বাংলা ভাষার এপার ওপার

আগের সংবাদ

আসামে বিষাক্ত মদ পানে নিহত বেড়ে ১০২

পরের সংবাদ

ডিভিডেন্ডের মৌসুমেও পুঁজিবাজার মন্দা

প্রকাশিত হয়েছে: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯ , ১০:২০ অপরাহ্ণ | আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯, ১০:২০ অপরাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক

ডিভিডেন্ডের মৌসুমেও পুঁজিবাজারে চলছে মন্দা। এ মন্দা পরিস্থিতে কমছে বেশীরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। দরপতনের কবল থেকে কিছুতেই যেন মুক্তি মিলছে না। এখন অবস্থাটা এমন হয়েছে যে, এক-পা এগোয় তো তিন পা পিছিয়ে যায় বাজার। অর্থাৎ সূচক একদিন বাড়ে তো কয়েক দিন কমে। যতটুকু সূচক বাড়ছে তার চেয়ে বেশি কমে যায়।

এমন পরিস্থিতিতে সাপ্তাহিক ব্যবধানে দেশের উভয় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সেচঞ্জে (সিএসই) সূচকের সামান্য পতন ঘটেছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেন হওয়া ৪ কার্যদিবসের মধ্যে দুই দিনই কমেছে সূচক। বাকি দুইদিন বাড়লেও এর মাত্র ছিলো সামান্য।

এদিকে সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। আর টাকার অংকেও গত সপ্তাহে লেনদেনের পরিমান কিছুটা কমেছে। আলোচিত সপ্তাহটিতে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৯১৩ কোটি ৪২ লাখ ২৫ হাজার ৬৩৮ টাকা।

এ প্রসঙ্গে একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লেনদেনের শুরুতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার ঝোক থাকলেও মাঝামাঝি সময়ে মুনাফাভোগী বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এর কারণে বাজারে সেল প্রেসার বেড়ে যায়। পরিণতিতে সূচকের পতন ঘটে।

তারা আরও বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরেই বাজারকে ঘীরে বিনিয়োগকারীদের আস্থা সংকট দেখা দিয়েছে। বাজারে তাদের অনাস্থার কারণেই টানা সূচকের পতন ঘটছে। এই পতন থেকে বেরিয়ে আসতে হলে বাজারে নতুন ইস্যুর দরকার বলে মনে করেন তারা।

যদিও গত সপ্তাহে ৪ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টাকার পরিমাণে লেনদেন সাড়ে ১১’শ কোটি টাকা বা ২৮ শতাংশ কমেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক খাতের খারাপ অবস্থার প্রভাব পড়েছে সার্বিক বাজার চিত্রে। বিশেষত ব্যাংক খাতের শেয়ারের দর কমায় সূচক কমছে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা হচ্ছেন বিভ্রান্ত।

কেননা উৎপাদন ও সেবা খাতের কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ মৌসুম আসতে আরও প্রায় ছয় মাস বাকি। ফলে এখনই এ ধরনের শেয়ারে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণ নেই। কিন্তু এসব খাতেই তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগ হচ্ছে। মূলত সামগ্রিক আর্থিক খাতগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীরা আস্থা নেই। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে অনেক কম এবং এর সঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীও সেভাবে আসছেন না বলেও মনে করছেন তারা।

এদিকে, সাপ্তাহিক বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪ পয়েন্ট বা ০.০৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৪৫ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বা ০.১১ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বা ০.১৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৩১১ ও ২০০২ পয়েন্টে। সপ্তাহজুড়ে ৩৪৯টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৯৪টির, কমেছে ২২৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৬টির শেয়ার ও ইউনিট দর। এগুলোর ওপর ভর করে গত সপ্তাহে লেনদেন মোট ২ হাজার ৯১৩ কোটি ৪২ লাখ ২৫ হাজার ৬৩৮ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহ থেকে ১ হাজার ১৬৪ কোটি ৮৫ লাখ ৫০ হাজার ২৬৫ টাকা বা ২৮.৫৬ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪ হাজার ৭৮ কোটি ৩০ লাখ ৮৪ হাজার ৯০৩ টাকার।

আর বিদায়ী সপ্তাহে ৪ কার্যদিবসে গড় লেনদেন হয়েছে ৭২৮ কোটি ৩৫ লাখ ৫৬ হাজার ৪০৯ টাকা। আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছিল ৮১৫ কোটি ৬৬ লাখ ১৭ হাজার ১৮০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে গড় লেনদেন ৮৭ কোটি ৩০ লাখ ৬০ হাজার ৭৭১ টাকা কম হয়েছে।

অন্যদিকে, বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭ পয়েন্ট বা ০.০৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৮৫ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসসিএক্স ৮ পয়েন্ট বা ০.০৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৬৪২ পয়েন্টে। তবে সিএসই-৩০, সিএসই-৫০ ও সিএসআই ৫৫ পয়েন্ট বা ০.৩৫ শতাংশ, ৩ পয়েন্ট বা ০.২৪ শতাংশ ও ২ পয়েন্ট বা ০.১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১৫ হাজার ৩১১, ১ হাজার ২৭৬ ও ১ হাজার ১৫৯ পয়েন্টে।

আর বিদায়ী সপ্তাহে সিএসইতে মোট ৩০১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের হাত বদল হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮২টির, দর কমেছে ২০০টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১৯টির। এগুলোর ওপর ভর করে সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ১০৬ কোটি ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৯১৮ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১৩৯ কোটি ৭২ লাখ ৯২ হাজার ২৭৮ টাকার। এ হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন ৩৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮ হাজার ৩৬০ টাকা বা ২৪ শতাশ কমেছে।