প্রথম ওয়ানডে আজ

আগের সংবাদ

কার হাসি কে হাসে

পরের সংবাদ

প্রথম নায়িকা

প্রকাশিত হয়েছে: মার্চ ২, ২০১৯ , ৩:৫৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: মার্চ ২, ২০১৯, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ

Avatar

কবরী। চলচ্চিত্রে মিষ্টি মেয়ে বলে যার পরিচিতি। ষাট ও সত্তর দশক ছিল তার পদতলে। লাখো তরুণের হৃদয় ছিল তার মুঠোয়। সোনালি যুগের শ্রেষ্ঠ ছবিগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কবরীর নাম। পুরস্কার ও প্রশংসার সঙ্গে জনপ্রিয়তাকে জুড়ে নিয়ে সারাদেশে তৈরি করেছেন ভক্তের মিছিল। অভিনয় থেকে দূরে সরে গেলেও কিংবদন্তি হয়ে মাথা উঁচু করে আছেন। সম্ভ্রম সহযোগে তার নাম উচ্চারণ করা হয় সংস্কৃতি জগতে।
কবরীর ক্যারিয়ার নানা অর্জনে সমৃদ্ধ। নতুন করে আর কোথাও পৌঁছানোর নেই তার। জনতার ভালোবাসা থেকে রাষ্ট্রীয় সম্মান, সবই তিনি আয়ত্ত করেছেন। তার সম্পর্কে দর্শকদেরও আর নতুন কিছু জানানোর নেই। পাঠ্যবইয়ের মতো তার জীবনকে পড়েছেন দেশের মানুষ। তার ব্যক্তিজীবন থেকে রাজনৈতিক জীবন, কোনো অধ্যায়েই নেই আঁধার।
তবু একটি স্থিরচিত্রের সূত্র ধরে আমরা জানব কবরীর অন্যরকম এক ‘অর্জন’ সম্পর্কে। কিছুদিন আগে এফডিসিতে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির অফিসে এসেছিলেন কবরী। একই সময় হাজির হয়েছিলেন দুই খ্যাতিমান অভিনেতা আলমগীর ও সোহেল রানা। চলচ্চিত্রের স্বর্ণসময়ের এই তিন তারকা ফ্রেমবন্দি হয়ে জন্ম দেন একটি মূল্যবান স্থিরচিত্রের। যা দেখে ফ্ল্যাশব্যাকের মতো সিনেমাওয়ালাদের মাথায় খেলে যায় একটি পুরনো তথ্য।
আলমগীর ও সোহেল রানা, এই দুই নায়কেরই প্রথম ছবির নায়িকা ছিলেন কবরী। ১৯৭৩ সালের ছবি আলমগীর কুমকুম পরিচালিত ‘আমার জন্মভ‚মি’। যুদ্ধের পটভ‚মিতে নির্মিত এ ছবির নায়ক ছিলেন রাজ্জাক। ছবিতে রাজ্জাকেরই প্রণয়ী ছিলেন কবরী। আলমগীর এক তরুণ অভিনেতা হিসেবে পাশে পেয়েছিলেন তখনকার প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী কবরীকে। পরবর্তী সময়ে কবরীর সঙ্গে বহু ছবিতে জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন।
‘মনেরই রঙে রাঙাবো সুরেরই ঘুম ভাঙাবো’, এই গানের ছবি মাসুদ পারভেজ পরিচালিত ‘মাসুদ রানা’। জনপ্রিয় গোয়েন্দা চরিত্র মাসুদ রানাকে নিয়ে প্রথম ছবি। ১৯৭৪ সালে সোহেল রানা প্রযোজক থেকে নায়ক বনে গিয়েছিলেন এ ছবিতে। সূচনা ছবিতে তিনি নিজের বিপরীতে নির্বাচন করেছিলেন দর্শকনন্দিত নায়িকা কবরীকে। আরো অনেক ছবিতে সোহেল রানা ও কবরীকে জুটি বেঁধে অভিনয় করতে দেখেছেন দর্শকরা।
দেশের দুই যশস্বী অভিনেতার প্রথম ছবির অভিনেত্রী কবরী, এটুকু জেনেই যারা অবাক হচ্ছেন, তাদের বিস্ময় জারি থাকুক আরো কিছুক্ষণ।
চিরসবুজ নায়ক জাফর ইকবালের অভিষেক হয়েছিলে মিষ্টি মেয়ের বিপরীতেই। খান আতার পরিকল্পনায় নির্মিত, বশীর হোসেন পরিচালিত ১৯৭০ সালের ছবি ‘আপন পর’-এ কবরীকে উদ্দেশ করেই জাফর গেয়েছিলেন- ‘পিঞ্জর খুলে দিয়েছি…’। সংখ্যায় কম হলেও এই দুজনকেও আমরা দেখেছি একসঙ্গে কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করতে।
সুভাষ দত্তের আবিষ্কার কবরী। ‘সুতরাং’ ছবিতে তিনি প্রথম কবরীকে তুলে দিয়েছিলেন দর্শকদের বিচারের জন্য। একইভাবে তিনি পথ দেখিয়েছিলেন উজ্জ্বলকেও। সুভাষ দত্ত নিজের নতুন আবিষ্কার উজ্জ্বলের বিপরীতে কাস্ট করেছিলেন নিজের পুরনো আবিষ্কার কবরীকে। গানের ছবি, প্রেমের ছবি ‘বিনিময়’ ১৯৭০ সালে মুক্তি পেয়ে হয়েছিল দর্শক সমাদৃত।
‘সুজনসখী’র কালজয়ী জুটি, ‘সারেং বউ’য়ের প্রশংসাধন্য জুটি কবরী-ফারুক। মুক্তিযুদ্ধের বছর ১৯৭১ সালে কবরীর বিপরীতেই অভিষেক হয়েছিল ফারুকের। পরিচালক আকবর কবির পিন্টুর প্রথম ছবি ‘জলছবি’তে ফারুক তার জীবনের নতুন অধ্যায়ে যাত্রা শুরু করেন। পলিটিক্স থেকে আসেন সিনেমার মাঠে।
এভাবেই কিছুদিন পর পর নতুন যে অভিনেতার সঙ্গেই পর্দায় ধরা দিয়েছেন কবরী, তাকেই দর্শকরা সাদরে গ্রহণ করেছেন। কবরীর ছবিতে অভিষিক্ত চার নায়কই হয়ে উঠেছেন কিংবদন্তি। সে দিন আলমগীর ও সোহেল রানার পাশে তাই কবরী দাঁড়াতেই এক ঝলক ইতিহাস ছলকে ওঠে সবার চোখের সামনে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা