প্রথম বিভাগ হ্যান্ডবলে চ্যাম্পিয়ন ফ্লেইম বয়েজ

আগের সংবাদ

নিমতলী থেকে চকবাজার এভাবে আর কতকাল?

পরের সংবাদ

ভারত-পাকিস্তান সংকট

শান্তিপূর্ণ সমাধান কাম্য

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯ , ৮:২৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯, ৮:২৬ অপরাহ্ণ

Avatar

দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছে গেছে। পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ভারতের বিরল বিমান হামলার পর উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। ভারতের হামলার পরদিনই পাকিস্তান পাল্টা জবাব দিয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হওয়া এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দক্ষিণ এশিয়ায়।

বাংলাদেশেও তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দক্ষিণ এশিয়ায় বিরাজমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ হবে বিশ্বসমাজের কাছে যদি এই সংকট যুদ্ধে রূপ নেয়।

আমরা মনে করি, বহু দিন ধরে জিইয়ে রাখা ভারত ও পাকিস্তানের সমস্যাগুলো এই আধুনিক যুগে যুদ্ধ দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। আলোচনার টেবিলে বসে এর সমাধান করা উচিত। ভূস্বর্গ হিসেবে পরিচিত কাশ্মিরকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসা ভারত ও পাকিস্তান এ অঞ্চলের একাংশ শাসন করে আসছে। মাঝের কাল্পনিক সীমারেখার নাম তারা দিয়েছে ‘লাইন অব কন্ট্রোল’ বা সীমান্তরেখা।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর মোট চারবার যুদ্ধে জড়িয়েছে বৈরী দুই প্রতিবেশী দেশ। এর মধ্যে তিনবারই তাদের লড়াই হয়েছে কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে। তবে ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম দুই দেশ আকাশযুদ্ধে জড়াল। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বাহিনীটির প্রায় অর্ধশত সদস্য প্রাণ হারায়। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে।

মঙ্গলবার ভারতীয় বিমানবাহিনী ১৯৭১-পরবর্তী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান হামলা চালানোর পর জানায়, ভেতরে সেই জইশ-ই-মোহাম্মদের ঘাঁটি ধ্বংসের উদ্দেশ্যেই তারা ওই ‘অসামরিক অভিযান’ পরিচালনা করেছে। এই হামলাকে ‘অসামরিক ও স্বতঃপ্রণোদিত’ দাবি করে ভারত জানায়, জঙ্গিদের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েই তারা পাকিস্তানি ভূখণ্ডে গিয়ে হামলা চালিয়েছে।

অন্যদিকে পাকিস্তানের দাবি, ভারতীয় বিমান প্রবেশের পর পাকিস্তানি বাহিনী তাদের পিছু হটতে বাধ্য করেছে। এ ছাড়া বুধবার তাদের আকাশসীমায় ভারতের দুটি যুদ্ধবিমান গুলি করে ভূপাতিত করা হয়। ভারতের দাবি, তারাও পাল্টা জবাব দিতে একটি পাকিস্তানি ফাইটার জেট ভূপাতিত করেছে।

যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মির ইস্যু নিয়ে প্রায় ৭০ বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। আমরা চাই এই উত্তেজনা কমে আসুক। এই উত্তেজনা কমাতে হবে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য।

অন্যথায় এই অঞ্চলের মধ্যে সহযোগিতা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন থেকে শুরু করে মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্প্রীতি নষ্টের আশঙ্কাসহ এক ধরনের নেতিবাচক ছায়া পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ছায়া পড়বে দক্ষিণ এশিয়ায়।

ইতোমধ্যে বিশ্বনেতাদের দুই পক্ষকেই অস্ত্র সংবরণ করে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের পক্ষে আমরাও এর প্রতিধ্বনি করতে চাই। আমরা দেখতে চাই, আলোচনার মধ্য দিয়েই সব বিরোধ নিষ্পত্তি হয়েছে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা