ভারী হচ্ছে যৌথ প্রযোজনার ব্যর্থতার পাল্লা

আগের সংবাদ

নারীর অগ্রযাত্রায় বাধা নয়

পরের সংবাদ

ডাকসু নির্বাচন

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সম্ভাবনা

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১০, ২০১৯ , ৮:৫২ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৯, ৮:৫২ অপরাহ্ণ

Avatar

বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচন আজ। দীর্ঘ আন্দোলন, সংগ্রাম ও আইনি লড়াই পেরিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এ নির্বাচন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের দিকেই এখন নজর সবার। নির্বাচনের প্রার্থী, ভোটার, ছাত্র সংগঠন সবার চাওয়া- সুষ্ঠু ভোট ও শান্তিপূর্ণ ভোট। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানই এখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ।

ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা তথা বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর নেতৃত্বে ছিলেন- এমন অনেকেই আজ জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ডাকসু ও ছাত্রসমাজের অনন্যসাধারণ ভূমিকার কথা নতুন করে বলার দরকার পড়ে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ও পরিচালনার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা অর্জন করেন গণতন্ত্রের প্রায়োগিক শিক্ষা। শিক্ষালাভ করেন অধিকার সচেতনতার। বিকশিত হয় নেতৃত্বের গুণাবলি।

কিন্তু বাংলাদেশে ১৯৯১ সালে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আর ডাকসু নির্বাচন হয়নি। সর্বশেষ ডাকসুর ভোট হয়েছিল ১৯৯০ সালের ৬ জুন। ক্যাম্পাসে প্রায় সব ছাত্র সংগঠনই সেবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিল; যদিও তখন পরিস্থিতি মোটেও শান্ত ছিল না। ডাকসু প্রতিষ্ঠা হয় ১৯২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে।

প্রথম নির্বাচন হয় ১৯৫৩ সালে। ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সাতবার ডাকসু নির্বাচন হয়। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর গত ২৮ বছরে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। এর মধ্যে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত সাত বছরে তিনবার তফসিল ঘোষণা করা হলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন হয়নি। দীর্ঘ ২৮ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে এটা খুবই আশার কথা।

নির্বাচনে মোট ভোটার ৪৩ হাজার ১৭৩ জন। মোট প্রার্থী ৭৩৮ জন। প্রার্থী হয়েছেন ২২৯ জন। ১৮টি হল সংসদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫০৯ জন। প্যানেল সংখ্যা ১০। এর বাইরে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। অবশ্য ক্যাম্পাসে কার্যক্রম দৃশ্যমান রয়েছে ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশনসহ হাতেগোনা কয়েকটি বাম সংগঠনের।

বাম সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা বলছে, ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একচ্ছত্র আধিপত্য। হলগুলোর নিয়ন্ত্রণও তাদের হাতে। কিন্তু ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সবার সহাবস্থান জরুরি ছিল। ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে সব জায়গায় সহাবস্থান থাকতে হবে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্রে করে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের ছাত্ররাজনীতি প্রাণ ফিরে পাবে। আমরা আশা করব, দীর্ঘ বিরতির পর যে ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে, তা উৎসবমুখর পরিবেশে সবার অংশগ্রহণে ও কোনো রকম অনিয়ম ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে।