তবু সরকারি হাসপাতালই ভরসা

আগের সংবাদ

কবিতা পড়ে ৫০০ টাকা পেয়েছিলাম-মারিয়া নূর

পরের সংবাদ

পরিচালনায় শূন্যতা প্রযোজনায় সফলতা

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ৯, ২০১৯ , ৩:৩২ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ৯, ২০১৯, ৩:৩২ অপরাহ্ণ

Avatar

ভালো নেই ঢাকাই সিনেমা। প্রতি বছরই ছবি মুক্তির সংখ্যা কমছে। কমছে প্রযোজক ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। পরিচালকের সংখ্যা মাঝখানে বেড়ে গিয়েছিল। আবার এই সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। ছবি নির্মাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমছে নারী পরিচালকের সংখ্যাও। তবে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো দেখা দিয়েছেন একাধিক নারী প্রযোজক। বিষয়টি আশাব্যঞ্জক হলেও গোটা চিত্র নারী নির্মাতাদের সুসংবাদে ভরপুর নয়।
২০১৬ সালে চারজন নারী পরিচালক ছবি নির্মাণ করেছিলেন। নিজেদের ভাবনা তারা পৌঁছে দিয়েছিলেন দর্শকদের কাছে। রুবাইয়াত হোসেন তার দ্বিতীয় ছবি ‘আন্ডারকনস্ট্রাকশন’ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। পেশাক শ্রমিকদের বেদনার গল্প বুনেছিলেন তিনি। তার ছবিটি প্রশংসিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠিত নারী পরিচালক নারগিস আকতার আটকে থাকা ‘পৌষ মাসের পিরিতি’ ছবিটি মুক্তি দিয়েছিলেন। খুব বেশি সিনেমা হলে তিনি ছবিটিকে নিয়ে যেতে পারেননি। সাহিত্যধর্মী ‘পৌষ মাসের পিরিতি’ কিছুটা হলেও ঢেউ তুলছে পেরেছিল নারী পরিচালকদের মিছিলে। মেহের আফরোজ শাওন তার প্রয়াত কথাসাহিত্যিক স্বামী হুমায়ূন আহমেদের গল্প থেকে নির্মাণ করেছিলেন ‘কৃষ্ণপক্ষ’। প্রথম ছবি থেকে তার অর্জন বিশাল কিছু না হলেও তিনি খানিক ধাক্কা দিতে পেরেছিলেন পুরুষপ্রধান চলচ্চিত্র শিল্পে। জেসমিন আকতার নদী যৌথভাবে পরিচালনা করেছিলেন ‘যদি তুমি জানতে’। এই পরিচালকের প্রাপ্তির খাতা ফুলে-ফেঁপে না উঠলেও দাগ রেখে যেতে পেরেছেন তিনিও।
২০১৭ সালেও চারজন নারী পরিচালক নিজেদের চিন্তাকে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন দর্শকদের ভেতর। কিন্তু এই নারী পরিচালক চতুষ্টয়ের কারো ছবিই বড় ক্যানভাসে মুক্তি পায়নি। সীমিত পরিসরে মুক্তি পাওয়ায় প্রচুরসংখ্যক দর্শকরা এই পরিচালকদের কাজ দেখার সুযোগ পাননি। তারপরও তারা অন্তত চিহ্ন রেখে যেতে সক্ষম হয়েছেন। তানিয়া আহমেদের অভিষেক হয়েছিল ‘ভালোবাসা এমনই হয়’ ছবিতে। কিছু তারকার দেখা মিলেছিল তার ছবিতে। মাহবুবা ইসলাম সুমী নির্মাণ করেছিলেন ‘তুমি রবে নীরবে’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প থেকে তার সাহিত্যধর্মী নির্মাণ ছিল ছবিটি। ‘গ্রাস’ নামে একটি ছবি নির্মাণ করেছিলেন মারিয়া তুষার। যদিও তার ছবিটি নাটক হিসেবে নির্মাণ করে সিনেমা হিসেবে মুক্তির অভিযোগ আছে। এই নতুনদের ভিড়ে সিনিয়র পরিচালক শামীম আখতারকে দেখা গিয়েছিল ‘রিনা ব্রাউন’কে নিয়ে উপস্থিত হতে। সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবিটি মাত্র একটি হলে মুক্তি পেয়েছিল।
২০১৬ এবং ২০১৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির মিছিলে নারী পরিচালকরা তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছিলেন। ‘আন্ডারকনস্ট্রাকশন’ ছাড়া আর কোনো ছবি আলোচনায় না আসতে পারলেও নারী পরিচালকরা তাদের অস্তিত্ব জানান দিতে পেরেছিলেন। ২০১৮ সালে নারী পরিচালকদের পদচিহ্নটুকুও পাওয়া যায়নি। মুক্তিপ্রাপ্ত ৪৮টি ছবির সবগুলোই পুরুষ পরিচালকদের হাতে তৈরি। ২০১৬ ও ২০১৭ সালে আমদানিকৃত ও যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ছবির মধ্যেও নারী পরিচালকের ছবি ছিল। ২০১৮ সালে এই ধারার ছবিতেও নারী পরিচালকের দেখা মেলেনি।
গত বছর পরিচালকের চেয়ারে নারীর দেখা না পাওয়া গেলেও প্রযোজকের চেয়ারে অন্তত দুজন নারীকে দেখা গিয়েছিল। প্রযোজকদ্বয় দুজনই অভিনেত্রী। ইয়ামিন হক ববি অভিনীত ও প্রযোজিত ‘বিজলী’ মুক্তি পেয়েছিল এপ্রিলে। পরিচালক ছিলেন ইফতেখার চৌধুরী। সায়েন্স ফিকশনধর্মী আধুনিক ছবিটির আয়োজন নজর কেড়েছিল দর্শকদের। নায়িকাপ্রধান গল্পের ‘বিজলী’ ছিল ববির শোডাউন। অন্যদিকে অক্টোবরে মুক্তি পেয়েছিল জয়া আহসান অভিনীত ও প্রযোজিত ‘দেবী’। পরিচালক ছিলেন অনম বিশ্বাস। সাহিত্যধর্মী এ ছবিটি ছিল বছরের সেরা সফল। নায়িকাপ্রধান গল্পের ‘দেবী’তে জয়া পেয়েছিলেন অভাবনীয় সাড়া। তাই ২০১৮ সালকে নারী প্রযোজকদের ঝাঁকুনি দেয়ার বছর বলতে কারোরই দ্বিধা ছিল না।
প্রযোজনায় আচমকা নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও পরিচালনায় নারীর অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় ছেদ পড়েছে। প্রায় দেড় বছর ধরে সিনেমা হলে নেই নারী পরিচালকের কোনো কাজ। চলতি বছরের নারী দিবস চলে গেছে গতকাল। কিন্তু নারী পরিচালকরা কোনো সুখবর যুক্ত করে দিবসটির আনন্দকে বাড়িয়ে দিতে পারেননি। তবে দুয়েকদিন আগের এক সংবাদে জানা গেছে, টিভির সফল নারী নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী শিগগিরই নামছেন চলচ্চিত্র পরিচালনায়। তার আগমন নারী পরিচালকদের মিছিলকে আর একধাপ এগিয়ে নেবে, এ কথা আগাম বলা যায়।