সরকারি কাজে অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত?

আগের সংবাদ

সপরিবারে তাজমহল দর্শনে মাশরাফি

পরের সংবাদ

ঢাকায় থাকা, থাকার ঢাকা

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১১, ২০১৯ , ৯:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ১১, ২০১৯, ৯:৩২ অপরাহ্ণ

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী

অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। নীতিনির্ধারক মহলেও এ নিয়ে ভীষণ অস্বস্তি রয়েছে। তবে আমার ধারণা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। চোখ বন্ধ করে দায়িত্বরতদের আইনের প্রয়োগ সঠিকভাবে করতেই হবে। সেখানে কে অভিজাত, কে সাধারণ, কে মন্ত্রী, কে গাড়িচালক- এসব দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। নিয়ম মতো রাস্তায় চলাচল, যানবাহন চলাচল ইত্যাদি দেখভাল করা হলে রাস্তাঘাটে বর্তমানে যে ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে তার অনেকটাই কমে যেতে বাধ্য।

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। স্বভাবতই ঢাকায় কর্মসূত্রে মানুষকে আসতে হয়, থাকতে হয়- এভাবে থাকতে থাকতেই ঢাকা এখন পৃথিবীর অন্যতম জনবসতিপূর্ণ শহরে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় পৃথিবীর ১৭তম স্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ শহরের তালিকায় ঢাকার নাম উঠে এসেছে। বুঝা যাচ্ছে আমাদের চেয়েও খারাপ আরো ১৬টি শহর পৃথিবীতে রয়েছে। সুতরাং এখনই যদি ঢাকাকে মানুষের বাসযোগ্য না করা হয়, তাহলে আমাদের অবস্থান ক্রমেই উপরের দিকে উঠতে থাকবে। এক নম্বরে ওঠা বড় কথা নয়। কিন্তু বেঁচে থাকাটি সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে এখনই আমাদের হাতে বোধহয় কিছুটা সুযোগ রয়েছে যখন আমরা বিপর্যয়ের ধারাকে প্রতিহত করে টিকে থাকার চেষ্টা করতে পারি।

ঢাকা শহর যে কতটা জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সেটি নিমতলী ও চকবাজারের ভয়াবহ অগ্নিকা-ের ঘটনা থেকেই অনুমান করা যেতে পারে। এ ধরনের অগ্নিকা- ঘটার মতো বাস্তবতা তথা দাহ্য পদার্থ শুধু পুরান ঢাকাতেই নয়, নতুন অভিজাত এলাকায়ও নেই- এমনটি বলা যাবে না। কেননা অপরিকল্পিতভাবে ঢাকা শহর গত প্রায় সাড়ে চার দশক ধরে যেভাবে বেড়ে উঠেছে তাতে এর ধারণক্ষমতা অনেক আগেই অতিক্রম করে ফেলেছে। এখানে বসতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, দোকানপাট, হাটবাজার, নর্দমা, সরু অলিগলি- সবই একাকার হয়ে আছে। এমনকি যে গুলশানকে একসময় আমরা অভিজাত এলাকা বলতাম, সাধারণ মানুষ যেখানে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারত না সেই গুলশান এলাকা এখন অনেকটাই গুলিস্তানের মতো জনাকীর্ণ হয়ে উঠেছে। ঢাকায় আরো ভালো থাকার জন্য অভিজাতরা উত্তরায় মডেল টাউন নামে দ্বিতীয় অভিজাত এলাকা তৈরি করেছে। কিন্তু সেই মডেল টাউন এলাকাতেও আবাসিক বাসভবন, দোকানপাট, ক্লিনিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাটবাজার, ইত্যাদি নিয়মনীতি ভঙ্গ করে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে। দ্বিতীয় গুলিস্তান বললে অভিজাতদের মনে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া হওয়ার কারণ আর অবশিষ্ট নেই। মানুষ চলছে জনস্রোতের মতো, ফেরি করে কি না বিক্রি করা হয়? উত্তরাকেও এখন আর পুরান ঢাকা থেকে খুব বেশি আলাদা করে দেখার নেই। ধানমন্ডির কথা ভুক্তভোগীরাই ভালো জানেন। সেখানে আবাসিক ভবনগুলো এখন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইভেট ক্লিনিক, শোরুম, দোকানপাট ইত্যাদিতে ভরে গেছে। গাড়ি নিয়ে যাওয়া যেমন কষ্টকর, বের হওয়াও আরেক যুদ্ধের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। এসব এলাকা থেকে এখন পরিত্রাণ পেতে অনেকেই পূর্বাচলের কথা ভাবছে। এখন পর্যন্ত পূর্বাচল স্বপ্নের নগরী, বাস্তবে কেমন হবে তা বলা যাচ্ছে না। কেননা প্লট বরাদ্দই এখনো শেষ হয়নি। কবে শেষ হবে তা বলা মুশকিল। যদিও গৃহায়ন ও গণপূর্ণমন্ত্রী এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম রাজউককে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সব প্লট মালিকদের বুঝিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এ নির্দেশ রাজউক কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে, সেটি সবারই সন্দেহের বিষয়। পূর্বাচলে যদি আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে আবাসিক, ব্যবসাকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসালয়, স্টেডিয়াম, খেলাধুলার মাঠ, পার্ক, হাটবাজার, যাতায়াত ব্যবস্থা ইত্যাদি কাজ শুরু হয় তাহলে ঢাকার ওপর যে ধরনের বাড়তি চাপ এখন দিন দিন আরোপিত হচ্ছে সেটি কিছুটা হলেও হয়তো লাঘব হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে পূর্বাচল যেভাবে স্বপ্ন দেখাচ্ছে শেষ পর্যন্ত সেটি ধরে রাখতে পারবে কিনা তা অদূর ভবিষ্যতেই দেখা যাবে। পূর্বাচল ছাড়াও উত্তরার বেশ কিছু সেক্টর রয়েছে যেগুলো এখনো পর্যন্ত প্রতিশ্রুত আবাসিক এলাকায় পরিণত হতে পারেনি। কেন পারেনি জানি না। তবে সেখানেও যদি ঢাকাকে কিছুটা সম্প্রসারিত করা যেত, সে ধরনের উদ্যোগ থাকত, তাহলে উত্তরার বর্তমান আবাসিক এলাকাগুলো এতটা হতাশজনক অবস্থায় যেত না। এর অন্যতম কারণ বোধহয় যোগাযোগ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা, অবিকশিত এলাকায় নানা ধরনের সামাজিক সমস্যার উৎপাত, অসামাজিক গোষ্ঠীর সংঘবদ্ধ তৎপরতা, মানুষের চলাচলে নানা ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কা ইত্যাদি। বিষয়টি সম্ভবত পূর্বাচলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে যাচ্ছে। সেখানে রাজউকের প্রভাবের চেয়ে এক শ্রেণির দালাল ও সংঘবদ্ধ চক্রের অবস্থান বেশ দৃশ্যমান হয়ে আছে। সরকারের উচিত হবে দ্রুত এসব আবাসিক এলাকায় অপরাধের সঙ্গে জড়িত সব অপশক্তিকে হটিয়ে দেয়া। মালিকদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত, বাড়িঘর নির্মাণ, বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। তাহলে অন্তত উত্তরা ও পূর্বাচল অঞ্চলে ঢাকা নতুনভাবে বেড়ে ওঠা, গড়ে ওঠা ও বসতি স্থাপনসহ যাবতীয় কর্মকা-ে নতুন জীবন খুঁজে পাবে। পুরান ঢাকার ওপর বর্তমান যে চাপটি রয়েছে তা দ্রুত লাঘব হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা, বনশ্রী, বাড্ডা ইত্যাদি অঞ্চলের বাড়তি চাপ কমে আসতে পারে।

ঢাকাকে এখন আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের সম্মুখের দৃষ্টি দিয়ে দেখা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ২০২১ সালের ডেল্টা প্রকল্প বাস্তবায়নের রূপরেখা যেভাবে দিয়েছেন একই সঙ্গে ঢাকাকেও যুক্ত করার কোনো বিকল্প নেই। ঢাকার সচিবালয় এখন কতটা মানুষের সেবাদানে কাজ করতে পারছে তা নিয়ে ভাবতে হবে। শেরেবাংলা নগরে অনেক কিছুই করা হচ্ছে। প্রয়োজন উত্তরা পূর্বাচলসহ নতুন এলাকায় এমন কিছু করা, যা ঢাকার ওপর বাড়তি চাপকে অদূর ভবিষ্যতে প্রশমিত করতে সহযোগিতা করবে। পরিকল্পিতভাবে সরকারি অফিস, বাণিজ্যিক এলাকা, মানুষের যাতায়াত, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, বিনোদন, তথ্যপ্রযুক্তি, নানা ধরনের মেলার আবাসন ইত্যাদি স্থাপনা এখনই নতুনভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। বিশেষত ঢাকা শহর এখন যেভাবে যানবাহনে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে সেটিকে কীভাবে সামনের দিনগুলোতে মোকাবেলা করতে হবে তা নির্ধারণ করতেই হবে। ঢাকা শহরে এ মুহূর্তে বড় বড় মেগা প্রজেক্টের কাজ চলছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি হচ্ছে, মেট্রোরেল হচ্ছে, তাতে এক ধরনের আশাবাদ তৈরি হচ্ছে। তবে এসব নির্মাণ কাজের জন্য এখন ঢাকার অনেক এলাকায় নানা ভোগান্তিও হচ্ছে। যার ফলে যানজট দীর্ঘতর হচ্ছে। মানুষের কর্মক্ষমতা কমে যাচ্ছে। কর্মঘণ্টাও পাওয়া যাচ্ছে না। তবে এই মেগা প্রকল্পগুলো চালু হলে কয়েক বছর হয়তো কিছুটা যান চলাচলে স্বস্তি আসতে পারে। কিন্তু শেষ বিচারে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। সে জন্য প্রয়োজন পাতাল রেলের গুরুত্বের কথা ভাবা। পৃথিবীব্যাপী পাতাল রেল গত ৭০-৮০ বছরে বড় বড় শহরগুলোতে যেভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, মানুষের যোগাযোগ ও যাতায়াতে নির্ভরযোগ্য বাহন হয়ে উঠেছে, সেটি অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বাংলাদেশ এখন যে উন্নয়নে স্রোতে যুক্ত হয়েছে তাকে অধিকতর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে হলে পাতাল রেলের কোনো বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। এটি নির্মাণে জনভোগান্তির কোনো কারণ নেই। তবে বাংলাদেশের মাটি ও পানির বাস্তবতা বিবেচনা করে এর নির্মাণে প্রযুক্তি ও কলাকৌশল আমাদের হয়তো আয়ত্ত করতে হবে। পাশের দেশ ভারতের কলকাতায় গত তিন-চার দশকে পাতাল রেল যেভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে তা থেকে আমাদের উদ্বুদ্ধ হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। ঢাকাতেও পাতাল রেল করা গেলে মানুষের চলাচল ও যাতায়াত অনেক বেশি দ্রুত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। ঢাকা বর্তমানে জনজীবনের দুর্ভোগ ও স্থবিরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটি থাকার কোনো কারণ থাকবে না। বাস্তবে ঢাকা শহরের ওপর দিয়ে রাস্তাঘাট করার মতো জায়গা নেই। ফলে নতুন সড়ক ও সংযোগ সৃষ্টি করার সুযোগ খুবই সীমিত হয়ে আছে। এটি নগর পরিকল্পনাবিদরাও জানেন। সুতরাং ঢাকা বাংলাদেশের শুধু রাজধানী নয়, উন্নত নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য পূর্বে নারায়ণগঞ্জ, পশ্চিমে হেমায়েতপুর, উত্তরে টঙ্গী-গাজীপুর-আশুলিয়া এবং দক্ষিণে জাজিরা-কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে যোগাযোগ, যাতায়াত আবাসিক এলাকা, মানুষের প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধার প্রাপ্যতা নিয়ে তৈরি করতে হবে। পাতাল রেলটি সেভাবে বিস্তৃত করা গেলে ঢাকা শহর এই চলতি একুশ শতকে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।

ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। নীতিনির্ধারক মহলেও এ নিয়ে ভীষণ অস্বস্তি রয়েছে। তবে আমার ধারণা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। চোখ বন্ধ করে দায়িত্বরতদের আইনের প্রয়োগ সঠিকভাবে করতেই হবে। সেখানে কে অভিজাত, কে সাধারণ, কে মন্ত্রী, কে গাড়িচালক- এসব দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। নিয়ম মতো রাস্তায় চলাচল, যানবাহন চলাচল ইত্যাদি দেখভাল করা হলে রাস্তাঘাটে বর্তমানে যে ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়ে থাকে তার অনেকটাই কমে যেতে বাধ্য। আমাদের এখানে রাস্তায় যানজট সৃষ্টির অন্যতম কারণ হচ্ছে ট্রাফিক আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য না হওয়া। সেটি করা গেলে শৃঙ্খলা ফিরে আসতে বাধ্য। এখন ঢাকা শহরে যেভাবে উন্নয়ন কর্মকা- হচ্ছে তাতে মানুষের যাতায়াত যোগাযোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। সেখানে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করার ফলে সবার জন্যই যানজট সমস্যার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনযাপন বেশ কষ্টকর হয়ে উঠেছে। বেশিরভাগ মানুষই এখন ঢাকাকে অভিশাপ দিচ্ছে। এত অভিশাপ নিয়ে ঢাকা সুন্দরভাবে চলবে কীভাবে? চলার কথা নয়। এখন অভিশাপ নয় আশীর্বাদ দরকার। সে আশীর্বাদটি হচ্ছে ঢাকাকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠার নানা উদ্যোগ দেখানো। আমাদের বিশ্বাস, বর্তমান সরকার সেই আশীর্বাদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে দ্বিধা করবে না। তাহলেই ঢাকা থাকার ঢাকায় পরিণত হবে। এখন সবাইকে যার যার মতো করে থাকতে হচ্ছে, তাই যে যেভাবে পারছে সেভাবেই থাকছে। দেড়-দুই কোটি মানুষ যেভাবে এখন থাকছে সেটি থাকার ঢাকা নয়। প্রয়োজন মানুষের মতো সুন্দর জীবন, স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা, রুটিরুজির সুযোগ সৃষ্টি, শিক্ষা-সংস্কৃতি, চিকিৎসা, বিনোদন ও নিঃশ্বাস নেয়ার প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয়া। তবেই ঢাকা হবে থাকার ঢাকা।

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : অধ্যাপক, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।