ত্যাগী ও আদর্শ নেতৃত্ব পেয়েছি। দীর্ঘ সময় ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ার ফলে আমাদের দেশ যোগ্য নেতৃত্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পত্রিকায় অনেককে লিখতে দেখেছি যে তৃণমূল থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগটা এভাবেই নষ্ট হয়েছে।

গত নির্বাচনের হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য বেশি। তরুণরা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় আসতে পারছে না বলে এ শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। কিন্তু নেতৃত্ব তৈরির সর্বশেষ যে আশার আলো ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা আশা করেছিলাম তা আবারো ব্যাপক কারচুপি, মারামারি ও ভোটের আগেই ব্যালট ভর্তি করে রাখার মতো নানান অভিযোগ ও পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করার মধ্য দিয়ে হতাশা করল দেশের সব নাগরিককে। এই ডাকসু নির্বাচনের প্রক্রিয়া দেশের অন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে আলাদা কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা তা ভাবতে হবে নতুন করে।

আব্দুল্লাহ আল মাউন : শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।