কাল কর্ণফুলী টানেল নির্মাণের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আগের সংবাদ

চকবাজারে অগ্নিদগ্ধদের রক্ত দেবে কোয়ান্টাম

পরের সংবাদ

শেষ সময়ে বাড়ছে জনসমাগম

শরীফা বুলবুল :

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯ , ২:১৭ অপরাহ্ণ

এখন প্রতিদিনই বইমেলাকে ঘিরে বাড়ছে জনসমাগম। তবে গতকাল শুক্রবারের চিত্রটি ছিল যেন আকাক্সক্ষার চেয়ে অনেক বেশি। মাসের শেষ সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় পাঠক ও দর্শনার্থীর ঢল ছিল লক্ষণীয়। তবে চকবাজারের শোক বইমেলাকে অনেকটাই ছুঁয়ে গেছে। বিকেল বেলায় মেলার দুই প্রাঙ্গণ বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ঘিরে বয়ে যায় জন স্রোতের প্লাবন। মেলায় পিপীলিকার মতো করে এগিয়ে চলেছে মানুষের সারি। সব মিলিয়ে যেন জনারণ্যে পরিণত হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলার ২২তম দিনটি। এদিন শিশু চত্বরও ছিল মুখরিত। এখানে তারা আনন্দ-উল্লাসে সময় কাটিয়েছে। এ চত্বরে শিশুদের জন্য আলাদা করে তৈরি করা হয়েছে আকর্ষণীয় গেট, যা দেখেই শিশুরা বুঝতে পারে এটা তাদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়াও এ চত্বরে রয়েছে শিশু সাহিত্যের প্রায় সবকটি স্টল। চত্বরের মঞ্চে নানা বয়সের শিশুরা একসঙ্গে খেলায় মেতে উঠেছে। হই-হুল্লোড় করে সময় পার করছে তারা।
দুপুরের পর পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাঠক ও দর্শনার্থীরা লাইন ধরে মেলায় প্রবেশ করছেন। আর মেলা প্রাঙ্গণটি রয়েছে পাঠক দর্শনার্থীতে কানায় কানায় পূর্ণ। কেউ কেউ স্টলে স্টলে ঘুরে নতুন বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ পছন্দের লেখকের বই কেনার পাশাপাশি নতুন
লেখকদের বইও দেখছেন। ধানমণ্ডি থেকে আসা ইমরান চৌধুরী তার সাত বছরের কন্যা জ্যোতিকে নিয়ে মেলায় এসেছেন। তিনি বলেন, এবছর মেলায় ঘুরে খুব ভালো লাগছে। প্রশস্ত জায়গা। বড়দের পাশাপাশি বইমেলার এই আয়োজনটি শিশুদের জন্যও খুব ভালো হয়েছে। তারা মনের আনন্দে ঘুরতে পারছে।
সিসিমপুরের স্টলে খেলায় মশগুল দ্বিতীয় শ্রেণি পড়–য়া আরিকের সঙ্গে কথা হলে সে জানায়, মেলায় বাবার সঙ্গে সিসিমপুরের বই কিনতে এসেছে। কিন্তু এত্তবড় মেলা! ঘুরতে ঘুরতে পা ব্যথা করছে। তাই এখানে এসে খেলছি।
এদিকে পাঠক সমাগম বাড়ায় অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করছেন স্টল ব্যবস্থাপকরা।
ঐতিহ্যের আমজাদ হাসান শিশির বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় বন্ধের দিন বিক্রি বাড়ে। আজ যেহেতু বিশেষ দিন, বিক্রি ভালোই হয়েছে।
অবসর প্রকাশনার ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বলেন, অন্যান্য বারের তুলনায় সকালে এবার লোকসংখ্যা কম থাকলেও সন্ধ্যা গড়াতে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। এ ছাড়াও গত রাতে চকবাজারের দুর্ঘটনার প্রভাব তো পড়েছেই।
মূলমঞ্চের আয়োজন : বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার শতবর্ষ : ফিরে দেখা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মাহবুবুল হক। আলোচনায় অংশ নেন সাইফুদ্দীন চৌধুরী, আলী হোসেন চৌধুরী এবং এম আবদুল আলীম। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী।
প্রাবন্ধিক বলেন, বাংলা সাহিত্য সাময়িকীর ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে শতবর্ষ আগে ১৯১৮ সালে প্রকাশিত বাঙালি মুসলমান সম্পাদিত দুটি সাহিত্য পত্রিকা। এর একটি হচ্ছে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও মোজাম্মেল হক সম্পাদিত বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা। সবশেষে বলব, এই সময়ের সাহিত্য সাময়িকীগুলো বিষয়-বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা সেই বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। তা ছাড়া বাংলার মুসলমান সম্প্রদায়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য, লোকায়ত জীবন ও লোকসংস্কৃতির উপাদান তুলে ধরাকে পত্রিকাটি অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছিল। সবেচেয় বড় কথা, ধর্মনির্ভর সাহিত্য-চর্চার প্রবল ধারার মধ্যে থেকে ধর্মনিরপেক্ষ সাহিত্যচর্চার একটা ধারা লক্ষ করা গিয়েছিল বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায়। শতবর্ষের সাধনায় সে ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে।
আলোচকরা বলেন, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা হয়ে উঠেছিল বাঙালি মুসলমানের বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রযাত্রার অন্যতম বাহন। নামে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা হলেও এ সাময়িকপত্রটি অসাম্প্রদায়িক মানববাদের চর্চা করেছে। বিশেষত এই পত্রিকায় প্রকাশিত রচনাসমূহ ইহজাগতিক মূল্যবোধ এবং সমাজের প্রগতিশীল বিকাশের চিন্তাকে ধারণা করেছে বিপুলভাবে।
সভাপতির বক্তব্যে আবুল আহসান চৌধুরী বলেন, বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকার শতবর্ষ প্রকৃতপক্ষেই এক উদযাপনীয় বিষয়। শতবর্ষ আগে বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার বাহন হিসেবে যে সাময়িকপত্র তিমিররাত্রি ভেদ করে উদার ভোরের বার্তা নিয়ে এসেছিল; সে পত্রিকা নিয়ে বাংলা একাডেমির বিশেষ আয়োজন ধন্যবাদের যোগ্য।
লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন আলমগীর রেজা চৌধুরী, মোস্তফা সেলিম, মোহাম্মদ সেলিম, সাধনা আহমেদ এবং খন্দকার স্বনন শাহরিয়ার।
কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি কুমার চক্রবর্তী, জাহানারা পারভীন, মুস্তাফিজ শফি, মাহবুব আজীজ, তুষার কান্তি দাশ, মাজুল হাসান, প্রত্যয় জসীম এবং আয়শা ঝর্ণা। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ফয়জুল আলম পাপ্পু এবং মো. মাহমুদুল হাকিম। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল লায়লা হাসানের পরিচালনায় নৃত্য সংগঠন ‘নটরাজ’; সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী’, নাঈম হাসান সুজার পরিচালনা নৃত্যসংগঠন ‘নৃত্যজন’ এবং ইমন চৌধুরীর পরিচালনায় নৃত্যসংগঠন ‘ফাল্গুনী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন সংস্থা’র শিল্পীদের পরিবেশনা।

বিষয়: