রোববার নোবিপ্রবির দ্বিতীয় সমাবর্তনে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

আগের সংবাদ

ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তার আহ্বান জিএম কাদেরের

পরের সংবাদ

বাংলা ভাষার বিকাশ ও আমাদের দায়বোধ

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯ , ৯:২৫ অপরাহ্ণ

দেশের সব ভাষাভাষীর মাতৃভাষা চর্চার অধিকার নিশ্চিত করার দায় আমাদেরই সর্বাগ্রে। উদ্বেগের বিষয় হলো, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেক নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা হারিয়ে যেতে বসলেও তা রক্ষায় তৎপরতা খুব গতিশীল নয়। আরো বেশি দুর্ভাগ্যজনক হলো, অভ্যন্তরীণভাবে সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার এখনো আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি।

সরকারি-বেসরকারি ওপর মহল থেকে হামেশা বলা হচ্ছে, বিশ্বায়নের যুগে আমাদের টিকে থাকতে হলে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, তথ্যপ্রবাহ, মুক্তবাজার অর্থনীতি ইত্যাদি কারণে ইংরেজি ভাষাজ্ঞান ও লিখন-কথনের দক্ষতা ছাড়া গত্যন্তর নেই। অতএব আমাদের ইংরেজি শিখতেই হবে।

পরিস্থিতি এমন যে, ইংরেজি বিদ্যা অর্জন করতে না পারলে কোনো শিক্ষা আর শিক্ষা হয় না, সব বিফলে যায়। এ মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। পাশাপাশি রোধ করতে হবে বাংলা ভাষার বিকৃতিও। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রভাষা থেকে শিক্ষার মাধ্যম এবং জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি ছিল সর্বজনীন।

যাকে সামনে নিয়ে আমরা এগিয়েছি অবিচল লক্ষ্যে, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার অর্জনে। কিন্তু বর্তমানে সর্বস্তরে বাংলা ব্যবহার দারুণভাবে উপেক্ষিত। এটা ঘোরতর অন্যায়। চীন, জাপান, কোরিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স প্রভৃতি রাষ্ট্র মাতৃভাষাকে কেন্দ্র করে আত্মনির্ভরশীল হতে পারলে আমরা কেন ইংরেজিনির্ভর থাকব! আমাদের মূল বাধা কোথায়? সেটা বের করা দরকার।

বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩ এবং বাংলা ভাষা প্রচলন আইন ১৯৮৭-এর ৩ ধারা অনুযায়ী দেশের সব সরকারি অফিস, আদালত, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু এসব বিষয় কেবল কাগজে-কলমেই পড়ে থাকে। এ কারণে আইন বাস্তবায়নের বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

এ ছাড়া বেতার ও টেলিভিশনে বাংলা ভাষার বিকৃত উচ্চারণ ও দূষণ রোধেও হাইকোর্টের একটি স্বপ্রণোদিত রুলসহ নির্দেশনা রয়েছে। এরপরও আশানুরূপ বাস্তবায়ন চোখে পড়ছে না। সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার এবং বাংলা ভাষার দূষণ রোধ করায় সরকারকে জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।

পাশাপাশি দেশপ্রেম, স্বজাতিপ্রীতি এবং সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটাতে হবে। এর জন্য আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এর প্রতিফলন ঘটাতে হবে। সর্বোপরি, ভাষা সৈনিকদের তালিকা প্রণয়ন, সব ক্ষেত্রে বাংলা ভাষার ব্যবহার এবং বাংলা ভাষার দূষণ রোধ করা সরকারকে জোরালো ভূমিকা নিতে হবে।

বাঙালি, বাংলা ভাষা, একুশের চেতনা, একাত্তরের স্বাধীনতা, দেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও সার্বভৌমত্ব এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রাষ্ট্রকেই নজরদারি করতে হবে।