কবিতা পড়ে ৫০০ টাকা পেয়েছিলাম-মারিয়া নূর

আগের সংবাদ

ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৭ হাজার কর্মীর সম্পদের হিসাব জমা

পরের সংবাদ

মৌসুমী-ফেরদৌস জুটির ২০ বছর

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৯, ২০১৯ , ৪:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৯, ৫:৫২ অপরাহ্ণ

Avatar

১৯৯৯ সালে জুটি গড়েছিলেন মৌসুমী ও ফেরদৌস। চলতি বছর তাদের পথচলার ২০ বছর পূরণ হলো। কেমন ছিল এই দীর্ঘ যাত্রা? জানাচ্ছেন স্বাক্ষর শওকত

১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে যে কতগুলো উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটে তার মধ্যে অন্যতম চিত্রনায়িকা হিসেবে মৌসুমীর অভিষেক। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকহৃদয়ে ভ‚-কম্পন ঘটান মৌসুমী। সালমান শাহর সঙ্গে তার স্ক্রিন কেমেস্ট্রি তোলপাড় ফেলে রুপালি জগতে। এক ছবির সাফল্যের পরপরই তরুণ নায়িকাদের মধ্যে প্রথম স্থানে উঠে আসেন মৌসুমী।
মৌসুমীর দোর্দণ্ড প্রতাপের দিনগুলোতে একজন তরুণ নায়ক হিসেবে যাত্রা শুরু করেন ফেরদৌস। ১৯৯৭ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম ছবি অঞ্জন চৌধুরী পরিচালিত ‘পৃথিবী আমারে চায় না’। ছবিটি সুপার ফ্লপ হয়। পরে তিনি সালমান শাহর অসমাপ্ত ছবি ‘বুকের ভেতর আগুনে’ অভিনয় করে আলোচিত হোন। ১৯৯৯ সালে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’ মুক্তির পর শুরু হয় ফেরদৌসের আসল ফিল্ম ক্যারিয়ার। একই বছর তিনি জুটিবদ্ধ হোন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নায়িকা মৌসুমীর সঙ্গে।
১৯৯৯ সালে বাদল খন্দকার পরিচালিত নায়িকাপ্রধান ছবি ‘মিস ডায়না’য় জুটিবদ্ধ হয়ে প্রথম অভিনয় করেন মৌসুমী ও ফেরদৌস। এ ছবিতে মৌসুমীর স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেন ফেরদৌস। নির্যাতনের শিকার এক অসহায় নারী থেকে প্রতিবাদী ‘মিস ডায়না’য় রূপান্তরের গল্প ‘মিস ডায়না’। ব্যবসায়িকভাবে ছবিটি সফলতা পায়নি। কিন্তু এ ছবি থেকে আরম্ভ হয় মৌসুমী ও ফেরদৌসের পথচলা। যা এ বছর দুই দশক পূর্ণ করল।
গত বিশ বছরে একসঙ্গে প্রায় অর্ধশত ছবিতে অভিনয় করেছেন মৌসুমী-ফেরদৌস। এই দুই তারকা যখন জুটি বাঁধেন তখন মান্নার সঙ্গেই ছিল মৌসুমীর গাঢ় বন্ধন। দর্শক মান্না-মৌসুমী জুটিকে পছন্দও করতেন। মান্না অন্যান্য নায়িকার সঙ্গেও চুটিয়ে অভিনয় করতেন। মৌসুমীর ছিল নায়ক সংকট। তার সঙ্গে মেলানোর মতো নায়ক ছিল কম। এ সময়ই নির্মাতাদের নজরে পড়েন মৌসুমী-ফেরদৌস।
নাচ-গান-অ্যাকশনসমৃদ্ধ ছবির মধ্য দিয়েই এই জুটির যাত্রা শুরু। কিন্তু ধীরে ধীরে ফর্মুলা ছবির পাশাপাশি মৌসুমী-ফেরদৌস ভিন্নধারার ছবির অনবদ্য জুটিতে পরিণত হোন। এ ধারার ছবির মধ্যে রয়েছে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘ধ্রæবতারা’, মুশফিকুর রহমান গুলজার পরিচালিত ‘বিন্দুর ছেলে’ ইত্যাদি। মৌসুমীর নিজের পরিচালনায় প্রথম ছবি ‘কখনো মেঘ কখনো আকাশ’ এবং ‘মেহেরনেগারে’ও অভিনয় করেন ফেরদৌস। নায়কের প্রথম প্রযোজনা ‘এক কাপে চা’য়ে আবার অভিনয় করেছেন মৌসুমী।
এই জুটির জনপ্রিয়তা শুরু বাণিজ্যিক ঘরানার ছবি, গানের ছবি, মাটির ছবি ‘খায়রুন সুন্দরী’র অভাবনীয় সাফল্যের পর থেকে। হারিয়ে যাওয়া ফোকধর্মী ছবির পুনর্জন্ম দেন ফেরদৌস-মৌসুমী ‘খায়রুন সুন্দরী’তে। বছরের সেরা ব্যবসা সফল ছবিই শুধু ‘খায়রুন সুন্দরী’র অর্জন নয়, নোংরা ছবির ভিড়ে নারী দর্শকদের হলমুখী করে মৌসুমী-ফেরদৌস জুটি অবদান রাখেন ঢাকাই সিনেমার ইতিহাসেও।
‘খায়রুন সুন্দরী’ সুপারহিট হওয়ার পর এই জুটি অনেকগুলো ফোকধর্মী ছবিতে অভিনয় করেন। কিন্তু কোনোটিই রেকর্ড ভাঙতে পারেনি। ‘বাংলার বউ’, ‘গোলাপজান’, ‘দজ্জাল শাশুড়ি’, ‘ময়নামতির সংসার’, ‘সোনার ময়না পাখি’, ‘ওরে সাম্পানওয়ালা’ ইত্যাদি ফোক ছবিতে মৌসুমী-ফেরদৌসকে পরপর অভিনয় করতে দেখা যায়। সামাজিক রোমান্টিক ছবিতেও এই জুটি ছিলেন ব্যস্ত। ‘বধূবরণ’, ‘তুই যদি আমার হইতিরে’, ‘কুসুম কুসুম প্রেম’, ‘কিছু আশা কিছু ভালোবাসা’ ইত্যাদি ছবিতে মৌসুমী-ফেরদৌস দর্শকদের দেখা দেন।
সর্বশেষ গত বছর এই জুটিকে দুটি ছবিতে দেখা গেছে। একটি ‘খায়রুন সুন্দরী’র নির্মাতা এ কে সোহেল পরিচালিত ‘পবিত্র ভালোবাসা’ এবং অপরটি নবীন নির্মাতা দিলশাদুল হক শিমুল পরিচালিত ‘লিডার’। এখনো মৌসুমী-ফেরদৌস জুটি আছেন নির্মাতাদের ভাবনায়। গত বিশ বছরে নিজেদের কাজের মাধ্যমে এই জুটি একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন। আগামীতেও এই জুটির নাম হারিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।