ভাঁজ করা ফোন পেয়েছে পুরস্কার

আগের সংবাদ

ভিডিও সম্পাদনা ল্যাপটপেই

পরের সংবাদ

ঘাটাইলে ইটভাটা নিয়ে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ১০, ২০১৯ , ২:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ১০, ২০১৯, ২:৪৭ অপরাহ্ণ

Avatar

ঘাটাইল উপজেলার বনের ভেতর, আবাসিক এলাকা, তিনফসলি নামা জমি, স্কুল, মদ্রাসা, মসজিদ, ছাড়া ও মহাসড়ক সংলগ্ন গড়ে ওঠা ইটভাটা নিয়ে চলছে শুভঙ্করের ফাঁকি। মালিক পক্ষ লাইসেন্স না করেই উচ্চ আদালতের রিট করে বেআইনীভাবে বছরের পর বছর এসব অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। তারা আইন না মানায় একদিকে নষ্ট হচ্ছে বনজ সম্পদ, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। অন্যদিকে গ্রামীন রাস্তাঘাট ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরছে। সেই সঙ্গে ভাটার মালিকরা জমির উর্বর মাটি ও পরিবেশ দূষণে ব্যাপক হারে ক্ষতি করলেও স্থানীয় প্রশাসন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা না নিয়ে নানা অজুহাত দেখিয়ে মালিক পক্ষকে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা দিযে চলছে।

জানা যায় ঘাটাইল উপজেলায় ৭৬টি ইটভাটা রয়েছে। তাছাড়াও চলতি বছর প্রশাসনের পরোক্ষ মদদে সেচ পাম্প বন্ধ করে তিন ফসলের নামা জমিতে আরও ২টি ইটভাপটা গড়ার কাজ চলছে। এর মধ্যে ৪০টির অধিক পরিবেশ ছাড়পত্রহীন। এগুলোর লাইসেন্স ও মেয়াদোর্ত্তীন তিন ফসলি জমি ছাড়াও স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, এলজিডি রাস্তা সংলগ্ন ইটভাটা স্থাপন করার বিধান না থাকলেও অবৈধ গোড়াপত্তনে স্থানীয় চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বে-আইনীভাবে লাভবান হয়ে আপত্তি নাই মর্মে প্রত্যয়ন পত্র দিয়ে এসব অবৈধ ইটভাটা চলার সুযোগ করে দিচ্ছে।

এসব ইটভাটার মধ্যে ধলাপাড়া ইউনিয়নে বনের ভেতরে গড়ে উঠেছে ১০টি, রসুলপুর ইউনিয়নে বনের ভেতরে ১১টি, দেওপাড়া ইউনিয়নে বনের ভেতরে ০৩টি, দেউলাবাড়ী ইউনিয়নে তিন ফসলি জমিতে ০৮টি, ঘাটাইল সদর ইউনিয়নে ০৪টি, জামুরিয়া ইউনিয়নে আবাসিক এলাকা ও এলজিডি রাস্তার পাশে ১৫টি, আনেহলা ইউনিয়নে ০৬টি, লোকেরপাড়া ইউনিয়নে তিন ফসলি জমি ছাড়াও পাকা রাস্তা সংলগ্ন ০৭টি, দিঘলকান্দি ইউনিয়নে ০২টি, দিগর ইউনিয়নে ০৮টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে।

চলতি বছর নতুন করে লোকেরপাড়া ইউনিয়নে ২টি সেচ পাম্প বন্ধ করে ১টি ও দেউলাবাড়ী ইউনিয়নে ১টি ইটভাটা গড়ার কাজ চলছে। ৭৮টি ইটভাটার মধ্যে ২৫টি বনের ভেতরে গড়ে উঠেছে।

বাকী ৫১টি মধ্যে ২৫টি সংরক্ষিত বনের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। এভাবে ৭৬টি ইটভাটার বিষাক্ত কালোধোঁয়ায় যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ফসলি জমির মাটি গভীর করে কেটে নেওয়ায় জমির উর্বরতাও নষ্ট হচ্ছে। যত্রতত্র ইটভাটা স্থাপন করায় হাইড্রলিক ও ট্রাকের চাপে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ছোট ছোট রাস্তা অল্পদিনেই ভেঙ্গে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পরছে। সর্বোপরি লাভবান হচ্ছে ভাটার মালিক, সুবিধা নিচ্ছেন স্থানীয় প্রশাসন, অপরদিকে ভোগান্তি ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারণ জনগণ। সেই সঙ্গে সরকারের লোকসান হচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা কিভাবে চলে জানতে চাইলে, মালিক সমিতির সভাপতি শাহজাহান আলী জানান যে সমস্ত ইটভাটার লাইসেন্স আছে তারা বাদে যাদের লাইসেন্স নাই তাদের প্রত্যেকের উচ্চ আদালতে রিট করা আছে।

ইরি জমির সেচ পাম্প বন্ধ করে তিন ফসলি জমিতে কিভাবে ইটভাটা করার প্রত্যায়ন পত্র দেয়া হয় জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, উপসহকারী কৃষি অফিসারের তদন্ত রিপোটের প্রেক্ষিতের ভাটার মালিককে প্রত্যয়ন পত্র দেয়া হয়। সেখানে ভুল হলে তদন্ত কর্মকর্তাই দায়ী থাকবে।

লাইসেন্স ছাড়া এসব ইটভাটা কিভাবে চলে জানতে চাইলে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরুন্নাহার বলেন, যদি পরিবেশ অধিদপ্তর ও কৃষি অধিদপ্তর ছাড়পত্র দেয় সেক্ষেত্রে আমার করার কিছু নেই।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা