এবার রাজনীতিতে মিমি-নুসরাত

আগের সংবাদ

আমি শেষ বেলার মন্ত্রী, একটু পরেই গোধূলি নামবে

পরের সংবাদ

অভয়ারণ্যে ইলিশ শিকার

আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১২, ২০১৯ , ৯:৩৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ১২, ২০১৯, ৯:৩৫ অপরাহ্ণ

Avatar

১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইলিশের অভয়ারণ্য হিসেবে চিহ্নিত অংশগুলোতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পদ্মা-মেঘনাসহ দেশে ইলিশ বিচরণের অভয়াশ্রমে জাটকা শিকার চলছে। এ বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণাও কাজে আসে না। বিভিন্ন জায়গায় জেলেদের আটকেরও খবর আসছে।

মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি জানিয়েছেন জেলেরা। এমতাবস্থায় এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা অত্যন্ত দুরূহ। গত শুক্রবার ভোলা উপজেলার তুলাতুলির মেঘনা নদী সংলগ্ন ঘাটে জাল ফেলেন জেলেরা। পরে অভিযান চালিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় ৩ জেলেকে আটক করে কোস্টগার্ড।

আরেকটি খবরে জানা যায়, শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইলিশের অভয়ারণ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইলিশ শিকার চলছে। মৎস্য বিভাগ ইতোমধ্যে অভিযান চালিয়েছে; ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪৪ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া একটি স্পিডবোট, চারটি নৌকা এবং ১ লাখ ২০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। তবু মাছ ধরা বন্ধ হচ্ছে না। জেলেরা বলছেন, চার মাসের জন্য যে চাল দেয়, তা আসলে তারা ঠিকভাবে পান না। তবে ঠিক উল্টো চিত্র চাঁদপুরে। শহরের ইলিশের মোকামগুলোতে চোখে পড়েছে সুনসান নীরবতা।

আড়ৎগুলোতে ব্যবসায়ীদের দেখা মিললেও ছিল না ইলিশের বেচাকেনা। জেলেরাও মধ্যরাত থেকে মাছ ধরা বন্ধ রেখেছেন। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় ৫০ হাজার জেলে পড়েছেন চরম বিপাকে। সাম্প্রতিককালে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ও জাটকা নিধন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে অনেকটাই ভূমিকা রেখেছে জেলেরা।

সরকার গৃহীত এসব কার্যক্রম যে শতভাগ সফল হয়েছে তা বলা যাবে না, আরো সফল হলে নিশ্চয় এর সুফল আরো বেশি পাওয়া সম্ভব। আমরা মনে করি এই এক মাস মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল দেশের উপকূলীয় এলাকার কয়েক লাখ জেলের জন্য বিকল্প আয়ের বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা খুবই দরকার।

এ ছাড়া দরকার এ ব্যাপারে গণসচেতনতা তৈরি করা; আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মানুষের নজরদারি নিশ্চিত করা। এখন এ কাজগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেয়া উচিত।

এই সময়ে জাটকা রক্ষার পদক্ষেপ পুরোপুরি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রূপালী ইলিশের সুদিন আমাদের হাতছাড়া হবে না। এর জন্য ইলিশ আহরণকারী, ব্যবসায়ী, ভোক্তা সবার সচেতন ও সংযমী ভূমিকা প্রত্যাশিত।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা